× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমেইল থেকে

কেন রাজনীতির হাতিয়ার

এ এইচ এম ফারুক

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৪০ পিএম

কেন রাজনীতির হাতিয়ার

দেশের প্রতিটি জেলায় কমবেশি ধর্ষণ, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজির মতো অপরাধ ঘটে। সামাজিক বাস্তবতায় এসব ঘটনা দুঃখজনক। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্ষণ, খুন, অপহরণ বা চাঁদাবাজির ঘটনাগুলোর সঙ্গে সমতলের অপরাধের সঙ্গে দৃশ্যত মিল থাকলেও মোটাদাগে ভিন্নতা রয়েছে। ফলে যারা সমতলের এসব অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পাহাড়ের ধর্ষণ, খুন, অপহরণ বা চাঁদাবাজির ঘটনাগুলোর তুলনা করতে চান তা জানাশোনা ও গবেষণার সীমাবদ্ধতা মাত্র। কারণ এই তুলনা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুল জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়, কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামের অপরাধের প্যাটার্নটাই আলাদা। এখানে প্রেক্ষাপট আলাদা, পটভূমি আলাদা এবং অপরাধের পরবর্তী প্রতিক্রিয়াও একেবারে ভিন্ন।

সমতলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে মামলা হয়, সামাজিকভাবে সালিশ-দরবার হয়। সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে, মামলা হয়, বিচার হয় বা বা বিচারে গড়িমসি হলে বিচারের দাবিও ওঠে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে প্রতিবাদ হবে কি না, তা নির্ভর করে ভুক্তভোগী কোন জাতির, আর অভিযুক্ত কোন গোত্রের। এই অঞ্চলে নারী নির্যাতনের বিচার হয় জাতি দেখে, ন্যায় দেখে নয়। আর এখানেই প্রশ্ন ওঠেÑ পার্বত্য চট্টগ্রামে নারীর সম্ভ্রম কি শুধুই রাজনীতির হাতিয়ার?

গত ২৪ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনা জানাজানি হলে সেনাবাহিনী অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকাল থেকেই খাগড়াছড়ি জেলা সদরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ২৬ সেপ্টেম্বর অর্ধবেলা সড়ক অবরোধ ও হরতালের কর্মসূচি দেয় জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে একটি পাহাড়ি সংগঠন। সকাল থেকে সড়কে আগুন দিয়ে হরতাল পালন করতে দেখা গেছে। এ সময় পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর গাড়িও আটকে দেওয়া হয়। ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় সেটার বিচায় চেয়ে এই প্রতিবাদ করা আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক একটা বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন অন্যখানে। 

অভিযোগ রয়েছে, বাঙালি কর্তৃক উপজাতি নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে প্রতিবাদ হয়, জ্বালাও-পোড়াও হয়, হরতাল-অবরোধ হয়, সড়কে আগুন জ্বলে। অপরদিকে উপজাতি কর্তৃক উপজাতি নারী ধর্ষণের ঘটনায় ভিকটিম বিচারহীনতায় গুমরে কেঁদে মরে। প্রতিবাদও হয় না। কখনও কখনও স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়, ইজ্জতের বিনিময়ে শুকর জরিমানা করা হয়। অনেকটা একই নীরবতা দেখা যায় উপজাতি কর্তৃক বাঙালি নারী ধর্ষণ বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে। 

আসলে ধর্ষণের বিচার ধর্ম, জাতি বা গোত্র দেখে নয়Ñ আইনের ভিত্তিতে হতে হবে। একইভাবে খুন, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনায় সংগঠনগুলোকে নৈতিক অবস্থান নিতে হবে, পক্ষপাত নয়। প্রথাগত সালিশ নয়, প্রচলিত আইনের আওতায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নারীকে রাজনীতির হাতিয়ার নয়, সম্মানিত মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সব বাঙালি এবং উপজাতি এদেশেরই গর্বিত নাগরিক। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই এই অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব। কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পথে হাঁটতে হলে জাতিগত বিভেদ নয়, ন্যায়ের ভিত্তিতে প্রতিবাদ করতে হবে।

আমরা মনে করি, নারীর সম্ভ্রম কোনো রাজনৈতিক দাবির পুঁজি নয়Ñ এটি মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন। ধর্ষণ, খুন, অপহরণÑ এইসব অপরাধের বিচার ধর্ম, জাতি বা গোত্র দেখে নয়, বরং আইনের আলোয় হতে হবে। যে সমাজে নারীকে প্রতীক নয়, মানুষ হিসেবে দেখা হয়, সেই সমাজই সত্যিকারের শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

  • সাংবাদিক ও গবেষক
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা