× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আমানত সুরক্ষায় নতুন আইন

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত হোক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:২১ এএম

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত হোক

ব্যাংকিং খাতে বিগত সরকারের লাগামহীন দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের কারণে দেশের আর্থিক খাত আজ গভীর সংকটের মুখোমুখি। খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দায়িত্বহীন পরিচালনার জন্য ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা বারবার বিনষ্ট হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেই সংকট থেকে উত্তরণে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ব্যাংক দেউলিয়া সম্পর্কিত নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ ব্যাংক দেউলিয়া হলে সাধারণ মানুষ, আমানতকারী এবং পুরো অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়। সরকারের এই পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাই। 

আসলে দেশের ব্যাংক খাতে জনগণের আমানতের নিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায়। এ খাতের নানা অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ধসের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পেতে বিপাকে পড়েছেন। অথচ ১৯৮৪ সালে প্রণীত দি ব্যাংক ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স অর্ডিনেন্স, ১৯৮৪ এবং ২০০০ সালে কার্যকর হওয়া ‘ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০’ থাকলেও এমন সমস্যার পূর্ণ সমাধান দিতে পারেনি। যে কারণে বিশেষজ্ঞরা বারবার বলে আসছেন এই আইনগুলোতে প্রিমিয়াম সংগ্রহ, বিনিয়োগের সুরক্ষা, তহবিল ঘাটতি পূরণ কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংযোজনের কথা। ব্যাংকের পাশাপাশি ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোও পুরোপুরি আইনটির আওতার বাইরে। ফলে গ্রাহকের একটি বড় অংশ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তাহীন ছিল। এমনকি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের আর্থিক খাত পর্যালোচনা করে মতামত দিয়েছিল যে, বিদ্যমান আইন আন্তর্জাতিক ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা সময়সীমা বেঁধে ক্ষতিপূরণ প্রদান, নিয়মিত প্রিমিয়াম আদায়, আমানত সীমা পুনর্নির্ধারণ এবং করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে। এ প্রেক্ষিতে সরকার নতুন নিয়মে ‘আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবিত খসড়ায় কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি দেউলিয়া হলে সর্বোচ্চ ১৭ কার্যদিবসের মধ্যে আমানতকারীরা তাদের সুরক্ষিত অর্থ (সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা বা প্রকৃত আমানত যা কম) ফেরত পাবেন। এজন্য দুই আলাদা তহবিল ও নতুন কাঠামো থাকবে। এমন বিধান সংযুক্ত করে খসড়া প্রণয়ন করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘ব্যাংক দেউলিয়া হলে ১৭ দিনেই টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

অধ্যাদেশে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলোÑ আমানত ফেরতের সময়সীমা নির্ধারণ। কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি দেউলিয়া হলে অবসায়নকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সুরক্ষিত আমানতকারীর তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ ৭ কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ ফেরত দেবে। অতীতে ব্যাংক বন্ধ হলে মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর গ্রাহকরা অপেক্ষা করতেন। নতুন আইন কার্যকর হলে সেই দুঃসময় কাটবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।  উল্লেখ্য, নতুন আইনের প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে, জনগণের আমানত সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে দুটি পৃথক তহবিল গঠন করা হবে। একটি ব্যাংক কোম্পানির জন্য এবং অন্যটি ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য। দুটি তহবিলই আলাদা থাকবে, কোনো অবস্থাতেই একে অপরের অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হলে ফাইন্যান্স কোম্পানির টাকায় তার ক্ষতি পোষানো সম্ভব হবে না। তহবিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদ, যারা ‘ট্রাস্টি বোর্ড’ হিসেবে কাজ করবে। 

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, আইন থাকলেই কি ব্যাংক খাতের সংকট কমে যাবে? অতীতে আইনের আওতাধীন কোনো ধারার কি সঠিক প্রয়োগ হয়েছে। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে ব্যাংক খাতের বড় সমস্যা হলো রাজনৈতিক প্রভাব ও জবাবদিহির অভাব। বহু ব্যাংকের মালিক ও পরিচালকগণ নিয়মকে অনিয়মে পরিণত করেছেন। নতুন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমে এই অনিয়মগুলো বন্ধ করতে হবে। আইন কেবল কাগজে-কলমে থাকলে কোনো সুফল আসবে না। অন্যদিকে, নতুন দেউলিয়া আইন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীর আস্থা কিছুটা ফিরতে পারে। কারণ, কোনো দেশে ব্যাংক খাতের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতাই হচ্ছে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান শর্ত। পাশাপাশি আইনের প্রয়োগে যদি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়, তবে জন-আস্থাও বাড়বে।

আমরা মনে করি, আমানতকারীর স্বার্থরক্ষার অজুহাতে ব্যাংক মালিক বা পরিচালকদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা যাবে না। যারা ব্যাংক খাতকে দেউলিয়ার দিকে ঠেলে দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর দণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। কেবল আইনই নয়, এর প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা এখানে মুখ্য বিষয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে আরও স্বাধীন ও শক্তিশালী করা। কারণ তাদের ক্ষমতা যদি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে নতুন আইন কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। বলা বাহুল্য, ব্যাংক দেউলিয়া সংক্রান্ত নতুন আইন সময়োপযোগী পদক্ষেপ হলেও, এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। আমরা মনে করি, যদি জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, তবে এ আইন দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে বড় ভূমিকা রাখবে। অন্যথায় এটি কেবল অতীতের মতো আরেকটি অকার্যকর আইন হিসেবেই থেকে যাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা