ইমেইল থেকে
মো. শামীম মিয়া
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ১২:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গাজায় চলমান যুদ্ধের যে ভয়াল অভিঘাত, তার সবচেয়ে অসহায় শিকার শিশুরা। জন্মমাত্রই যাদের কাঁধে কোনো রাজনৈতিক দায়ভার নেই, যাদের হাত বারুদ ছোঁয়নি, যাদের চোখ ভবিষ্যতের স্বপ্নে উজ্জ্বল থাকার কথাÑ তারাই আজ পুড়ে যাচ্ছে অগ্নিগর্ভ বিস্ফোরণে। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে তাদের রক্তমাখা শরীর। গলে যাওয়া মুখাবয়ব, বিচ্ছিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কিংবা ধুলোবালি আর রক্তের মিশ্রণে আচ্ছাদিত দেহÑ এগুলো কেবল একটি জাতির নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য লজ্জাজনক কলঙ্কচিহ্ন।
মানবতা আজ দ্বিধান্বিত, বিক্ষত ও কলঙ্কিত। প্রশ্ন জাগেÑ এই মানবতা আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? প্রতিটি শিশু হত্যার মাধ্যমে কি আমরা সভ্যতার মিথ্যে মুখোশকে আরও নগ্ন করে দিচ্ছি না? বৈশ্বিক ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো যে স্বার্থপর কূটনৈতিক খেলা খেলছে, তার মাশুল দিচ্ছে নিষ্পাপ শিশুরা। যে শিশুদের পৃথিবী ভরসা করে আগামী দিনের নেতা, বিজ্ঞানী, শিল্পী বা স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিল, তারা আজ মাটিচাপা পড়ছে গুলির ঝাঁঝরা বুকে, ধ্বংসস্তূপের নিচে।
ইতিহাসে আমরা দেখেছিÑ হিরোশিমা ও নাগাসাকির শিশুদের বিকলাঙ্গ দেহ মানবতার কলঙ্ক হয়ে রয়ে গেছে। ভিয়েতনামের আগুনে পোড়া শিশু মানবসভ্যতার বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। বসনিয়া, রুয়ান্ডা, সিরিয়া কিংবা ইরাকে নিহত শিশুদের জন্য পৃথিবী চোখের জল ফেলেছিল। কিন্তু গাজার শিশুদের জন্য সেই চোখের জলও যেন শুকিয়ে গেছে। সংবাদপত্রের ছবি, সামাজিক মাধ্যমের ভিডিও কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীর আর্তনাদÑ সবকিছুই কেবল কয়েক মুহূর্তের আবেগ জাগিয়ে আবার বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাচ্ছে। অথচ প্রতিটি শিশুর মৃত্যু একেকটি সভ্যতার মৃত্যু। প্রতিটি নিষ্পাপ মুখ নিভে যাওয়া মানে আগামী দিনের আলোকবর্তিকা নিভে যাওয়া।
গাজার এই হত্যাযজ্ঞ কেবল রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক নৈতিকতার দেউলিয়াত্বের নগ্ন স্বাক্ষর। বিশ্বসভ্যতার স্থপতিরা যখন অর্থনীতি ও সামরিক আধিপত্য নিয়ে ব্যস্ত, তখন মানবিকতার অবলুপ্তি ঘটছে রক্তক্ষয়ী গণহত্যায়।
গাজার শিশু হত্যার এই নৃশংসতা আজ সমগ্র মানবতাকে লজ্জিত করেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা সত্যিকার অর্থে শিশুদের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিতে না পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত মানবজাতি কখনও নিজেকে সভ্য দাবি করার নৈতিক অধিকার রাখে না। প্রতিটি শিশু হত্যার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আমাদের নিজেদের মানবিক আত্মাকে হত্যা করছি।