× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমেইল থেকে

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারই কাম্য

মোজাহিদ হোসেন

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ১২:০৭ পিএম

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

বর্তমান প্রযুক্তির যুগ। সবকিছুই প্রযুক্তিনির্ভর। শহর থেকে গ্রাম, বড় থেকে ছোট্ট সবাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই প্রযুক্তির ব্যবহার ক’জন জানে। শহর আগেই আধুনিকায়ন হওয়ায় শহরের মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে জানে। কিন্তু গ্রামের মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও যথোপযুক্ত ব্যবহার ক’জনে জানে! বেশিরভাগই এ বিষয়ে অজ্ঞ। যার কারণে গ্রামের মানুষের কাছে প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে অপব্যবহারই বেশি হয়। যার প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে গ্রামের যুবসমাজের কাছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে। 

বর্তমানে এক ভয়াবহ প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে। যাকে বলা যায়, অসুস্থ প্রজন্ম। যারা কায়িক শ্রমে নেই, বিকাল হলে মাঠে খেলতে যায় না, বাবা-মায়ের কথা শোনে না, পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত, নিজের উন্নতির কথা ভাবে না, সমাজ নিয়ে চিন্তাভাবনা করে না, সমাজের মানুষ নিয়ে ভাবে না, ধর্মপালন থেকে দূরে, নৈতিকতা থেকে দূরে, বড়দের সম্মান করে না, অন্যের বিপদে সাহায্য করে না। সর্বোপরি এক ভয়াবহ প্রজন্ম। 

এখন গ্রামীণ খেলাধুলাগুলো বিলুপ্তির পথে। আদৌও কি ফিরতে পারে! সম্ভাবনা খুবই কম। কেননা যত দিন যাচ্ছে, ততই অবনতি বাড়ছে। যা বিলুপ্ত হয় তা পুনরায় জাগিয়ে তোলা সহজ নয়। কত খেলাই আগে প্রচলিত ছিল। প্রাইমারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুল শেষ করে বিকাল হলেই বিভিন্ন খেলায় মেতে উঠত। উচ্চ বা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরাও বিকাল হলেই মাঠে আসত। প্রতিনিয়ত মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট খেলা তো হতোই। এর পাশাপাশি হাডুডু বা কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, কানামাছি ভোঁ ভোঁ, লুকোচুরি ইত্যাদি হরেক রকমের খেলা প্রচলিত ছিল। হয়তো এসব অনেক খেলার নামই এই প্রজন্ম জানে না বা জানবে না কখনও। বর্তমানে এসব খেলাধুলার কোনোটিই প্রতিনিয়ত দেখা যায় না। দেখা গেলেও খুবই কম।

বর্তমান প্রজন্ম মাঠে খেলতে যায় না, মোবাইল গেমে আসক্ত। তবে এর জন্য অনেকটা অবিভাবকরাই দায়ী। যে শিশুটি বুঝতে শুরু করছে তার হাতেও ফোন দেয়। এখন ছোট্ট বাচ্চারা কান্না করলে বা ভাত না খেলে ফোন দিয়ে চুপ করায়। যার ফলে বাচ্চারা ছোট্ট থেকেই ফোনে আসক্ত। বড় হলে আর ছাড়তে পারে না। আবার মাঝে মাঝে বড় ফোন কিনে না দেওয়ার কারণে আত্মহত্যার খবরও শোনা যায়। এরা এতটাই ফোনে আসক্ত যে অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দেয় না। না পারিবারিক কাজে, না বাবা-মায়ের কাজে, না ঠিকমতো পড়াশোনা করে, না ধর্ম পালন করে, না নিজেকে নিয়ে ভাবে, না সমাজ নিয়ে ভাবে। এরা শুধুই ফোনে আসক্ত।

মোবাইল গেম ছাড়াও রয়েছে ফেসবুকিং, টিকটক। টিকটক দিন দিন মানুষকে অমানুষে পরিণত করছে। সামান্য লাইক, কমেন্ট বা ভিউ বাড়ানোর জন্য মানুষ নিম্ন থেকে নিম্ন স্তরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। নিজেরই কোনো ধারণা নেই সে কোন পর্যায়ে যাচ্ছে। টিকটক মানুষকে দিন দিন বিকারগ্রস্ত করে তুলছে। মেধার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া রাত জেগে ফেসবুক চালানো। এই প্রজন্ম রাতে ঘুমাতে অভ্যস্ত নয়। সারা রাত জেগে ফেসবুক, মেসেঞ্জারে সময় নষ্ট করে। ভোরের দিকে ঘুমায়। পড়াশোনা বলতে কিছু নেই। এভাবে দিনের পর দিন মেধাহীন হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। 

এই প্রজন্মের বেশিরভাগই সাঁতার জানে না। কিন্তু আগে গ্রামের সবাই সাঁতার জানত। বর্তমান প্রজন্ম পুকুর বা নদীতে যাওয়ার সময় পায় না। শখ করেও যায় না। 

প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণেই গ্রামের যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। বর্তমানে তৈরি হচ্ছে এক অসুস্থ প্রজন্ম। যে মাঠে পূর্বের প্রজন্ম খেলাধুলা করত, সেই মাঠে এই প্রজন্ম টিকটক করে, বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল গেম খেলে, ফেসবুক, মেসেঞ্জার চালায় এবং যার সর্বশেষ অবস্থা মাদকের দিকে ধাবিত হয়। বর্তমানে এই অবস্থার কারণে যেমন প্রযুক্তির অপব্যবহার দায়ী তেমনি অসচেতন অভিভাবক। এর থেকে উত্তরণ হওয়া খুবই জরুরি। না হলে এই জাতির ধ্বংস অনিবার্য।

  • শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা