এইচএসসির ফলাফল
ড. মিহির কুমার রায়, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ১২:০০ পিএম
সম্প্রতি এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। ৯টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গত বছরের চেয়ে যা ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ কম। এই পরীক্ষায় গত বছর পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এর আগে ২০০৪ সালে এইচএসসিতে পাস করেছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। এরপর এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার আর কখনও এর চেয়ে নিচে নামেনি। সেই হিসাবে ২০ বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সবচেয়ে কম।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, মূলত তিনটি কারণে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে। প্রথমত, এবার পরীক্ষার্থীরা রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে কলেজে ক্লাস কম পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান ও আইসিটিতে পাসের হার ছিল তুলনামূলক কম। তৃতীয়ত, উত্তরপত্র মূল্যায়নে ‘কড়াকড়ি’ ও গ্রাম-শহরের ফলাফলেও ব্যাপক তারতম্য। এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফেল বা অকৃতকার্য হয়েছে পাঁচ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলেদের সংখ্যা বেশি। মোট ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন, ফেল করেছে ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এবার মোট ছাত্র ছিল ৬ লাখ ১১ হাজার ৪৪৬ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৪ জন। এ ছাড়া ৬ লাখ ২৪ হাজার ২১৫ জন ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই দশকের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সবচেয়ে কম পাসের হার হয়েছে। ২০০৫ সালে এই পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ। এরপর থেকে প্রায় প্রতিবছরই পাসের হার সামান্য কমবেশি হয়েছে। ২১ বছর পর শিক্ষার্থীদের ফলাফলে এক প্রকার ধস নেমেছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার হয়েছে ৫৮ দশমিক ৮৩, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ কম। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ স্কোর গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ (জিপিএ-৫) পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯ হাজার ৯৭ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৩৭ হাজার ৪৪ এবং ছাত্র ৩২ হাজার ৫৩ জন। সেই হিসেবে এবার জিপিএ-৫ কম পেয়েছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন। ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার বিজ্ঞান বিভাগে গড় পাসের হার ৭৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। কিন্তু বাণিজ্য বিভাগে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং মানবিকে পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশ।
মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে বেশি খারাপ করেছে বলে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে। এবার মেয়েদের পাসের হার ৬২ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ছেলেদের ৫৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়াদের মধ্যেও এগিয়ে মেয়েরা। এই পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মোট ৬৯ হাজার ৯৭ জনের মধ্যে ছাত্রী ৩৭ হাজার ৪৪ এবং ছাত্র ৩২ হাজার ৫৩ জন। এ বছর দেশের ২০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৫টি। আর কমেছে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। এবার মোট ৩৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল
১ হাজার ৩৮৮টি। জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে। বিশেষ করে, ইংরেজিতে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। শুধু দিনাজপুর বোর্ডের ৩৫ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী এ বিষয়ে ফেল করেছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, এ দুটি বিষয়ই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতির সবচেয়ে বড় সূচক হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া উচ্চতর গণিত পরীক্ষায়ও বিজ্ঞান বিভাগের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এ ছাড়া গ্রাম ও শহরাঞ্চলে ফলের পার্থক্যও এবার অনেক বেড়েছে। শহুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কিছু নামকরা কলেজে পাসের হার ৮০ শতাংশের ওপরে থাকলেও গ্রামীণ কলেজগুলোর অনেক জায়গায় তা ৪০ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে।
বোর্ডভিত্তিক পাসের হারে দেখা যায় যে, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর সবচেয়ে কম পাস করেছে কুমিল্লা বোর্ডে, ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে ঢাকা এবং পিছিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, সিলেটে ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ পাস করছে। ফল খারাপের কারণ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, ইংরেজিতে শিক্ষার্থীরা বরাবরই খারাপ করে। হিসাববিজ্ঞানও কঠিন বিষয়। এসব বিষয়ে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভালো শিক্ষক নেই। এ ছাড়া আরও অনেক সংকট রয়েছে, যেমন ‘শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার ব্যাপারে অনেকটাই বিমুখ। তারা অনেকটাই পড়ার টেবিল থেকে দূরে ছিল, এই ফল নিয়ে আমাদের চর্চা করতে হবে। শিক্ষার্থীদেরও বসতে হবে। আমরাও শিক্ষক ছিলাম দেখেছি। প্রতিটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটা নিয়ে বসতে হবে, শিক্ষা বোর্ডগুলোকে বসতে হবে। আমাদের যতটুকু এখতিয়ার আছে দেখব। শতভাগ ফেল করেছে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদেরও মোটিভেট করব।’ এবারের ফলাফলই প্রকৃত চিত্র বলে মনে করেন শিক্ষা উপদেষ্টা।
এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষাঙ্গন ও অভিভাবকদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- জিপিএ-৫ কি সত্যিই গুণগত শিক্ষার প্রতিফলন? নাকি কেবল সংখ্যার খেল । এর ওপরে উল্লিখিত পরিসংখ্যানগুলোই বলে দিচ্ছে, শুধু জিপিএ-৫ গনার মাধ্যমে শিক্ষার মান বিচার করা বাস্তবতাকে বিকৃত করে। প্রশ্নের মান, মূল্যায়নের সমতা, শিক্ষকের দক্ষতা, স্কুলভিত্তিক প্রস্তুতি ও অঞ্চলভেদে সুযোগের বৈষম্যÑ সবকিছুরই প্রভাব স্পষ্টভাবে পড়েছে এবারের ফলে। নটর ডেম কলেজের ইংরেজি সংস্করণের জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী, মনে করেন ‘গ্রেস মার্কস সঠিকভাবে দেওয়া হলে, একই নির্দেশনা অনুসারে সব খাতা মূল্যায়ন করা হলে এবং ইংরেজি সংস্করণের খাতা ইংরেজিতে দক্ষ শিক্ষকেরা মূল্যায়ন করলে ফলাফল আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারত। তার মন্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে অভিন্ন মানদণ্ড ও দক্ষ পরীক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, যা আজকের শিক্ষাব্যবস্থার বড় ঘাটতি। জিপিএ-৫ নিঃসন্দেহে পরীক্ষায় সাফল্যের একটি প্রতীক, কিন্তু ‘গুণগত শিক্ষা’ নয়। কারণ গুণগত শিক্ষার আসল মানে হলো চিন্তা, বিশ্লেষণ, সমস্যা সমাধান, সৃজনশীলতা, গবেষণামূলক দৃষ্টিভঙ্গি, ভাষা ও সংখ্যাজ্ঞান, দলগত কাজ ও নৈতিকতা। আমাদের বর্তমান মূল্যায়ন পদ্ধতি এখনও মুখস্থনির্ভর ও প্রশ্নকেন্দ্রিক। ফলে প্রশ্নের মান বা মূল্যায়নের নীতিতে সামান্য পরিবর্তন এলেই জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দুলে ওঠে। এবারের ফলাফল তাই একদিকে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বাস্তবতায় ফেরার ইঙ্গিত দিলেও অন্যদিকে এটি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাসে আঘাত করেছে। অনেক পরিবারে মানসিক চাপ বেড়েছে এবং নিম্ন-সুবিধাপ্রাপ্ত অঞ্চলে শেখার ফাঁক আরও গভীর হয়েছে।
তাই অভিভাবকদের প্রশ্ন যুক্তিযুক্তÑ এই বিপুলসংখ্যক অকৃতকার্য শিক্ষার্থী কি উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে? নাকি এ ফলাফল আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে গঠন করার একটি সুযোগ এনে দিচ্ছে? এ পরিবর্তনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের প্রভাবই আছে। নেতিবাচক দিকে দুর্বল স্কুল ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষক সংকট, কোচিং নির্ভরতা, ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা, আর্থ-সামাজিক বৈষম্যÑ সব মিলিয়ে এই গোষ্ঠীতে অকৃতকার্যতার হার বেশি। আবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় যদি জিপিএ কাট-অফ অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে অনেক যোগ্য শিক্ষার্থীও বাদ পড়বে। ইতিবাচক দিকে জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার অর্থ ‘গ্রেড ইনফ্লেশনে’র লাগাম টানা। এতে মেধা বাছাই তুলনামূলক নিরপেক্ষ হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন জিপিএর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষা, রচনা, প্রজেক্ট, পোর্টফোলিও ও সাক্ষাৎকারের ওপর জোর দিতে পারবে। একই সঙ্গে বোর্ডভিত্তিক পার্থক্য কমাতে প্রয়োজন লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা, দুর্বল স্কুলের জন্য ফাউন্ডেশন কোর্স, ডায়াগনস্টিক টেস্ট, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও রিমেডিয়েশন প্রোগ্রাম। প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে কোন অংশে শিক্ষার্থীরা বেশি হোঁচট খাচ্ছে তা নির্ধারণ করা জরুরি। কারণ পরীক্ষার মান ও বোর্ডভিত্তিক সমতা বজায় না থাকলে শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম অনেক সময় বিফল হয়ে যায়। ২০২৫ সালের ফলাফল আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক মাননিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী না হলে জাতীয় শিক্ষার মান কখনোই স্থিতিশীল হবে না। অভিভাবকদের দৃষ্টিকোণ থেকে এখন প্রয়োজন তিনটি জরুরি পদক্ষেপÑ মূল্যায়ন সংস্কার, স্কুলকেন্দ্রিক রিমেডিয়েশন, ভর্তি নীতির বহুমাত্রিকতা ইত্যাদি।
তাই বলা চলে, শিক্ষা কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষার সিদ্ধান্তদাতা ও নীতিনির্ধারকদের জন্য মূল বার্তা একটি প্রশ্নÑ সামগ্রিকভাবে শিক্ষা খাত ও বিশেষত, জীবনের ভিত্তিমূলক বিদ্যালয় শিক্ষা আর কতদিন অবহেলিত থাকবে? প্রচলিত রাজনৈতিক প্রভাব বিরহিত বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাসের হার বাড়িয়ে শিক্ষার উন্নতির বয়ান তৈরি করার প্রয়োজন মনে করেনি। প্রত্যাশিত সাধারণ নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক সরকার গতানুগতিক শিক্ষার উন্নয়নের বয়ান তৈরির খেলায় নিমগ্ন হবে না। আমরা কি সে আশা করতে পারি? দ্বিতীয় বার্তাটি, যে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল দেখিয়েছে তাদের জন্য। তারা অভিনন্দের দাবিদার। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কৃতিত্বের কারণ বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান বা পরিবেশের চেয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের উদ্যম ও অধ্যাবসায়। আর আছে পরিবারের ত্যাগ ও নিষ্ঠা। কন্যা শিক্ষার্থীরা পাসের হার ও জিপিএ ৫-এ ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে। মেয়েদের একাগ্রতা, নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে নিবন্ধ থাকা এবং সেই উদ্দেশ্যে দৃঢ় অঙ্গীকার ছেলেদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়।
প্রতিভাধর শিক্ষার্থীরা আরও সফল হোক নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে এবং দেশে ও সমাজের জন্য তাদের অবদানে। বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী, যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি বা আশানুরূপ ভালো ফল করেনি তাদের জন্য বার্তাÑ তারা অনেকাংশে আমাদের ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থার ও বহুমাত্রিক সামাজিক বৈষম্যের শিকার। তাদের হাল না ছেড়ে আবারও চেষ্টা করতে হবে। ব্যর্থতার কারণগুলো চিহ্নিত করে এগুলোকে জয় করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আনুষ্ঠানিক উচ্চতর শিক্ষাই জীবনের সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি নয়। প্রত্যেকে নিজের অন্তর্নিহিত শক্তি ও আগ্রহের ক্ষেত্র আবিষ্কার করার ভবিষ্যতের পথ তৈরিতে সচেষ্ট হতে হবে।