× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পর্যবেক্ষণ

রাজনীতিতে ‘ভজঘট’-এর আভাস

মহিউদ্দিন খান মোহন

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৩০ এএম

রাজনীতিতে ‘ভজঘট’-এর আভাস

বাংলা ভাষায় ‘ভজঘট’ শব্দটি তেমন প্রচলিত নয়। শব্দটি প্রথম শুনি প্রখ্যাত নাট্যকার ও পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘এখনই সময়’ সিনেমায়। তারই নাটক ‘সেনাপতি’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল সিনেমাটি। ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি দর্শক-প্রশংসিত হয়েছিল। ছবিতে একটি চরিত্র ছিল আব্বাস আলী তালুকদার, সে ছিল এক শিল্পপতির (আরিফুল হক) একান্ত সচিব। চরিত্রটির রূপায়ণ করেছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। নানা কূটকৌশল প্রয়োগ করে আব্বাস আলী তালুকদার শিল্পপতি ও কারখানা শ্রমিকদের মধ্যে গন্ডগোল বাঁধিয়ে দেয়। শ্রমিকরা যখন এ নিয়ে আব্বাস আলী তালুকদারের মুখোমুখি হয়, তখন কোনো কিছু না জানার ভান করে সে বিস্ময় প্রকাশ করলে তরুণ শ্রমিক টেলি সামাদ বলেÑ ‘তয় যে হুনলাম, বেবাক ভজঘট আপনে লাগাইছেন?’ আবদুল্লাহ আমল মামুন ভ্রুকুঞ্চিত করে বলেন, ‘এই ভজঘট শব্দটির মানে কী? টেলি সামাদ জবাব দেন, ‘মানে মালিক সবই মাইনা নিছিল। আপনিই প্যাঁচ লাগাইছেন।’ এই প্যাঁচ লাগানো, মানে ঝামেলা সৃষ্টি করার প্রতিশব্দই ভজঘট। ভজঘট শব্দটির আভিধানিক অর্থ ঝামেলা, ব্যাঘাত, গোলযোগ ইত্যাদি। অনেক সময় ফ্যাসাদ বোঝাতেও ভজঘট শব্দটি ব্যবহার হয়ে থাকে। 

ভজঘটের মতোই আরেকটি শব্দ ‘গ্যাঞ্জাম’। এটাও এক সময় অপ্রচলিত শব্দ ছিল। এর ব্যাপক প্রচলন শুরু হয় একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত কথিকা চরমপত্রে এম আখতার মুকুল এ শব্দ ব্যবহার করেন। তারপর থেকে মুখে মুখে তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। গ্যাঞ্জাম শব্দটির আভিধানিক অর্থ বা প্রতিশব্দ ঝগড়া-বিবাদ বা গোলমাল। আবার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বোঝাতেও গ্যাঞ্জাম শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। শব্দটি মূলত ব্যবহার হয়ে থাকে পরিকল্পিতভাবে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যখন গোলমাল বাঁধানো বোঝাতে। 

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেকেই ভজঘট অবস্থার সৃষ্টি বা গ্যাঞ্জাম লাগার আশঙ্কা করছেন। এ আশঙ্কার কারণ রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত জুলাই সনদ গ্রহণ অর্থাৎ রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক তাতে স্বাক্ষর দান, এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং আগামী নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, তা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক। গত ১৭ অক্টোবর মহাসমারোহে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত হয়েছে বহুল আলোচিত-সমালোচিত জুলাই সনদ। যে ৩০টি রাজনৈতিক দল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে অংশ নিয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে ২৫টি দল ওই দলিলটিতে সই করেছে। পাঁচটি দল বিরত থেকেছে। ফলে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের যে সুর বেজে উঠেছিল, তাতে ছন্দপতন ঘটেছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, এই জুলাই সনদের দাবিতে যারা ছিল সবচেয়ে সোচ্চার, সেই এনসিপি দলিলে সই করেনি। ফলে এই সনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে এক ধরনের ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। তবে অনেকেই মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত এনসিপিও সনদে স্বাক্ষর করবে। এজন্য প্রয়োজন হবে পর্দার অন্তরালে একটু রিহার্সেলের। প্রধান উপদেষ্টার স্নেহে তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে ‘বিশেষ’ আশ্বাস দিলেই তারা সুবোধ বালকের মতো সই করে দেবে।

এদিকে জুলাই সনদ স্বাক্ষর-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। আগে জামায়াত-এনসিপি ছিল হরিহরআত্মা। এখন তা অনেকটাই সাপে-নেউলে পর্যায়ে চলে গেছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের ধারণা করছিল হস্তীতুল্য দল হিসেবে। আর তা করতে পেরেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, তথা নবগঠিত এনসিপির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে। আওয়ামী লীগশূন্য রাজনৈতিক ময়দানে তারা বিএনপিকে কোণঠাসা করতে এনসিপিকে ব্যবহার করে হাতিয়ার হিসেবে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাহীন এনসিপির তরুণ সংগঠকরা জামায়াতের সে কূটকৌশল ধরতে পারেনি। কেননা, তখন তারা ‘বিপ্লব’ সফল করার আত্মশ্লাঘায় এতটাই বিভোর ছিল যে, বাস্তবতা একেবারেই বিস্মৃত হয়েছিল। তাই জামায়াতের প্ররোচনায় বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তারা। কিন্তু জামায়াত যখন এনসিপিকে ফেলে রেখে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করল, তখন তাদের মোহ ভাঙল। জামায়াতের এহেন পল্টিবাজিতে হতাশ ও ক্ষুব্ধ এনসিপি নেতারা তাই কিছুদিন আগের মুরব্বিদের অভিহিত করে বসল বেইমান-বিশ্বাসঘাতক হিসেবে। শুধু তাই নয়, দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলে দিলেন, জামায়াতের পিআর দাবি স্রেফ রাজনৈতিক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। সংগত কারণেই জামায়াত এনসিপির এই কটূক্তিকে হজম করেছে অনেকটা কুইনাইন গেলার মতো। অবশ্য জামায়াত মৃদু উষ্মা প্রকাশ করে এনসিপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছে, সংযত হয়ে কথা বলতে। এমনকি জামায়াতের এক নেতা এনসিপিকে ‘জামায়াতের সন্তান’ বানিয়ে ফেলেছেন। বলেছেন, জন্ম নিয়েই পিতার সঙ্গে পাল্লা দিতে এসো না। এনসিপি জামায়াতের সন্তান কি না কেউ জানে না। তবে মিয়া গোলাম পরওয়ারের কথার পর বুঝতে কারও বাকি থাকেনি, এনসিপির জন্ম এবং এতদিনের নর্তনকুর্দনের পেছনে জামায়াতের প্রত্যক্ষ মদদ ছিল।

অপরদিকে এনসিপির মাথায় প্রধান উপদেষ্টা স্নেহাদ্র্য হাত এখন আর আগের মতো নেই, এটা বোঝা যাচ্ছে। ক্ষমতা হাতে পেয়ে যাদের তিনি নিজের ‘নিয়োগদাতা’ বলে অভিহিত করেছিলেন, তাদের বাদ দিয়ে তার জুলাই সনদে স্বাক্ষরের মহোৎসব উদযাপন অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। স্মতর্ব্য যে, কয়েক মাস আগে প্রধান উপদেষ্টা এই এনসিপি সংগঠকদের কাছেই নিজের পদত্যাগের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন। এখন সে এনসিপি তার কাছ থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছে। এতটা কাছের ছেলেদের কেন জুলাই সনদ স্বাক্ষরে তিনি রাজি করাতে পারলেন না, সে এক রহস্যময় ব্যাপার।

এরই মধ্যে গত ২১ অক্টোবর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল দেখা করেছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। তারা একটি অর্থবহ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আযোজনের জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘এই মুহূর্ত থেকে’ ‘তত্ত্বাবধায়ক’ সরকারের ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছে। এজন্য সর্বপ্রথম প্রশাসনকে পুরোপুরিভাবে নিরপেক্ষ করতে বলেছে বিএনপি। পাশাপাশি কয়েকজন উপদেষ্টাকে অপসারণেরও দাবি জানিয়েছে দলটি। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করার জন্য যা প্রয়োজন তা করা হবে বলে প্রধান উপদেষ্টা বিএনপিকে আশ্বস্ত করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের যাবতীয় রদবদল সরাসরি তার তত্ত্বাবধানে হবে।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে বিএনপি হঠাৎ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বানানোর দাবি জানাল কেন, বোঝা গেল না। তাহলে কি তাদের কাছে অনুভূত হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে না? তারা কি এ সন্দেহও করছে যে, এই সরকার যদি তার দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ না বদলায়, তাহলে তাদের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না? সম্ভবত তাই। না হলে হঠাৎ করে অন্তর্বর্তী সরকারকে কসমেটিক সার্জারির মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে রূপান্তরের দাবি কেন? প্রকৃতপক্ষে অন্তর্বর্তী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যে শুধুমাত্র নামের পার্থক্য ছাড়া গুণগত কোনো পার্থক্য থাকার কথা নয়। তবে ড. ইউনূসের সরকার যে তার নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী চরিত্র অনেক আগেই হারিয়েছে, দেশের সচেতন জনগোষ্ঠীর কাছে তা অস্পষ্ট থাকেনি। বিশেষত নবগঠিত রাজনৈতিক সংগঠন এনসিপির প্রতি তাদের পক্ষপাতিত্ব এবং জামায়াতের প্রতি দুর্বলতা দৃষ্টিকটুভাবেই প্রতীয়মান। পর্যবেক্ষকদের অনেকে এর আগে বলেছেন, বিভিন্ন কারণে ইউনূস সরকার এতটাই বিতর্কিত হয়ে পড়েছে যে, তাদের অধীনে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অবিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না। এজন্য রাজনীতি-অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা পুরনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতিস্থাপনকে জরুরি মনে করছেন। তেমন উপলব্ধি থেকেই হয়তো বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে রূপান্তরের দাবি জানিয়ে থাকবে। তবে অনেকেই বলছেন, খোলনলচে না পাল্টে শুধু নামের পরিবর্তন করলে তা হবে ‘থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়।’

এদিকে বিএনপির সাক্ষাতের পরদিন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী। এনসিপি প্রধান উপদেষ্টার কাছে কয়েকজন উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। প্রধান উপদেষ্টা এনসিপি সংগঠকদের জুলাই সনদে স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়ে তাদের দাবিসমূহ পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। প্রায় একই ধরনের অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামীও। প্রধান উপদেষ্টার কাছে তারা কয়েকজন উপদেষ্টা ও প্রশাসনের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছে, কয়েকজন উপদেষ্টা বিশেষ একটি দলের দিকে ঝুঁকে রয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের ৭০-৮০ ভাগ ওই দলটির দখলে চলে গেছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দলের প্রতি অনুগত এই কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি দাবি জানিয়েছে। ‘বিশেষ দল’ বলতে জামায়াত যে বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করেছে, তা না বললেও চলে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের রাজনীতিতে সৃষ্ট লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আলামত ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে; যা যেকোনো সময়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার উদগ্র বাসনা এবং তা থেকে সৃষ্ট পারস্পরিক অবিশ্বাস ও অনাস্থার কারণেই এ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির উদ্ভব। এর ফলে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জাতীয় ঐক্য আশা ক্রমশ দুরাশায় পরিণত হচ্ছে। যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য গঠিত হয়েছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, দীর্ঘ বৈঠক, আলাপ-আলোচনার পর প্রণীত হয়েছে ‘জুলাই সনদ’, তাতে স্বাক্ষর করাকে কেন্দ্র করে সে ঐক্যে ফাটল ধরেছে। এ ফাটল সহজে মেরামত করা সম্ভব হবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।


মহিউদ্দিন খান মোহন

সাংবাদিক ও কলাম লেখক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা