× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জ্বালানি তেল

পরিশোধন ক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নিন

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩৭ পিএম

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩৮ পিএম

পরিশোধন ক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নিন

প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত অপরিশোধিত তেল আহরণের পর পরিশোধন করে জ্বালানি উৎপন্ন হয়। বিশ্বে হাতে-গোনা কয়েকটি দেশে অপরিশোধিত তেলের খনি রয়েছে। এসব দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পর পরিশোধনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়। আমাদের দুটি জ্বালানি তেল শোধনাগারের একটি সরকারি এবং অপরটি বেসরকারি। সরকারি তেল শোধনাগারটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) শতভাগ মালিকানাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল), যা চট্টগ্রামে অবস্থিত। ১৫ লাখ টন তেল শোধনের সক্ষমতা সম্পন্ন এই শোধনাগারটি তৈরি হয় ১৯৬৮ সালে। প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করা ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এক সময় রপ্তানি করত। কিন্তু উৎপাদনের শুরুতে এই প্রতিষ্ঠানটির তেল পরিশোধন ক্ষমতা যা ছিল, আজও তাই রয়ে গেছে। ফলে গত ৫০ বছরে দেশে সরকারি-বেসরকারি কোনো খাতেই তেল পরিশোধনের ক্ষমতা বাড়েনি।

‘চাহিদা বাড়লেও শোধন ক্ষমতা একটুও বাড়েনি’ শিরোনামে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা এখন প্রায় ৭০ লাখ টন। গত ৫০ বছরের ব্যবধানে চাহিদা ৬০ লাখ টন বাড়লেও তেল পরিশোধন ক্ষমতা বাড়েনি একটুও। ফলে চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই পূরণ করতে হচ্ছে পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে। এতে প্রতিবছর খরচ হচ্ছে বাড়তি ডলার, যা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও বড় সংকট তৈরি করছে। অথচ আমাদের স্মরণে আছে, ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন ক্ষমতা বাড়ানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, প্রকল্পটি ১০ বছরেও অনুমোদিত হয়নি। 

জানা যায়, জ্বালানি তেল পরিশোধন ক্ষমতা বাড়াতে ‘ইনস্টলেশন অব ইআরএল-২’ নামের প্রকল্পটি নেওয়া হয় ২০১২ সালে। এরপর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) ১০ বার সংশোধন করায় প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা। তারপর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প প্রস্তাবটি জমা থাকলেও আর আলোর মুখ দেখেনি। অথচ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে সাশ্রয় হতো প্রায় ২৪ কোটি ডলার। এই পরিশোধনাগারের সক্ষমতা ধরা হয়েছিল বছরে ৩০ লাখ টন।

বিপিসির হিসাবে, বাংলাদেশ বর্তমানে বছরে বিভিন্ন ধরনের ৩০ লাখ ৬৩ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। এ ছাড়া বছরে অপরিশোধিত তেল আসে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার টন। বাংলাদেশ অপরিশোধিত তেল কেনে মূলত সৌদি আরবের সৌদি আরামকো এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি থেকে। আর পরিশোধিত তেল কেনে কুয়েত, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভারতের আটটি কোম্পানি থেকে।

পরিশোধিত তেল আমদানির চেয়ে ক্রুড অয়েল আমদানি করে যদি পরিশোধন করা হয়, তাতে খরচ তুলনামূলক কম পড়ে। কিন্তু পরিশোধনের সক্ষমতা না থাকায় সেই সুযোগটি হারাতে হচ্ছে। প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ক্রুড অয়েল এনে পরিশোধন করা হলে পরিশোধিত তেল আমদানির তুলনায় প্রতি ব্যারেলে সাশ্রয় হয় প্রায় ১৮ ডলার। এই হিসাবে পরিশোধন সক্ষমতা না থাকায় জ্বালানি তেলের পেছনে বছরে বেশি খরচ পড়ছে প্রায় ৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা।

আমাদের প্রতিবেশী দেশে তেলের বড় খনি না থাকলেও, শুধু পরিশোধিত তেল বিক্রির মাধ্যমে দেশটি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। পাশাপাশি বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রাখছে। অথচ আমাদের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পরিশোধনাগার না থাকায় তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আমরা যদি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়াই তাহলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মোটানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। আবার উদ্বৃত্ত পরিশোধিত তেল রপ্তানির মাাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথও সুগম হবে। স্বাধীনতার পর আমরা গত ৫০ বছরে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ ছিল না। 

আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, ইরাক-কুয়েত যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে সংকট এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের যে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়, তার প্রভাব পড়ে আমাদের ওপরও। সেই সংকট থেকে আজও আমরা মুক্ত নই। কাজেই জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে সরকারের উদ্যোগী হওয়া জরুরি। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা