অপতৎপরতা
সম্পাদকীয়
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪৩ এএম
‘দেশবিরোধী চক্রান্তের ছক’ শিরোনামে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর এ চক্রান্তের সাজানো ছকে ইন্ধন জোগাচ্ছে কার্যক্রম-নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক কিছু নেতা। এজন্য দেশের ভেতরে তো বটেই বিদেশের মাটিতেও বসে চলছে ষড়যন্ত্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর একাধিক প্রতিবেদনে পতিত সরকারের পলাতক নেতাদের দেশজুড়ে নৈরাজ্যের পরিকল্পনা এবং এজন্য অর্থায়নের বিষয়টি উঠে এসেছে। এজন্য দলটির নেতাকর্মীরা চাইছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে। যার মধ্যে রয়েছে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা। রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নাশকতার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্টও তাদের লক্ষ্য। মূলত এসব অপতৎপরতা দলটির নেতাকর্মীদের হতাশাগ্রস্ত মানসিকতারই ফল।
জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের এই উপলব্ধিও জরুরি যে কাপুরুষোচিত চরিত্রের মাধ্যমে তৈরি নাশকতায় মানুষের আস্থা ফিরবে না। দেশ ও মানুষের প্রতি হিংসা, ঈর্ষা ও বিদ্বেষ পোষণ করে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা যাবে না। তাতে করে প্রত্যাখ্যানের পাল্লাই ভারী হবে। সুযোগের সন্ধানে থাকা অপরাজনীতিকে মানুষ ঘৃণা করে।
যারা দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় থেকে দেশ ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী অপতৎপরায় লিপ্ত তাদেরকে তো জনগণ গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। স্বৈরশাসন, সন্ত্রাস, লুটপাট, দেশবিরোধী অপতৎপরতা, ব্যাংক খাতকে ধ্বংসের খাদে ফেলে দেওয়াসহ প্রশাসনের সর্বস্তরে ও আর্থ-সামাজিক সব খাতে দুর্নীতিকে যারা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েই মানুষ পথে নেমে এসেছিল, অভ্যুত্থান সংঘটিত করেছে। সেই পরাজিত অপশক্তি যখন দেশ ও দেশের বাইরে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তখন তা তাদের রাজনৈতিক দেওলিয়াত্বেরই উদাহরণ। সেইসঙ্গে এই ষড়যন্ত্র দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
নাশকতা, অরাজকতা তৈরির মাধ্যমে মানুষকে সাময়িক বিভ্রান্ত করা সম্ভব, কিন্তু আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়। অথচ তারা একবারও বলে না তাদের রাজত্বকালে বাংলাদেশ কেমন ছিল, গণতন্ত্রের কী অবস্থা ছিল। আমরা প্রশ্ন রাখতে চাই, যদি এভাবেই অপতৎপরতার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলতে থাকে তাহলে মানুষ তাদের বিশ্বাস করবে কীসের ভিত্তিতে? তাদের রেকর্ড তো মানুষের জানা। তাই আমরা মনে করি, বাংলাদেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি, মর্যাদা ও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য নতুন প্রজন্মসহ সবাইকে দেশবিরোধী যেকোনো ধরনের নাশকতার চক্রান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। সেইসঙ্গে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর থাকতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা যাদের সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই অপতৎপরতার চেষ্টা ভণ্ডুল করে দিতে হবে। সেইসঙ্গে অর্থ সরবরাহের জন্য প্রবাহও যেন অকার্যকর করা যায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। দীর্ঘদিন যে গণতন্ত্রহীনতা, ভোটারবিহীন নির্বাচনের অপসংস্কৃতি তা থেকে মানুষ বেরোতে চাইছে। রাজনীতিহীনতার যে চর্চা গত পনেরো বছর দেশে হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে মানুষ চাইছে সুস্থধারার রাজনীতি। মানুষ স্বস্তিতে ঘুমাতে চায়, কথা বলার অধিকার চায়, নিরাপত্তা চায় এবং সেইসঙ্গে চায় তার ভোট দেওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার। সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে যে বা যারাই প্রয়াসী হোক না কেন, সেই অশুভ শক্তিকে দমন করতে হবে। মানুষের প্রত্যাশায় যেন কালো ছায়া না পড়ে, নির্বাচনী আনন্দ থেকে যেন মানুষ বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করার দায় সরকারের।
আমরা প্রত্যাশা করি, সরকার কোনোভাবেই জনজীবনে বিঘ্ন ঘটানো রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড ও কোনো ধরনের নাশকতা মেনে নেবে না। যারা দেশে অরাজকতা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে, রাজপথে নৃশংসতার পথ বেছে নিচ্ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর হবে বলেই আমরা মনে করি। যারা এই অপতৎপরতার সঙ্গে যুক্ত তাদেরকে খুঁজে বের করা এবং বিচারের সম্মুখীন করার কথাও আমরা বলি।