× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্বাস্থ্য খাত

চিকিৎসকরাই একসময় জীবাণুতত্ত্বকে স্বীকার করেননি

ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ, প্রফেসর, ফার্মেসি বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৪১ এএম

চিকিৎসকরাই একসময় জীবাণুতত্ত্বকে স্বীকার করেননি

গত ১৫ অক্টোবর বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত হলো। হাত ধোয়ার বিচিত্র ইতিহাস সম্পর্কে আজকের প্রবন্ধে আলোচনা করব। বেশ কিছুদিন আগে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় কেভিন স্যাকের ‘সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ পড়ছিলাম। প্রবন্ধে সংক্রামক রোগের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংক্রামক রোগের মুখ্য বাহক মানুষ। প্রতিবছর ২০০ কোটিরও বেশি মানুষ বিমান ভ্রমণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করে। ফলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক এক প্রতিবেদনে বলেছিলেন, অভাবনীয় দ্রুতগতিতে প্রতিবছর গড়ে একটি করে নতুন রোগের আবির্ভাব ঘটছে। গত ৪০ বছরে বিশ্বে মোট ৪০টি নতুন সংক্রামক রোগ দেখা দিয়েছে। এসব সংক্রামক রোগের কারণে বিশ্বের ১৫০ কোটি মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। 

সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ ছিল করোনা সংক্রমণ, যার কারণে বিশ্বে কোটি লোকের মৃত্যু হয়। সংক্রামক রোগের আবির্ভাব ও বিস্তার রোধ মানবসভ্যতা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ এক শহর থেকে অন্য শহর, এক দেশ থেকে অন্য দেশ বা এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে ভ্রমণ করছে। রোগের বাহক হিসেবে মানুষের এই ভ্রমণের ফলে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। সাধারণত হাসপাতালগুলোতেই সংক্রামক রোগের উৎপত্তি ও বিস্তার ঘটে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে প্রতিবছর এ ধরনের সংক্রামক রোগ প্রতিকারে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। তারপরও সংক্রামক রোগের জন্য দায়ী ভয়ংকর সব জীবাণুর উৎপত্তি ও বিস্তার রোধ করা সম্ভবপর হচ্ছে না। সংক্রামক রোগের মূল কারণ জীবাণু। বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকর জীবাণুর কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ও মৃত্যুবরণ করছে। তা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা দীর্ঘ সময় ধরে জীবাণুতত্ত্বকে অস্বীকার করে যান। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে চিকিৎসাজগতে নতুন নতুন কার্যকর ওষুধ আবিষ্কার হওয়ার সুবাদে শতসহস্র কোটি মানুষকে অসংখ্য প্রাণঘাতী রোগ-বিমারি থেকে একদিকে যেমন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে, তেমনি চিকিৎসকদের অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়া মতবাদ, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থতা বা অপারগতা, অশিক্ষা-কুশিক্ষা, প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস, অ্যাডভেঞ্চারিজম বা দুঃসাহসিকতা ও দুর্নীতির কারণে যুগ যুগ ধরে সংঘটিত অসংখ্য মানবিক বিপর্যয়ের কারণে জীবন দিতে হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে। এমন মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে অন্যতম হলো, চিকিৎসক কর্তৃক জীবাণুতত্ত্ব অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান।

অণুসম জীবকে অণুজীব বা জীবাণু বলা হয়। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোনো জীব, যা খালি চোখে দেখা যায় না, তার ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টির ক্ষমতাকে গলাধঃকরণ করা সহজসাধ্য ব্যাপার ছিল না। এমনকি বিউবোনিক প্লেগকে সংক্রামক রোগ হিসেবে যিনি আবিষ্কার করেছিলেন, সেই ফ্যাকাস্টোকে পর্যন্ত নিদারুণভাবে অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করা হয়েছিল।জীবাণুতত্ত্বের জন্ম ১৬৭০ সালে, যখন ডাচ গবেষক অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহোয়েক একটি সাদামাটা মাইক্রোস্কোপ বা অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন। তিনি তার অণুবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা রক্তকণিকা, শুক্রাণু শনাক্তকরণ ছাড়াও প্রায় সর্বত্রই জীবাণুর উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। তিনি খালের পানি, কাদা, পায়ের তালুসহ অসংখ্য স্থান থেকে জীবাণুর উপস্থিতি খুঁজে পান। দুর্ভাগ্যক্রমে তার এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারকে ১৮৩০ সাল পর্যন্ত অগ্রাহ্য করা হয়। ১৮৩০ সালের পর থেকে কিছু বিজ্ঞানী অণুবীক্ষণ যন্ত্রকে বিজ্ঞানসম্মত যন্ত্র হিসেবে স্বীকার করে নিতে শুরু করেন। তখন সনাতনী ধারণার বশবর্তী হয়ে অনেকেই ভাবতেন,আদিকালের এসব অণুবীক্ষণ যন্ত্র এত আধুনিক ও প্রযুক্তিগতভাবে এত উন্নত ছিল না, যার ওপর আস্থা রাখা যায়। কিন্তু ডেভিড উট্টন নামের এক বিজ্ঞানী সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখতে পান, লিউয়েনহোয়েকের অণুবীক্ষণ যন্ত্র অত্যাধুনিক ও উন্নতমানের ছিল, তবে তা অনেকের জন্যই ব্যবহারোপযোগী ছিল না। 

উট্টন জীবাণুতত্ত্বের অগ্রহণযোগ্যতাকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতার কারণ বলে নয়, চিকিৎসকদের পেশাগত বিরোধিতার কারণ বলেই দোষারোপ করেন। চিকিৎসক ও দার্শনিক জন লক প্রচার করতেন, সৃষ্টিকর্তা আমাদের বোধশক্তিকে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে সৃষ্টি করেছেন। তার অর্থ হলো, আমাদের শত্রু যদি সত্যিকার অর্থে এত ক্ষুদ্র হয়, তাহলে সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই আমাদের তা কোনোকিছুর সাহায্য ছাড়াই দেখার সামর্থ্য বা যোগ্যতা দিতেন। ডেভিড উট্টন বলেন, চিকিৎসকরা তাদের চিন্তা-চেতনার সংস্কারের কোনো যুক্তি খুঁজে পেতেন না। কারণ তারা ওই সময় বিশ্বাস করতেনÑ চিকিৎসকরা যা করছেন, যেভাবে করছেন তাতে কোনো খুঁত নেই এবং তাদের কর্তব্যকর্মে কোনো সীমাবদ্ধতাও নেই।

ইতোমধ্যে ১৭০৭ সালে অন্য একটি অনবদ্য আবিষ্কারের কথা আমরা জানতে পারি। এক ফরাসি বিজ্ঞানী দেখাতে সক্ষম হন যেকোনো পানি ফুটিয়ে সিল করে রাখলে তাতে কোনো জীবাণু জন্মায় না। ১৫০ বছর ধরে এই পদ্ধতিকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত এর সত্যতা প্রমাণিত হয়। ১৮৬৫ সালে সার্জন বা শল্যচিকিৎসক জোসেফ লিস্টার প্রথমবারের মতো সার্জারিতে অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করেন। এর ফলাফল ছিল অভাবনীয়। অ্যান্টিসেপটিক (যা জীবাণু রোধ করে) ব্যবহার করার ফলে সার্জারির মাধ্যমে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে ফেলার পর রোগীর মৃত্যু হার ৪৫ থেকে ১৫ শতাংশে নেমে আসে। চিকিৎসাশাস্ত্রে এই প্রথমবারের মতো রোগী সার্জারির পর আরোগ্য লাভের একটি গ্রহণযোগ্য সুযোগ পেল।কিন্তু লিস্টারকে জীবাণু ছাড়াও আরও একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, অদৃশ্য জীবাণু শরীরের ক্ষয়সাধন করে এবং এসব জীবাণু সর্বত্র বিরাজ করে। তার প্রতিপক্ষের অনুসারীরা বলতেন, ক্ষয় হলো একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া আর ক্ষয় বা পচনপদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো জীবাণু। সংক্রমণ প্রতিহত করার জন্য আমাদের জানা দরকার এসব জীবাণু কোত্থেকে আসে। যে কোনোকিছুই যদি জীবাণুর উৎস হয়, তবে এর বিরুদ্ধে কারও কিছু করার নেই।

১৮৭২ সাল পর্যন্ত জীবাণুতত্ত্ব আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যায় শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও। এ সময় পেনিসিলিয়াম গ্লাউকাম লিস্টারের একটি জলীয় জীবাণু কালচারের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। ১৮৮৪ সালে লিস্টার পেনিসিলিয়াম দিয়ে একজন রোগীর চিকিৎসা করেন এবং তার ক্ষতস্থান সারিয়ে তোলেন। উট্টন বর্ণনা করেন, পেনিসিলিয়াম বাজারজাত ও বিপণন করার জন্য লিস্টারের অর্থবিত্ত বা মানসিক শক্তি ছিল না। কারণ অ্যান্টিসেপটিক সার্জারি তত্ত্বের স্বীকৃতি লাভ করতে তাকে তখনও প্রচণ্ড বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। উট্টনের মতে, ওই সময়কার বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে অ্যান্টিসেপটিক সার্জারি শত বছর আগেই শুরু করা অত্যন্ত যৌক্তিক ছিল। কিন্তু পেশাজীবী চিকিৎসকদের কারণেই তা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি।

১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করলেও, তা বাজারজাত ও ব্যবহার শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর চল্লিশের দশকের শুরুতে। ১৯৪২ সাল থেকে ৫০ বা ৬০ বছর আগে যদি অ্যান্টিবায়োটিকের প্রচলন হতো, তবে তার কারণে বিশ্বব্যাপী কত লাখো কোটি মানুষ উপকৃত হতো, তা অনুমান করা আমাদের চিন্তাশক্তির বাইরে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সংক্রামক রোগের কারণে হতাহত মানুষের অসহায় মৃত্যুর কথা চিন্তা করলে অ্যান্টিবায়োটিকের অবদানের কথা আমরা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করি।

জীবাণুতত্ত্বের বিরোধিতা চলতেই থাকল। ১৮৪৬ সালে ইনগাজ জেম্মেল ভাইস নামের এক তরুণ চিকিৎসক এক হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ড পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পান, ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া প্রায় প্রত্যেকটি রোগী ‘চাইল্ডবেডফিভার’ নামের এক প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত। তার বদ্ধমূল ধারণা হলো, যেসব মা সন্তান প্রসবের পর ওয়ার্ডে আসেন, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা নয়। ঘটনাচক্রে একই হাসপাতালে একজন অধ্যাপক ময়নাতদন্ত পরিচালনকালে দৈবচক্রে তার আঙুল কেটে ফেলেন। সেই অধ্যাপক চিকিৎসক পরে মারা যান। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, প্রসূতি ওয়ার্ডে হতভাগ্য মায়েরা যে রোগে আক্রান্ত হচ্ছিলেন, সেই অধ্যাপকের মধ্যেও একই উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়। জেম্মেল ভাইস ধারণা করেন, যেসব ছাত্রছাত্রী ময়নাতদন্তে জড়িত ছিলেন, তারাই প্রসূতি ওয়ার্ডে মহিলাদের মধ্যে কোনো না কোনোভাবে জ্বরের কারণটি ছড়াচ্ছিলেন। জেম্মেল ভাইস তার ছাত্রছাত্রীদের সন্তান প্রসবের কাজে অংশ নেওয়ার আগে অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে হাত ধোয়ার বিধান চালু করেন। এতে মাতৃমৃত্যুর হার ৯০ শতাংশ কমে গেল। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অনেক ভালো কাজই আনপানিশড যায় না। ড. জেম্মেল ভাইসের ক্ষেত্রেও তাই ঘটল। তার হাত ধোয়ার তত্ত্ব ও প্রকাশনা চিকিৎসক পেশাজীবীরা ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। ড. জেম্মেল ভাইসের তত্ত্ব তদানীন্তন সময়ে প্রচলিত ধ্যানধারণা ও চিকিৎসকদের ভাবমূর্তির সঙ্গে প্রচণ্ড সাংঘর্ষিক হয়ে গেল। জীবাণু সম্পর্কে অজ্ঞতা ও গোঁড়া মতবাদের কারণে চিকিৎসকরা হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন। 

১৮৬০ সালে এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটে গেল।এক খ্যাতনামা চিকিৎসক এলেন ড. জেম্মেল ভাইসের হাত ধোয়ার তত্ত্বকে নিন্দা জানিয়ে বক্তৃতা দিতে। বক্তৃতা শুরু হলো। হঠাৎ করে একজন ভদ্রলোক এসে তাকে থামিয়ে দিয়ে শ্রোতাদের উদ্দেশে বললেন, ‘আমি চাইল্ডবেড ফিভারের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াটি আবিষ্কার করেছি।এই ভদ্রলোক কে, জানেন? তিনি হলেন ফ্রান্সের বিশ্ববিখ্যাত রসায়নবিদ ও জীবাণুবিদ লুই পাস্তুর। তার পরের সব ঘটনা ইতিহাস। পাঠকদের একটি তথ্য দিয়ে রাখি। হাত না ধোয়ার কারণে এখনও পৃথিবীর বিভিন্ন হাসপাতালে মেথিসিলিন রেজিস্টেন্ট স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস এবং অন্যান্য রেজিস্টেন্ট সুপারবাগের উৎপত্তি ও বিস্তার ঘটছে এবং লাখ লাখ রোগী মারা যাচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে চাইল্ডবেড ফিভার এক ভয়ংকর রোগ হিসেবে পরিচিতি ছিল। চাইল্ডবেড ফিভারের মূল কারণ হলো, সন্তান প্রসবকালে দূষিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের অস্বাস্থ্যকর ও দূষিত হাত দ্বারা মহিলাদের জননাঙ্গ সংক্রমিত করা। সন্তান প্রসবের পর মহিলাদের জননেন্দ্রিয়ের বিস্তৃত অংশ অনাবৃত থাকে বলে জীবাণু সংক্রমণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সংক্রমণের তীব্রতা নির্ভর করে জীবাণুর ক্ষতিকারক প্রভাবের ওপর।

যে জীবাণু ও জীবাণুতত্ত্বকে শত বছর ধরে অস্বীকার করে আসা হয়েছে, সেই জীবাণুই আজ মানবসভ্যতাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।এসব প্রাণঘাতী জীবাণু প্রতিরোধ ও প্রতিকারে প্রতিনিয়তই আমরা নিত্যনতুন অসংখ্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি। যে হাতধোয়া তত্ত্বকে চালু করার জন্য ড. জেম্মেল ভাইস জীবন দিয়েছেন, সেই হাত ধোয়ার বিধান আমরা এখন সাদরে গ্রহণ করেছি। বিশ্বব্যাপী হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে সার্জারি, সন্তান প্রসব ও রোগী ব্যবস্থাপনায় অ্যান্টিসেপটিক ও হাত ধোয়ার বিধান বাধ্যতামূলক। শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রের কথাই বা বলি কেন, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বারবার হাত ধোয়ার প্র্যাকটিস চালু করলে আমরা বহু জীবাণু ও সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা পেতে পারি। আমরা ড. জেম্মেল ভাইসের হাত ধোয়ার তত্ত্বকে সম্মান করলে তার আত্মা শান্তি পাবে, আমরাও ভালো থাকব, সুস্থ থাকব। ভালো থাকা ও সুস্থ থাকার চেয়ে বড় নিয়ামত এই পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা