মো. ইলিয়াস হোসেন
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:০১ এএম
আজকের বাংলাদেশ এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি। প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বৈশ্বিক তথ্যপ্রবাহের যুগে বেড়ে উঠেছে নতুন প্রজন্ম। এ প্রজন্মের চিন্তা, প্রত্যাশা এবং জীবনদৃষ্টি অতীতের রাজনৈতিক ধ্যানধারণা থেকে একেবারেই আলাদা। তারা শুধু আবেগে ভেসে যায় না; তারা তথ্য খোঁজে, প্রমাণ চায়, স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করে। ফলে, রাজনীতির পুরনো রূপ এখন আর যথেষ্ট নয়। আশির ও নব্বইয়ের দশকের প্রজন্ম স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নিজেদের ভূমিকাকে তুলে ধরেছিল। আর আজকের দিনে রাজনীতির সামনে এসেছে এক ভিন্ন বাস্তবতাÑ জেন-জি প্রজন্ম। ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ-তরুণীরা আজকের রাজনৈতিক ক্ষেত্রের অন্যতম প্রধান শক্তি। এরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রযুক্তি, বৈশ্বিক তথ্যপ্রবাহ এবং অনলাইন সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪ কোটি তরুণ ভোটার রয়েছে, যাদের একটি বড় অংশই জেন-জি প্রজন্মের। এই বিশাল ভোটারগোষ্ঠী এখন আর কেবল রাজনৈতিক দলীয় প্রতিশ্রুতিতে প্রভাবিত হয় না। তারা উন্নয়ন দেখে, তথ্য যাচাই করে এবং অনলাইনে যুক্তি খোঁজে। এই প্রেক্ষাপটে, একজন জনপ্রতিনিধি যদি নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে চান, তবে তাকে হতে হবে সময়োপযোগী, নৈতিক ও আধুনিক নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। সুতরাং একজন জনপ্রতিনিধি হতে হলে তাদেরকে যেসব বিষয়ে যোগ্য হতে হবে তা নিম্নরূপ :
১. সততা ও স্বচ্ছতা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য শর্ত। এই প্রজন্ম দুর্নীতি, ও ছলচাতুরী বক্তব্য বা ভন্ডামিকে প্রশ্রয় দেয় না। ২. এরা তথ্যপ্রযুক্তির ভেতরেই বড় হয়েছে তাই নেতাদেরকেও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ৩. মানবিকতা ও সহানুভূতি একজন নেতার প্রধান গুণ হয়ে উঠেছে। কর্মসংস্থান সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, মানসিক স্বাস্থ্যÑ এসব বিষয় নিয়ে বর্তমান প্রজন্ম জনপ্রতিনিধির কাছে আন্তরিক ভূমিকা প্রত্যাশা করে। এরা বৈষম্য ও অন্যায়কে সহ্য করে না। ৪. উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ছাড়া নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত/ প্রভাবিত করা সম্ভব নয়। ৫. দূরদর্শী ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব : এই প্রজন্ম এমন একজন নেতা চায়, যিনি জনগণকে শাসন করবেন না, বরং জনগণের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করবেন। তারা চায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিজেদের কণ্ঠস্বরের প্রতিফলন হোক।
রাজনীতির ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে নেতা সময়ের দাবি বুঝতে পারেন, তিনিই স্থায়ীভাবে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। তাই আজকের সময়ে আদর্শ জনপ্রতিনিধি হতে হলে শুধু প্রতিশ্রুতিতে নয়, বরং সৎ, স্বচ্ছ, প্রযুক্তি-সচেতন, মানবিক, উদ্ভাবনী, জবাবদিহিমূলক ও দূরদর্শী হতে হবে। বর্তমান এই জেন-জির যুগে এটাই হবে নেতৃত্বের মূল মানদণ্ড।