ইমেইল থেকে
আজিজুল ইসলাম নাফিজ
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৩৫ এএম
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৩৭ এএম
কথায় আছেÑ গণতন্ত্রের শিকড় যতটা গভীর, স্থানীয় সরকার ততটাই শক্তিশালী। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। এটি দেশের গণতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি অপরিহার্য মাধ্যম। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো যেমনÑ ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, এবং সিটি করপোরেশন। এরা জনগণের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকে তাদের চাহিদা পূরণ এবং স্থানীয় উন্নয়নে কাজ করে। এই নির্বাচনগুলো শুধু স্থানীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমই নয়, বরং জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করারও একটি সুযোগ। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনগুলোর স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে, যা গণতন্ত্রের শিকড়ের গভীরতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গণতন্ত্র কি সত্যি বাস্তবায়ন হবে? আমরা জুলাই আন্দোলন-পূর্ববর্তী সময়ে দেখেছি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করছে। তখন ছিল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অভাব। প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতেন না এবং ক্ষমতাসীন দল একতরফা নির্বাচন করে সরকার নির্বাচিত করত, যা গণতন্ত্র কখনোই সাপোর্ট করে না। তাছাড়া নির্বাচনকালীন সহিংসতা, জাল ভোট, রাত ভোট, কেন্দ্র দখল এবং কারচুপির অভিযোগ অহরহ ছিল। এসব অনিয়ম ভোটারদের মধ্যে ভয় ও হতাশা সৃষ্টি করে। এই কারণে ভোটে অংশগ্রহণ সামান্য ছিল। তবুও দেখা যেত ভোটকেন্দ্রে ভোট ফুলফিল হয়েছে। কিন্তু এসব ভোট দিলো কে? প্রশ্নের আড়ালে বাস্তবতা স্পষ্ট।
এতসব দুর্নীতির মধ্যেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা লক্ষণীয় ছিল না। অভিযোগ আসে তারা ক্ষমতাসীন দলের হয়ে কাজ করত। অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতাশীল দলের প্রার্থীরা অন্যায় এবং নিয়মবহির্ভূত সব কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে চালিয়ে যেত। তখন প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা জনপ্রিয়তার চেয়ে দলীয় পরিচয় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের গভীরতা পরিমাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। যদি এই নির্বাচনগুলো অবাধ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ হয়, তাহলে এটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনবে। এর জন্য আমাদের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় আমাদের সবার একান্ত কাম্য।
আজিজুল ইসলাম নাফিজ
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা