× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফিলিস্তিন সংকট

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির ভূমিকা

ড. মো. মোরশেদুল আলম, অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৪৫ এএম

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির ভূমিকা

১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন অঞ্চল দখল করে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর যে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, আজও তা কার্যত শেষ হয়নি। এরপর গত সাত দশকে ফিলিস্তিনের ৯৫ শতাংশ এলাকা দখল করেছে জায়ানবাদী রাষ্ট্রটি। বর্তমান ফিলিস্তিন বলতে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরকে বোঝানো হয়। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ইসরায়েল গাজায় হামলা চালাচ্ছে। এরপর লেবাননেও সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় গাজার বড় অংশই বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের বর্তমান সরকার ও সেনাবাহিনী সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইউরোপীয়দের সমর্থন ও প্রকাশ্য মদদে যা করছে, তার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক, লন্ডন, বার্লিনের মতো নগরীসহ বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষ ইসরায়েলিদের এই গণহত্যা বন্ধ করার জন্য চাপ দিয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব লীগ কিংবা ওআইসির গুরুত্ব ও কার্যকারিতা সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর বলে মনে হচ্ছে। 

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের আধিপত্যের কারণে চলমান এই সংঘাত এখন সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্প (ইউএনডিপি) প্রদত্ত তথ্যানুসারে, যুদ্ধে গাজার ধ্বংস হওয়া বাড়িগুলোর ধ্বংসাবশেষ সরাতেই ১৫ বছর তথা ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। যুদ্ধনীতির অংশ হিসেবেই ইসরায়েল এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে থাকে, যা ‘দাহিয়া ডকট্রিন’ হিসেবে পরিচিত। ইসরায়েল এই কুখ্যাত যুদ্ধনীতি লেবাননেও প্রয়োগ করেছিল। ইতোমধ্যে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং দেশটির রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে ইসরায়েল। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এবং লেবাননে ইসরায়েলি যুদ্ধাপরাধ মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইসরায়েল বারবার মধ্যপ্রাচ্যে ত্রাসের সঞ্চার করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলি আগ্রাসন রোধে ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসংঘ বহুবারই ইসরায়েলকে ‘যুদ্ধ অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের নিকট মাথা নত করেছে আন্তর্জাতিক এই সংগঠনটি। পশ্চিম এশিয়াতে চলমান এই অশান্তির দুর্ভাগ্যজনক শিকার ফিলিস্তিনের আরব অধিবাসীরা। নিজ বাসভূম থেকে তাদের বলপূর্বক উচ্ছেদ করে ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা আন্তর্জাতিক অনুমোদন পেয়েছিল। ফিলিস্তিনের শরণার্থীদের ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাভাবনা করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী। বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরের ওপর ইসরায়েলে বিধ্বংসী আক্রমণের সময় নীরব দর্শকের ভূমিকায় থেকেছে বিশ্বের বৃহৎ শক্তিবর্গ। তার ওপর মাঝেমধ্যেই আরব রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থপর আচরণ ও তাদের মধ্যকার অনৈক্য ফিলিস্তিনের সংকট আরও জটিল করে তুলছে। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের মাত্রা ও গভীরতা অনেক বেশি। অনেকটা এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই পশ্চিমা তাত্ত্বিকরা বিশেষ করে হানটিংটন তার বিখ্যাত তত্ত্ব ‘সভ্যতার দ্বন্দ্ব’ উপস্থাপন করেছিলেন। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ হয়েছিল। যদিও যুদ্ধে আরব রাষ্ট্রগুলো হেরে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে চুক্তি করে কোনো কোনো আরব রাষ্ট্র বিশেষ করে মিসর তার হারানো জমি ফিরে পেলেও, এখনও মূল সমস্যা তথা স্বাধীন একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হয়নি।

ইহুদিদের ফিলিস্তিন আগ্রাসনের শুরুটা হয়েছিল ঊনবিংশ শতকের শেষার্ধ থেকে। মূলত এই সময়টাতেই ইউরোপে অ্যান্টি-সেমিটিজম তথা ইহুদিবিদ্বেষ দানা বাঁধতে শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইহুদিরা নিজেদের জন্য একটি রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে শুরু করে। প্রায় সহস্র বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ইহুদিরা বিতাড়িত ও ক্ষেত্রবিশেষে নির্যাতিত হলেও অ্যান্টি-সেমিটিজমের উত্থানের যুগে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের কোনো অধিকার ছিল না। কিন্তু নেপোলিয়ানের ভ্রষ্ট ও আগ্রাসী নীতির অনুসারী ব্রিটিশদের সহায়তায় ইহুদিরা দ্রুতই ফিলিস্তিনে উপনিবেশ স্থাপন শুরু করে। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ইহুদিদের সহায়তার মূল কারণ ছিল উসমানি খিলাফতের অধীনে থাকা ভূখণ্ডের ভাগবাটোয়ারা সম্পন্ন করার সময় মিসরকে নিরস্ত্র রাখা। ১৯৩৩ সালে হিটলারের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ইহুদিরা পরিকল্পিতভাবে উপনিবেশের কাজ চালিয়ে গিয়েছিল। ১৯৩২-১৯৪৫ সালের মধ্যে ইহুদিদের বসতি স্থাপনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেনের পরিবর্তে পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আবির্ভাব ঘটে। বেলফোর ঘোষণা, পরবর্তী সময়ে জাতিপুঞ্জে এর অনুমোদন এবং মধ্যপ্রাচ্য-সংক্রান্ত অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ আরব ও ইহুদিবাদীÑ এই দুই জাতীয়তাবাদের মধ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূত্রপাত হয়। ফিলিস্তিন সংকটের মূলে ছিল ইসরায়েল রাষ্ট্রের সৃষ্টি এবং সমান্তরালভাবে ফিলিস্তিন সমস্যার যৌক্তিক সমাধান না করে ব্রিটেনের পলায়নপর মনোবৃত্তি। 

ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় মূল সমস্যা ছিল তিনটি। প্রথমত, ইহুদিদের চিন্তা-চেতনা ও প্যালেস্টাইনে তাদের আলিয়া বা দলীয় অভিবাসন; দ্বিতীয়ত, ব্যালফোর ঘোষণা; এবং তৃতীয়য়ত, প্যালেস্টাইনি আরবদের বিপরীতে তাদের সংঘবদ্ধতা ও ব্রিটিশ সমঝোতার প্রয়াসকে অগ্রাহ্য করে স্বাধীনতার ঘোষণা।

১৯৮০ সালে আইন করে পূর্ব ও পশ্চিম জেরুজালেমকে ইসরায়েল রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তো বটেই, খোদ জাতিসংঘও এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা জ্ঞাপন করেছিল। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্তের (সিদ্ধান্ত নং ৪৭৮, ১৯৮০) পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। ইসরায়েল কিন্তু কখনোই জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত মানেনি। একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ধীরে ধীরে জেরুজালেমকে পুরোপুরি গ্রাস করতে চেয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে তারা সফলও হয়েছিল। এর মাধ্যমে জেরুজালেম নিয়ে যে ‘স্ট্যাটাস কো’ ছিল, তা স্পষ্টই লঙ্ঘিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, আরব ও মুসলিম বিশ্ব, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেউই ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেনি। আরব রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে নমনীয় মনোভাাব পোষণ করলেও ইসরায়েল কখনও তার একগুঁয়ে মনোভাব পরিত্যাগ করেনি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৪২ ও ৩০৮ নং প্রস্তাব অনুযায়ী, ইসরায়েল অধিকৃত আরব এলাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তা পরিষদের সেই সিদ্ধান্ত ইসরায়েল কখনও কার্যকর করেনি। 

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব সত্যটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। ১. স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণ, ২. জেরুজালেমের ভবিষ্যৎ এবং ৩. উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিদের নিজ বাসভূমে ফিরিয়ে আসা। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম শাসনামলে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে দিয়েছেন। 

দীর্ঘসময় ধরে চলমান ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নিরসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তই ছিল দুই পক্ষের জন্য আলাদা দুটি দেশ। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে এবং একসময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক ছিল এমন কয়েকটি প্রভাবশালী মুসলিম দেশ এখন ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি করেছে। আবার অসলো শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী আমেরিকা সব সময় দ্বি-রাষ্ট্র তত্ত্বের কথা বললেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে আনার পর ওই তত্ত্বের অপমৃত্যু হয়েছে বলে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন। 

বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভূ-কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানকার সমস্যাও প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, ফিলিস্তিন সংকটকে বর্তমানে জটিলভাবে দেখা হচ্ছে। জেরুজালেম মুসলিম, ইহুদি এবং খ্রিস্টানÑ এই তিন ধর্মের মানুষের নিকট পবিত্র ভূমি হিসেবে বিবেচিত। তাই এখানকার সংঘাত কেবল রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ নয়, এটি ধর্মযুদ্ধও বটে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও জাতীয়তাবাদ অবধারিতভাবে জড়িয়ে গেছে। 

১৯৪৮ সালে অবৈধভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে শান্তি তিরোহিত হয়েছে। ইরান, সৌদি আরব, মিসর, জর্ডান, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতারসহ বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে আরব প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে। এতে ইন্ধন জুগিয়ে যাচ্ছিল ইসরায়েল এবং তাকে সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা ও সামরিকভাবে মদদ দিয়ে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরব, ইরান, আরব আমিরাত এমনকি রাশিয়াও জ্বালানি সরবরাহের ব্যাপারে এখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এই পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এই অবস্থায় চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে নতুন পর্যায়ে সমঝোতা এবং সম্পর্ক স্থাপন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা ছাড়া তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের ফলপ্রসূ কূটনৈতিক পদক্ষেপের কারণে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে সৌদি আরব, ইরান, মিসর, জর্দান ও আমিরাতের মতো পরস্পরবিরোধী আরব রাষ্ট্রগুলো। 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ফিলিস্তিন সংকটের মূল কারণ খুঁজে বের করে তার সমাধানসহ ইসরায়েলি আগ্রাসনের অবসানে সত্যিকারের প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। ইসরায়েল যাতে সকল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন এবং জাতিসংঘ রেজুলেশন ২৩৩৪ (২০১৬)সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জাতিসংঘ রেজুলেশন প্রতিপালন করতে সম্মত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। ফিলিস্তিন প্রশ্নে জাতিসংঘে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চলমান থাকার অর্থ হচ্ছে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার একটি অনুস্বাক্ষর। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে তার ন্যায্য স্থান প্রদানসহ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যার একটি ন্যায়সংগত, দীর্ঘস্থায়ী, ব্যাপকভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিতে কাজ করার জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে। জাতিসংঘের এবারের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল গাজা-ইসরায়েল-লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু। গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে গত এক বছরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। গাজা-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ গত এক বছরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফিলিস্তিনিদের পক্ষে হুতি বিদ্রোহীদের ছায়া যুদ্ধে প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাণিজ্যে। সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের মহাসচিবকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানালেও অ্যান্তনি গুতেরেসের আলোচনা সীমাবদ্ধ সংকটেই। 

ফিলিস্তিন সমস্যা একটি জটিল ও বহুমাত্রিক সংকট, যা বছরের পর বছর ধরে বৈশ্বিক রাজনীতি এবং মানবাধিকার ইস্যুর কেন্দ্রে অবস্থান করছে। ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ফিলিস্তিনিদের দ্বন্দ্বের ফলে সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক ও মানবিক সংকট আজও সমাধানের অপেক্ষায়। ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী কর্তৃক বাড়িঘর ও অবকাঠামো ভেঙে ফেলা, দখল, বহিষ্কার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং ফিলিস্তিনিদের রক্তপাত ঘটানোর কারণে ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে পরিস্থিতি অবনতির দিকেই যাচ্ছে। ইসরায়েলের এমন কর্মকাণ্ড জাতিসংঘ রেজল্যুশন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের প্রতি সুস্পষ্ট অবজ্ঞা প্রদর্শন। ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী দ্বি-জাতি সমাধান কাঠামোর আওতায় পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, কার্যকর ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সংগত অধিকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমর্থন দিতে হবে। ফিলিস্তিনের বর্তমান যে বাস্তবতা তা শুধু আরব কিংবা মুসলমানদের জন্যই নয়; বরং সমগ্র মানবজাতির জন্যই শঙ্কা ও উদ্বেগের। তাই দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই ও স্থায়ী শান্তি আনতে পারে। জাতিসংঘসহ সকল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং সম্প্রদায়ের সকলকে এর যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। ফিলিস্তিনি আরবদের পূর্বনির্ধারিত কিংবা জাতিসংঘ স্বীকৃত স্থানে পৃথক রাষ্ট্র গঠনে ইসরায়েলকে সম্মত হতে হবে। এজন্য বিশ্বসম্প্রদায়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তি, ওআইসি, আরব লীগ ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে সম্মিলিতভাবে প্রয়োজনে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা