× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ড. ইউনূসে শহীদ জিয়ার প্রতিচ্ছবি

একমত হওয়া গেল না জনাব মহাসচিব

মহিউদ্দিন খান মোহন, সাংবাদিক ও কলাম লেখক

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৫২ এএম

একমত হওয়া গেল না জনাব মহাসচিব

দৃষ্টিশক্তি সর্বশক্তিমান আল্লাহর এক অপার দান। মানুষের দৃষ্টিশক্তি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। মানুষ যখন মাতৃগর্ভ থেকে পৃথিবীতে আসে তখন তার দৃষ্টিশক্তি থাকে খুবই ক্ষীণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে তার চোখে দৃষ্টিশক্তি সঞ্চারিত হয় এবং একসময় তা পূর্ণতা পায়। আবার বয়সের ব্যবধানে মানুষের দুষ্টিশক্তির তারতম্য ঘটে। সাধারণত বয়স চল্লিশ পেরোলেই অনেকের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে থাকে। তখন তাকে ব্যবহার করতে হয় চশমা। দৃষ্টিশক্তির খুব নিকটাত্মীয় শব্দ ‘দূরদৃষ্টি’। অভিধানে এর অর্থ দু’ভাবে দেওয়া হয়েছে। এক, যিনি দূরের জিনিস ভালো দেখেন, কিন্তু কাছেরটা দেখেন অস্পষ্ট। এটা চোখের একটা অসুখ। আর দ্বিতীয় অর্থে দূরদৃষ্টিকে বোঝানো হয়েছে দূরদর্শিতা হিসেবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে, তা অনুমান করতে পারা। দূরদর্শিতা সবার থাকে না, এটা জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে অর্জিত হয়। দূরদৃষ্টির পরেই রয়েছে ‘দিব্যদৃষ্টির’ অবস্থান। এ শক্তি সবাই অর্জন করতে পারেন না। সাধারণত কঠোর আধ্যাত্মিক সাধনার দ্বারা পীর-দরবেশগণ এ শক্তি অর্জন করে থাকেন। তারা তাদের অলৌকিক শক্তিবলে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের এমনসব ঘটনা দেখতে পান, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় না। হিন্দুধর্মের পুস্তকাদিতে তাদেরকে বলা হয় ‘ত্রিকালজ্ঞ’। অর্থাৎ যিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎÑ এই তিনকাল সম্পর্কেই জানেন। এরপরেই রয়েছে ‘দৃষ্টিবিভ্রম’। এটা একধরনের ব্যামো, যা যেকোনো বয়সে আক্রান্ত করতে পারে। দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক থাকলে একজন মানুষ সবকিছু সঠিকভাবে দেখতে পান, আর দৃষ্টিবিভ্রমে আক্রান্ত ব্যক্তি সঠিক জিনিসটি দেখতে পান না বা ভুল দেখেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন একজন ব্যক্তি একটি দড়িকে দড়িই দেখবেন। আর দৃষ্টিবিভ্রমে আক্রান্ত ব্যক্তি হয়তো সেটাকে দেখবেন সাপ।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অতি সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য অনেকেরই মনে সংশয়ের উদ্রেক করেছে, তিনি দৃষ্টিবিভ্রমে আক্রান্ত কি না। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে বসে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষক সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সেখানে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ড. ইউনূস দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। দুনিয়াজোড়া তার সুনাম। তিনি দেশকে একটি কাঙ্ক্ষিত মানে দেখতে চান। এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানেরও চাওয়া ছিল। আমি ড. ইউনূসের মধ্যে আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি।’ (২৯ সেপ্টেম্বরের পত্রিকাসমূহ)। এ এক বিস্ময়কর ব্যাপার! পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতা মির্জা আলমগীরের একজন একান্ত অনুরক্ত-ভক্ত হিসেবে এ প্রশ্ন আমাকেও তাড়িত করছে যে, তা হলে কি তিনি দৃষ্টিবিভ্রমে আক্রান্ত?

মানুষ হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস অনেক বড় সন্দেহ নেই। নোবেল বিজয়ী হিসেবে তিনি বিশ্বের দরবারে আমাদের দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। কিন্তু ‘তার ভেতরে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি’ দেখতে পাওয়া একেবারে তৈলমর্দনের পর্যায়ে পড়ে যায়, নাকি? কেননা, কোনো বিচারেই জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ড. ইউনূসকে মেলানো যাবে না, তুলনা তো দূরের কথা। জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় দেশপ্রেমের যেসব পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে জাতীয় নেতায় পরিণত হয়েছেন, ড. ইউনূস সেসব পরীক্ষাতেই বসেননি।

একজন সৈনিক কিংবা নাগরিককে দেশপ্রেমের পরীক্ষায় একশতে একশ পেয়েই উত্তীর্ণ হতে হয়। জিয়াউর রহমান সে পরীক্ষায় একশ নম্বর পেয়েই উত্তীর্ণ হয়েছেন। দেশ ও জাতির ঘোর দুর্দিনে নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে বিদ্রোহ করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন। তারপরেও এদেশ ও জাতি যতবার দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে, ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের ৩ থেকে ৭ নভেম্বরের সে ঘোরতর অমানিশায় জিয়াউর রহমানই পূর্ণচন্দ্রের কিরণ নিয়ে জাতিকে আশার আলো দেখিয়েছিলেন। তারপরের ইতিহাস এদেশের মানুষের জানা। বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র ও এদেশের মানুষকে একটি আত্মনির্ভরশীল জাতিতে পরিণত করার জন্য তিনি যে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন তা আসলে একটি কম্পাস। যা এদেশ ও জাতির সামনে এগোনোর দিকনিদের্শক হিসেবে কাজ করে চলেছে।

জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমের সবচেয়ে বড় যে পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন, সে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ কিন্তু ড. ইউনূসের সামনেও এসেছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অবস্থান করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা অধ্যয়নে। তিনি ইচ্ছা করলেই দেশে ফিরে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে পারতেন। যেমনটি করেছিলেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি ছাড়াও আরও অনেকেই বিদেশ থেকে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এমনকি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসেও যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন অনেকে। ড. ইউনূস তা না করে প্রবাসে থেকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে তৎপর হন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ড. ইউনূসের গুণমুগ্ধÑ এটা বুঝতে পারছি। কিন্তু একজন মানুষ আরেকজন মানুষের কতটা গুণমুগ্ধ হলে নিকট অতীতকে বিস্মৃত হতে পারেন তা ভেবে কূল পাচ্ছি না। মির্জা সাহেবের স্মরণার্থে বলছি, ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় রাজনীতি থেকে খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, সেটা কাকে রাজনীতিতে ‘প্লাস’ করার জন্য তা কি ভুলে গেলে চলবে? খালেদা-হাসিনাকে মাইনাস করে তদস্থলে নতুন কাউকে বসানোর অভিপ্রায়ে তৎকালীন জরুরি সরকারের মূল চালক জেনারেল মইন গং যে অক্লান্ত পরিশ্রম ও পরিকল্পনা করেছিলেন, তা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। ওই সময় ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজনীতির সুযোগসন্ধানী শৌখিন খেলোয়াড় ড. ইউনূস ‘নাগরিক শক্তি’ নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। প্রথমে তিনি জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখে রাজনীতিতে তার তাশরিফ আনার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছিলেন। মাঝে তাকে সমর্থন জানানোর জন্য জনগণকে আহ্বান জানিয়ে দ্বিতীয় পত্রাঘাত করেছিলেন। কিন্তু ছয় মাসেও সাড়া না পেয়ে তৃতীয় চিঠিতে রাজনীতিকে ‘আলবিদা’ জানিয়েছিলেন। তাই বলে আমি বলছি না, ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র সঙ্গে ড. ইউনূস সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে বেনিফিশিারি যে হতে চেয়েছিলেন, তা অস্বীকার করব কীভাবে? 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ড. ইউনূসের ভেতরে জিয়ার প্রতিচ্ছবি দর্শনকে অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। তারা বলছেন, কোন ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ড. ইউনূসের সাযুজ্য খুঁজে পেলেন মির্জা সাহেব বোঝা গেল না। যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পরের কথাই বলি, তাহলে এ দুজনের ব্যবধান যোজন যোজন। এ কথা সর্বজনবিদিত যে, রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান তার আত্মীয়-স্বজনকে তার ধারেকাছেও ঘেঁষতে দেননি, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট করা তো দূরের কথা। আর ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হয়ে তার উপ-প্রেস সচিব করেছেন আপন ভাতিজাকে। জিয়াউর রহমানের কোনো ব্যবসাপাতি ছিল না। অন্যদিকে ড. ইউনূস নিজে ব্যক্তিগতভাবে মুনাফা না নিলেও একজন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। ব্যাংক থেকে শুরু করে হরেক রকমের সামাজিক ব্যবসায় তিনি জড়িত ছিলেন ও আছেন। সরকারপ্রধান হওয়ার পর তিনি এক সময়ে সম্পর্কিত ছিলেন এমনসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ও আদম ব্যবসায়ের লাইসেন্স হয়েছে। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঋণের সুদ ও ট্যাক্স মওকুফ হয়েছে। জিয়াউর রহমান কখনও এসব চিন্তাও করেননি। এই তো সেদিন ড. ইউনূস জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক গিয়েছিলেন অনেক সফরসঙ্গী নিয়ে। অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে তিনি তার প্রেস উইংয়ের পাঁচজনকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, ড. ইউনূস এই রাষ্ট্রীয় সফরে তার কন্যাদ্বয়কেও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন! কী কাজ ছিল তার কন্যাদের জাতিসংঘে? জিয়াউর রহমান কখনোই এটা করেননি। একান্ত রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের জন্য জরুরি না হলে দেশে কিংবা বিদেশে স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও তিনি সফরসঙ্গী করেননি। পুত্রদের তো প্রশ্নই আসে না।

একটি ঘটনা এখানে পুনরুল্লেখ করতে চাই। ঘটনাটি বলেছিলেন তারেক রহমান। একবার রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন নেপালের রাজা বীরেন্দ্র বীরবিক্রম শাহদেব ও রানী ঐশ্বর্যলক্ষ্মী দেবী। সঙ্গে ছিল তাদের দুই শিশুকন্যা ও পুত্র। এর কয়েক মাস পরে ফিরতি সফরে নেপাল যাবেন প্রেসিডেন্ট জিয়া। প্রস্তুতি চলছে। শিশু তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান চিন্তা করলেন, নেপালের রাজার ছেলেমেয়ে আসতে পারলে আমরা কেন যেতে পারব না? একদিন সকালে তারেক রহমান মায়ের কাছে কথাটি পাড়লেন। মা খালেদা জিয়া ছেলেকে বললেন, ‘প্রশ্নটা ওখানে কর।’ তারেক সাহেব পেছনে তাকিয়ে দেখলেন দরজায় পিতা জিয়াউর রহমান দাঁড়িয়ে। তিনি অফিসে যাবেন। পুত্রের প্রশ্নের জবাবে পিতা জিয়াউর রহমান শুধু বললেন, ‘তোমরা তো রাজার ছেলে নও। রাষ্ট্র কেন তোমাদের খরচ বহন করবে?’ এই হলেন জিয়াউর রহমান। যিনি নিজে যুদ্ধ ঘোষণা ও রণাঙ্গনে লড়াই করে দেশকে স্বাধীন করেছেন, কোটি কোটি ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু তারপরও নিজেকে ভেবেছেন দেশ ও জনগণের খেদমতগার হিসেবে, মালিক-মোখতার নন। অন্যদিকে একটি গণঅভ্যুত্থানের সুবাদে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বিদেশ সফর থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির যে নজির ড. ইউনূস স্থাপন করে চলেছেন, তাতে জিয়াউর রহমানের নামের পাশে উনার নাম বসতে পারে কি না ভেবে দেখতে হবে। এতসব বৈপরীত্য থাকা সত্ত্বেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কোন দিব্যদৃষ্টিবলে ড. ইউনূসের মধ্যে জিয়ার প্রতিচ্ছবি আবিষ্কার করলেন, তা তিনিই বলতে পারবেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা