সানি মহারথী
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৫৬ এএম
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের অপরিহার্য অংশ কলসিন্দুর কন্যাদের অভূতপূর্ব সাফল্যের অর্জনে অনুপ্রাণিত হয়ে নারীদের খেলাকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দেওয়ার সরকারি প্রকল্পের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের সবচেয়ে অবহেলিত জনপদ ধোবাউড়ায় মিনি স্টেডিয়ামটি যখন সত্যিই নির্মিত হচ্ছিল তখন সবাই স্বপ্ন দেখছিলাম কলসিন্দুরের বাঘিনীদের মতো আরও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় এই অঞ্চলের মাটি থেকে উঠে আসবে। ভেবেছিলাম এই স্টেডিয়ামটি হবে আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ দ্বীপ যেখানে তারা স্বপ্ন বুনবে, নিজেদের গড়ে তুলবে। যেখানে তৈরি হবে একেকজন অদম্য মারিয়া, সানজিদা, শামসুন্নাহার। কিন্তু আমাদের সেই স্বপ্ন শুরুর আগেই যেন ফিঁকে হয়ে যাওয়ার উপক্রম। কারণ যে মাঠের বুক থেকে ফুটবলের প্রতিধ্বনি শোনার কথা ছিল সেখানে এখন নীরবতা। এখনও কোনো ম্যাচ আয়োজন করার পূর্বেই সেই নীরবতার আড়ালে সন্ধ্যায় স্টেডিয়াম ছেয়ে যাচ্ছে মাদকের কালো ছায়ায়।
স্টেডিয়ামের চারপাশে নিয়ন আলো যখন জ্বলে ওঠে তখন এটি কেবল একটি খেলার মাঠ থাকে না; এটি পরিণত হয় এক স্বপ্ন জগতে। তারুণ্যের আলোয় উদ্ভাসিত এক স্বপ্ন জগৎ। যে জগতে দিনের আলোয় শিশুরা খেলার জন্য উন্মুখ থাকবে সন্ধ্যা নামতেই সেখানে ভেসে উঠতে শুরু করেছে এক ভিন্ন চিত্র। কিছু বিপথগামী তরুণ-তরুণীর আনাগোনা, মাদকদ্রব্যের অবাধ ব্যবহারের চিত্র আমাদের হৃদয়ে আঘাত করে। জানি না এসব কেন বিভিন্ন জায়গায় শুধু স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করেই হয়। খেলার মাঠে যদি মাদকের বিষ ছড়িয়ে পড়ে তবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কী শিখবে?
যে মাঠ তাদের জীবনের প্রথম দৌড় শেখাবে সেই মাঠেই যদি তাদের পথের দিশা হারিয়ে যায় তবে তার দায়ভার কার? শুধু মাদকই নয়, স্টেডিয়ামের নির্জনতা এখন কিছু মানুষের কাছে এক ভিন্ন অভয়ারণ্যও। যেখানে ক্রীড়ানুরাগীদের ভিড় করার কথা সেখানে দেখা যায় কিছু আবেগী হৃদয়ের আনাগোনা। পবিত্র খেলার প্রাঙ্গণ পরিণত হচ্ছে এক অসামাজিক কার্যকলাপের নির্ভয়ারণ্য হিসেবে, যা আমাদের সমাজের নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্টেডিয়ামের অফিস কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসে চিত্রিত বহুল আলোচিত লিটনের ফ্ল্যাটের আদলে।
আমরা স্টেডিয়ামটি চেয়েছিলাম একটি শরীরচর্চা ও সুস্থ বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে। কিন্তু শুরুর আগেই লক্ষ করা যাচ্ছে, এক ভিন্ন ধারার বিনোদনের কেন্দ্র হয়ে উঠছে এই স্টেডিয়াম। একেবারে শুরুতেই অবক্ষয়ের এই যাত্রা রোধ করা অতি জরুরি। যদি আমরা এ বিষয়ে নীরব থাকি তবে একদিন আমাদের স্বপ্নের স্টেডিয়ামটি ধীরে ধীরে পরিণত হতে পারে কেবল একটি পরিত্যক্ত স্থাপনায়, নষ্টদের অভয়ারণ্যে। অনেক স্টেডিয়ামেই আমরা এমনটা হতে দেখেছি বলে একটা শঙ্কা অনুভব করছি। কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধিÑ এগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই সুন্দর স্থাপনাটিকে তার মূল রূপে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি আমরা। আসুন সবাই সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তুলি আমাদের অনেক সাধের চাওয়া এই খেলার মাঠ যেন সত্যিকারের একটি খেলার মাঠই হয়ে ওঠে। কোনো অসাধুদের নির্ভয়ারণ্য নয়।