× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা

ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ১১:০০ এএম

ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না

‘স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ, সময় পেছানো নিয়ে চাপে সরকার’ শিরোনামে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি একই সঙ্গে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা জাগানিয়া। আমরা জানি, গত পাঁচ দশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে মাত্র আটটি দেশ নিজেদেরকে বের করে আনতে পেরেছে। তাদের উত্তরণ ঘটেছে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। বর্তমানে বাংলাদেশসহ তিন দেশ এলডিসি থেকে বেরোনোর তালিকায় রয়েছে। এই যে স্বল্পোন্নতে দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তরণের প্রয়াস, এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়েই রয়েছে নানা প্রশ্ন। আমরা যদি বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় নিয়ে যেতে সক্ষম হই, তাহলে আমাদের সুবিধার ক্ষেত্রগুলো কী কী এবং যদি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাতেই থেকে যাই, সে ক্ষেত্রে আমাদের অসুবিধাগুলো কী কী? বর্তমান সময়ে এসব বিষয়ের উত্তর জরুরি। কারণ, এ ক্ষেত্রে আমাদের হাতে সময় খুবই কম।

আমরা ১৯৭৫ সালে এলডিসি তালিকায় যুক্ত হই। এ তালিকায় যুক্ত হওয়ায় এই দীর্ঘ সময়ে আমরা পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য-সুবিধাসহ নানা সুবিধা পেয়েছি। কিন্তু এই তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় নাম লেখালে, পণ্য রপ্তানিসহ নানা ক্ষেত্রে সুবিধাগুলো হারাবে বাংলাদেশ। আর এখানেই দেশের ব্যবসায়ীদের আপত্তি। তাদের আশঙ্কাতেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবনার সময় এসেছে। প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় পেছানো নিয়ে চাপে রয়েছে সরকার। এই চাপ দেশের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। কারণ, তাদের যুক্তি উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন, তাতে এখনও ঘাটতি রয়েছে। আমাদের তেমন পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। ফলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এলডিসি থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটলে তাতে আমাদের রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের পণ্য অগ্রাধিকারমূলক ও শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাবে। তাতে পণ্যের বাড়তি দামের প্রভাবে দেশের উৎপাদনশীলতা থমকে যেতে পারে। এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আমরা এখন যে সুদে এবং যেসব শর্তে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঋণ পাই, সেই শিথিলতাও থাকবে না। ফলে তার প্রভাবও পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। এমনিতেই মূল্যস্ফীতির চাপে চিড়েচ্যাপটা জনজীবন, তার সঙ্গে ঋণের বাড়তি সুদ যোগ হলে অবস্থা সহজেই অনুমেয়। এ ছাড়া ওষুধসহ আরও যেসব পণ্যে আমরা মেধাস্বত্বে ছাড় পাই, তাও বন্ধ হয়ে যাবে। যাতে করে দেশের বাজারে এসব ধরনের পণ্যের দামও বাড়বে অস্বাভাবিক হারে। আমরা মনে করি ব্যবসায়ীদের এসব যুক্তি আমলে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার প্রসঙ্গে আরও বিস্তৃত পরিসরে, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনাও দরকার। 

আমরা জানি, এলডিসিতে যোগদান করা যেকোনো দেশের জন্যই ঐচ্ছিক। কিন্তু তালিকা থেকে বেরোনোর চেষ্টা বাধ্যতামূলক। এলডিসি থেকে কোন দেশ বের হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ করে জাতিসংঘ। প্রতি তিন বছর পর পর মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতাÑ এই তিন সূচক দিয়ে একটি দেশ উন্নয়নশীল দেশ হতে পারবে কি না, সেই যোগ্যতা নির্ধারণ হয়। সে হিসেবে আমাদেরও দীর্ঘদিন এলডিসি তালিকায় থেকে সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ নেই। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি যেন তাড়াহুড়োর মধ্যে, শুধু রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্য না হয়, সে বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মানদণ্ডে বাংলাদেশ তিনটিতেই উত্তীর্ণ হয়ে ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে বেরোতে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পায়। কিন্তু করোনা আমাদের সেই প্রক্রিয়াটিকে বাধাগ্রস্ত হয়। সে সময় প্রস্তুতির জন্য সরকারের তরফে আরও দু বছর সময় বাড়ানোর আবেদনেও সাড়া দেয় জাতিসংঘ। এবারও আমাদের সামনে সে সুযোগটি হাতছাড়া হয়নি। এখনও সময় রয়েছে আবেদনের। যাতে করে যথাযথ প্রস্তুতির মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছতে পারি। আমরা মনে করি, উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় পৌঁছার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন তাতে আমাদের ঘাটতি রয়েছে। তাই আমাদের যেসব বিষয়ে ঘাটতি রয়ে গেছে, সেগুলো পূরণ তো বটেই সেইসঙ্গে এলডিসি থেকে বেরোনোর পর শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে বাড়তি শুল্কারোপ, তা মোকাবিলারও প্রস্তুতি দরকার। এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটবে কি নাÑ এ বিষয়ে জাতিসংঘ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেও আমাদেরও হাত গুটিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। গত ফ্যাসিস্ট রেজিমে শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বাহবা কুড়ানোর যে সস্তা প্রচেষ্টা, বর্তমান সরকারের কাছে আমরা তেমনটি প্রত্যাশা করি না। তাই মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছার তকমা আঁটার পরিকল্পনা যেন আমাদের জন্য হিতে বিপরীত না হয়, এ বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আরও আলাপ-আলোচনার অবকাশ রয়েছে। ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও নাÑ আমরা এই নীতি অবলম্বনের জন্যও বলি। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা