× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চিকিৎসা

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতন হোন

ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র, পরিবেশবিষয়ক কলাম লেখক

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ১১:১০ এএম

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতন হোন

অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার করা হয় মূলত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ থেকে বাঁচতে। জীবাণুর বিরুদ্ধে যে ওষুধ কার্যকর তাই অ্যান্টিবায়োটিক। সহজ কথায় জীবাণুকে মেরে ফেলার জন্য যে ওষুধ ব্যবহার করা হয় তাই অ্যান্টিবায়োটিক। সাধারণত কান, চোখ, গলা, ফুসফুস, ত্বক, গ্যাস্ট্রোইনটেসটাইনাল নালি, মূত্র নালি এসবের সংক্রমণ হলে এটি ব্যবহার করা হয়। অ্যান্টিবায়োটিক এক ধরনের ওষুধ, যা জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। কিন্তু এর ভুল প্রয়োগ বা অতিরিক্ত প্রয়োগ বা অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের কারণে ক্ষতিও বয়ে আনতে পারে। যেমন যে সমস্ত জীবাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ওই সমস্ত জীবাণুই অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে। এতে করে জীবাণুরা সামান্য সংক্রমণ করলেই তা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এক পর্যায়ে দেখা যায় যে, অনেক শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকও আর কাজ করে না। 

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে যে শুধু ক্ষতিকর জীবাণু মারা যাবে তা নয়, এরা উপকারী ব্যাকটেরিয়াকেও মেরে ফেলতে পারে। উপকারী ব্যাকটেরিয়া আমাদের হজমে অনেক সহায়তা করে। উপকারী ব্যাকটেরিয়া মারা গেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। তা ছাড়া ডায়রিয়া, ছত্রাকের সংক্রমণ ইত্যাদিও বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। যেমনÑ এতে বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, অ্যালার্জি, চামড়ার ফুসকুড়ি ইত্যাদি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে কিডনি ও লিভারের ওপর চাপ পড়ে। এ ছাড়া রক্তকণিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। সেজন্য ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আমাদের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত নয়। কখনও আমরা অ্যান্টিবায়োটিকের পুরো কোর্স শেষ না করেই খাওয়া বন্ধ করে দেই, এটিও করা যাবে না। ওষুধের দোকানগুলোরও সতর্ক হওয়া দরকার আছে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি না করাই উচিত।

অ্যান্টিবায়োটিকের অতি ব্যবহারের ফলে ব্যাকটেরিয়া মারতে যে ওষুধগুলো ব্যবহার করা হয়, সেসব ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এর ফলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ আরও বেড়ে যায়। এতে অসুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়। মানুষ মারাও যেতে পারে। এ ছাড়া সর্দি, ফ্লু, গলাব্যথার মতো সাধারণ রোগের প্রতকিারও ঠিকভাবে করতে পারে না। ভাইরাল রোগের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। এর অতি ব্যবহারের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে আরও অন্যান্য রোগের সংক্রমণ বেড়ে যায়। এতে চিকিৎসার খরচ যেমন বেড়ে যায়, মৃত্যুর ঝুঁকিও তেমনি বেড়ে যায়। 

২০২১ সালে বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার এ অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। সেখানে ১২টি অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা দেখা হয়। গবেষণাটি করেছিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তরা ২৫০ জন রোগী প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করে নমুনা সংগ্রহ করেছিল। সেখান থেকে ১০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। এতে যে সমস্ত অ্যন্টিবায়োটিক পাওয়া গিয়েছিল তা হলোÑ এমোক্সিসিলিন, জেন্টামাইসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, নরফ্লক্সাসিন, সেফুরক্সিম, ইমিপেনেম, মেরোপেনেম, ক্লোরামেফেনিকল, এজিথ্রোমাইসিন, টেট্রসাইক্লিন, কোট্রাইমোক্সাজল  এবং পিরোসিলিন-টজোব্যাক্টাম। এ গবেষণায় দেখানো হয় কোন কোন জিন অ্যান্টিবায়োটিককে অকার্যকর করে ফেলছে। অ্যান্টিবায়োটিকের তিনটি ধরণ রয়েছে। এগুলো হলোÑ অ্যাকসেস, ওয়াচ ও রিজার্ভ। বাংলাদেশে অ্যাকসেস অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েই শুরু হয়। গবেষণায় দেখা যায়, ৩২ থেকে ৩৮ ভাগ নমুনায় অ্যান্টিাবায়োটিক শক্তিশালী হওয়ার পরও কাজ করছে না। অর্থাৎ যে সমস্ত জীবাণু মেরে ফেলার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে, সে সমস্ত জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে টিকে থাকার ক্ষমতা অর্জন করেছে। 

আইইডিসিআরবি ও আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজিও অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে গবেষণা করে বাংলাদেশে। তারা ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৭,৪৮৫ জনের ওপর এবং ২০২১ সালে ৭,৬৫৮ জনের ওপর গবেষণা করেন। এতে তারা ১০টি অ্যান্টিবায়োটিকের বেশি ব্যবহৃত হতে দেখেন। এগুলো হলো সেফট্রিয়াক্সোন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, সিপ্রোফ্লোক্সাসিন, ফ্লক্লোক্সাসিলিন, মেরোপেনেম, সেফিক্সিম, অ্যামোক্সোসিলিন, সেফুরোক্সিম, মোস্কিফ্লোক্সাসিন ও মেট্রোনিডাজল। তারা দেখেছেন সরকারি হাসপাতালে ব্যবহৃত সেফট্রিয়াক্সোন অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। সেটা প্রায় ৭৬ ভাগ ক্ষেত্রেই। তারা সব অ্যান্টিবায়োটিকই কমবেশি অকার্যকর থাকার প্রমাণ পেয়েছেন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি অ্যান্ড ফার্মাকোলোজি বিভাগ ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগ এবং যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ও অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশে গবেষণা পরিচালনা করেছিল। তারা বাংলাদেশের ৬টি জেলা হাসপাতালে গবেষণা সমীক্ষা চালিয়েছিল। এগুলো হলোÑ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, ময়মনসিংহ, নড়াইল ও শেরপুর। এখানের শিশু, অস্ত্রোপচার এবং জেনারেল মেডিসিন বিভাগে ৯০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে এক বা একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গবেষণায় দেখা যায় শেরপুর, নড়াইল ও ফেনীতে সেফট্রিএক্সন ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে কাজ করছে না। 

অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ক্ষেত্রেও আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আমরা অনেক সময় ডায়রিয়া বা পেট খারাপ হলেই অ্যান্টিবায়োটিক খাই। বিশেষ করে অ্যাজিথ্রোমাইসিন বা মেট্রোনিডাজল জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক। এ ক্ষেত্রে অ্যান্টবায়োটিক প্রথমেই না খেয়ে ওরস্যালাইন খেয়ে গেলেই অনেক ক্ষেত্রে সেরে যায়। সর্দিকাশি হলেই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা যাবে না। প্যারাসিটামল নেওয়া যেতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করলে পূর্ণ মেয়াদ শেষ না করেই বন্ধ করা যাবে না। 

ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের অনেক কুফল রয়েছে। ২০০২ সালে অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ফলে নেপালে ৫,৯৬৩ জন জটিল টাইফয়েড রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। এ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের পর কোর্স সম্পন্ন না করার কারণে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারিয়ে যাচ্ছে। কেননা যে ব্যাকটেরিয়া মারার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে, কোর্স সম্পন্ন না করেই যদি ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ রূপে মরে না। কিছু ব্যাকটেরিয়া থেকে যায় বা বেঁচে যায়। এরা টিকে থেকে যে শক্তির কারণে মারা যাচ্ছিল সেই শক্তির সঙ্গে অভিযোজিত হওয়া শিখে ফেলে। ফলে পরবর্তীতে এই অ্যান্টিবায়োটিক এই ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হলে তা আর কার্যকর হয় না। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এটাকে বলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স। 

২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টার ও ফার্মেসি অনুষদের গবেষকরা বাজারে ব্যবহৃত সাতটি পাস্তুরিত দুধে মানব চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক পেয়েছিলেন। বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক সে সময় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন এভাবে যদি যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয় তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক যে গরুকে খাওয়ানো হলো ওই গরুর দুধ ও মাংস খেলে সেই অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের শরীরে প্রবেশ করবে। এসব আমাদের শরীর ক্ষতি করবে। পরে অবশ্য বিএসটিআই বাজারে থাকা ১৪ ব্র্যান্ডের ১৮টি পাস্তুরিত দুধের নমুনা পরীক্ষা করে আশঙ্কাজনক কিছু পায়নি বলে জানায়। 

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে আইবুপ্রোফেন ও প্যারাসিটামলের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে রোগজীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সহযোগী অধ্যাপক রিয়েটি ভেন্টর বলেন, সংক্রমণজনিত রোগ চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক অনেক দিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু এর অতিরিক্ত, অনিয়ন্ত্রিত ও অপব্যবহারের কারণে বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে সক্ষম এমন ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন জীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হওয়ার বিষয়টি অনেক বেশি জটিল হচ্ছে দিন দিন। বিশেষ করে একাধিক ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহারের ফলে এই ধরনের সমস্যা প্রকট হচ্ছে। অন্যান্য ওষুধ অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে ব্যবহারের ফলে কী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, সেসব ব্যাপারে সচেতন হয়েই একসঙ্গে অনেক ধরনের ওষুধ খাওয়া উচিত। গবেষকরা ৯টি ওষুধের প্রভাব পর্যালোচনা করেন। এগুলো হলোÑ আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, এসিটামিনোফেন, ফিউরোসেমাইড, অ্যাটোরভাস্টাটিন, মেটফরমিন, ট্রামাডল, টেমাজেপাম ও সুডোএফেড্রিন। 

সম্প্রতি বাংলাদেশের সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন গবেষক ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশের গবেষকরা একটি গবেষণা করে বাজারে প্রচলিত সোনালি মুরগির মাংসে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ইশেরিশিয়া কোলাই বা ই. কোলাইয়ের উপস্থিতি পেয়েছেন। এই ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। তারা ৩৯০টি মুরগির মাংস শনাক্ত করে ২৬৬টি মুরগির মাংসে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পান। গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়। গবেষণাটি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণীতে এবং পানিতে ই. কোলাইয়ের উপস্থিতি রয়েছে। সাধারণত প্রাণীর পাকস্থলীতে ই. কোলাইয়ের উপস্থিতি থাকে। এই ব্যাকটেরিয়া মাংসে আসার কথা নয়। মুরগি জবাই করার পর প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় হয়তো মল থেকে বা অন্য কোনো উপায়ে ই. কোলাই মাংসে আসতে পারে। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। 

ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরের তাপমাত্রায় বাঁচে না। মুরগির মাংসে পাওয়া গেলেও রান্নায় এর ক্ষতিকর দিক নষ্ট হয়ে যায়। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। তবে প্রাণীকে, প্রাণীর খাবার বা মুরগির খাবারে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক যাতে না ব্যবহার করা হয় সে ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি। অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বিক্রির ব্যাপারেও নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার। সাধারণত ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রয় করা উচিত নয়। ওষুধ বিক্রয় ওষুধের দোকানগুলোতে যেন চাইলেই অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়া হয়, এ ব্যাপারে সরকারের কড়া নির্দেশনা দরকার। 

বেশ কিছুদিন আগে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, গবাদিপশুর জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের অবাধ ব্যবহার মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। কেননা গবাদিপশুর জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার ভেতর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি করছে। এর প্রভাব মানুষের ওপরেও পড়বে। 

সম্প্রতি আইসিডিডিআর,বিতে ‘বাংলাদেশ অ্যান্টিমাইক্রাবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলা : আর্চ গবেষণার ফলাফল’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তারা নিয়ন্ত্রণহীন অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, হাসপাতালের সংক্রমণ ও জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে অ্যান্টিবায়োটিকের অতি ব্যবহার ঘটছে বলে জানান। তাদের মতে বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার মারাত্মক হুমকিতে পরিণত হয়েছে। নবজাতক থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত সবার শরীরেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার ব্যাপক উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটাকে বিশেষজ্ঞরা ভয়াবহ বলে মনে করছেন। এই অবস্থায় তারা একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলছেন। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে। সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন গবেষণার ফলাফল উদ্বেগজনক হলেও আমাদের ভবিষ্যৎ কৌশল আরও কার্যকরভাবে সাজাতে সাহায্য করবে। এতে আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। ইউএস সিডিসির ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ব্রায়ান হুইলার বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ একটি বৈশ্বিক সংকট, যার সমাধান বৈজ্ঞানিক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি এবং নীতিগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। 

অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ও সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া উদ্ভব প্রতিরোধ করা যায়। এই অবস্থায় অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। হাসপাতালগুলোতে নজরদারি চালাতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে কঠোর নীতি নিতে হবে। রোগী ও সমাজকেও এর অপব্যবহার রোধে এগিয়ে আসতে হবে। এখন একে বৈশ্বিক সংকট হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কাজেই এই সময়ে একে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা