× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পোশাক খাত

সমন্বিত উদ্যোগই পারে অস্থিরতা দূর করতে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:৪২ এএম

সমন্বিত উদ্যোগই পারে অস্থিরতা দূর করতে

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিমুখী শিল্প খাত পোশাকশিল্প। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকে এই খাতটিতে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে কতিপয় শিল্পমালিকের সম্পর্ক, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, অর্থনৈতিক দুর্নীতি-অনিয়মই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এ কারণে খাতটিতে শ্রমিক অসন্তোষ, মজুরি নিয়ে দ্বন্দ্ব, কাজের অর্ডার না থাকা এবং সাম্প্রতিক সময়ে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলো ঘটে চলছে।

জানা গেছে, গত ১৫ মাসে দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পেছনে এই অস্থিরতাই কাজ করেছে। পোশাকশিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে এই ধরনের অস্থিরতা কাম্য নয়। এই অস্থিরতা শুধু শিল্পমালিকদের নয়, হাজারো শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ও দেশের রপ্তানি আয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। আমরা মনে করি, এই অস্থিরতা মোকাবিলায় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ করা, কারখানার পরিবেশ উন্নত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। 

চট্টগ্রামকে বলা হয়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল এবং রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। জানা গেছে, গত এক বছরে স্থায়ী এবং অস্থায়ীভাবে বহু কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। অনেকগুলো আংশিক উৎপাদনে চলছে। কারখানা বন্ধের কারণে ইতোমধ্যে কর্মহীন হয়েছেন অন্তত ৫১ হাজার শ্রমিক। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর আটটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্যাসিফিক গ্রুপ। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক। একই সময়ে অগ্নিকাণ্ডে পুরো কারখানা জ্বলে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েন অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেডের প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক। ২৩ অক্টোবর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘চট্টগ্রামে পোশাক খাতে অস্থিরতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন বলছে, গত বছরের আগস্ট থেকে এই পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৭০টি কারখানায় ৩৫০টি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। বেশিরভাগ ঘটনা ঘটেছে বকেয়া বেতন-ভাতা আদায়ের দাবিতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা না দিয়ে কারখানা বন্ধ বা লে-অফ ঘোষণার কারণেই অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের আওতাধীন আরএমজি এবং নন-আরএমজি মিলে মোট ১ হাজার ৭২০টি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় ৬ লাখ ১৩ হাজার ২৯০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে আরএমজি ৫৭০টি পোশাককারখানায় কাজ করেন ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮২ জন শ্রমিক। তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে এই পর্যন্ত চট্টগ্রামে স্থায়ী এবং অস্থায়ী মিলে মোট ১১৭টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এসব কারখানায় ৫১ হাজার ৬৭০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। এর মধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে ৫০টি কারখানা, যেখানে ৮ হাজার ৭৪৩ জন শ্রমিক কাজ করতেন। বাকি ৬৭টি কারখানা অস্থায়ী হিসেবে বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানায় ৪২ হাজার ৯২৭ জন শ্রমিক কাজ করতেন। এই ব্যাপারে বিজিএমইএ প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেছেন, আমাদের দেশে ‘কস্ট অব ডুয়িং’ এবং ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। তাই পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ফলে লোকসান এড়াতেই মূলত মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, পোশাক খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে কস্ট অব ডুয়িং বিজনেসে জোর দিতে হবে। 

এ কথা সত্য যে, শ্রমিক অসন্তোষ এই অস্থিরতাকে আরও তীব্র করেছে। ন্যায্য মজুরি, ওভারটাইমের বকেয়া এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ না থাকায় শ্রমিক ধর্মঘট, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক সময় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শিতা ও যোগাযোগ ঘাটতির কারণে এসব সমস্যা বড় আকার ধারণ করে। এর প্রভাব পড়ে উৎপাদনে, রপ্তানির সময়সূচিতে, এমনকি দেশের ভাবমূর্তিতেও। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের ধীরগতি ও কাস্টমস জটিলতাও এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। পণ্য লোড-আনলোডে বিলম্ব, ট্রান্সপোর্টে জট এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাÑ সব মিলিয়ে একটি চেইন রি-অ্যাকশন তৈরি হচ্ছে, যার শেষ পরিণতি হচ্ছে শিল্পে স্থবিরতা।

আমরা মনে করি, অস্থির পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে সরকার ও শিল্পমালিকদের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রথমত, শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও মজুরি কাঠামো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রপ্তানি প্রক্রিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে শিল্পাঞ্চলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।

মনে রাখতে হবে, চট্টগ্রামের পোশাক খাত শুধু একটি শিল্প নয়Ñ এটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। এই অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে জাতীয় রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনÑ সবকিছুই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখনই সময়, এই সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের পথে এগোনোর। আমরা মনে করি, পোশাক খাত সচল থাকলেই বাংলাদেশের অর্থনীতি টিকে থাকবে দৃঢ়ভাবে। তাই এই ধরনের অস্থিরতার কারণে আর কোনো কারখানা যাতে বন্ধ না হয়, সেজন্য সরকারকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করিÑ সরকার, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে পোশাক খাতের অস্থিরতা দূর করতে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা