× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বেগুনের দাম

পকেট কাটা যাচ্ছে শহুরে ক্রেতার

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:১২ এএম

পকেট কাটা যাচ্ছে শহুরে ক্রেতার

রাজধানীতে সবজির দাম কিছুতেই কমছে না। কয়েকদিন যাবৎ বেশিরভাগ সবজির দামই ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে। আবার কোনোটির দাম সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর, বেগুনের বাজার যেন ভোক্তাদের সামনে ‘গরম তেলেভাজা’, যা ইতোমধ্যে ডাবল সেঞ্চুরি স্পর্শ করেছে। গত সপ্তাহে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া বেগুন এখন ২০০ টাকায়! এই দাম বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক। এমন একসময় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে, যখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। একের পর এক দাম বাড়তে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তশ্রেণি চরম চাপের মুখে পড়েছে। বেগুনের মতো সাধারণ সবজির দাম ২০০ টাকা স্পর্শ করা মানে বাজার নিয়ন্ত্রণের একধরনের ব্যর্থতা এবং অস্বচ্ছ বাণিজ্যিক চক্রের সক্রিয়তার বিষয়টিই উঠে আসে। ফলে এবার ফলন ভালো হলেও এই সক্রিয়তাই সবজির দাম বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। ফলে পকেট কাটা যাচ্ছে শহুরে ক্রেতার।

বেগুন এমন একটি পণ্য, যা আমাদের দেশে সারা বছরই উৎপাদিত হয়। দামের ক্ষেত্রে মৌসুমি ওঠানামা থাকলেও এত বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। সরবরাহে ঘাটতি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি এবং বাজার তদারকির দুর্বলতা মূল কারণ বলছেন অনেকেই। অথচ উৎপাদক কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। মধ্যস্বত্বভোগী তথা সিন্ডিকেটই অতিরিক্ত মুনাফা করছে। বাজারের এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে নেই সরকারের। ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি রুখতে নিষ্ক্রিয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। ফলে উৎপাদক এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারের মধ্যে দামের পার্থক্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতার ওপর সরাসরি এর প্রভাব পড়ছে।

১৭ অক্টোবর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘বেগুনের দাম ২০০ ছোঁয়ার পথে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানা যায়, রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতিটি সবজিতেই কোনো-না কোনোভাবে দাম বেড়েছে। বলা হচ্ছে, গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে বৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে কমেছে সবজির সরবরাহ। তাদের দাবি, সরবরাহ সংকটেই দু-একটি সবজির দাম গিয়ে ঠেকেছে ২০০ টাকা পর্যন্ত। সব মিলিয়ে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। বাজার বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহন ব্যয়, পাইকারি পর্যায়ের ঘাটতি এবং মৌসুমি কারণেই সবজির দাম বেড়েছে। তারা বলছেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মনিটরিং বাড়ালে এই অস্থিরতা কমানো সম্ভব।

এ কথা স্বীকার করতেই হবে, সরকারের বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম বর্তমানে অনেকটাই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা নিজের মতো করে দাম নির্ধারণ করছে। ফলে একদিকে কৃষক পাচ্ছেন না ন্যায্য দাম, অন্যদিকে ভোক্তাকে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত মূল্য। এই দ্বৈত বিপর্যয়ের ফলে বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। কঠোর প্রশাসনিক তদারকি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই সংকটটি দূর করা জরুরি। বিশেষ করে, প্রতিদিনের বাজার তথ্য সংগ্রহ, পাইকারি ও খুচরা দামের পার্থক্য বিশ্লেষণ, অযৌক্তিক মজুদ ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এসবকে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এবং পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি সক্রিয় মনিটরিং সেল গঠন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে কৃষক পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় কমানো, পরিবহন খরচ নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে সরাসরি কৃষকের বিক্রির সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু তাই নয়, আধুনিক হাটব্যবস্থা ও ডিজিটাল বাজার সংযোগের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল হতে পারে।

মনে রাখতে হবে, সবজির দাম শুধু অর্থনৈতিক বিষয়ই নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও জড়িত। প্রতিদিনের বাজারে ক্রেতার মুখে যদি শুধু অসন্তোষ, ক্ষোভ আর হাহাকার শোনা যায় তবে সেটি কোনোভাবেই দেশের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক চিত্র নয়। তাই সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাজারে সিন্ডিকেট ও মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহ চেইন স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমে। পাশাপাশি প্রতিদিনের বাজার মনিটরিং জোরদার ও দাম নির্ধারণে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন সহায়তা, সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা ও টিসিবির মাধ্যমে বিকল্প বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সর্বোপরি, প্রশাসনিক তদারকি ও দায়বদ্ধতা বাড়াতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বজায় থাকে। না হলে বেগুনের পর অন্যান্য সবজির দামও নাগালের বাইরে চলে যাবে, যার ভার বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকেই। আশা করি, শুধু বেগুনই নয়, সকল সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা