শিক্ষা
হোসেন আবদুল মান্নান
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৫৯ পিএম
চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষা বছরে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কলেজে ভর্তি নিয়ে চলছে নানা জটিলতা ও শঙ্কা। কয়েক বছর আগে ২০১৫-১৬ সালের দিকে অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদন করার নীতিমালা চালু হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত কলেজগুলো ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীদের নাগালের বাইরে চলে যায়। তাদেরকে কয়েকবার নিকটবর্তী কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে টেলিটকে ২২০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করতে হচ্ছে। তারা স্ব-স্ব রেজাল্টের ওপর নির্ভর করে একাধিক অপশনসহ আবেদন করে থাকে। নিশ্চিত করার পরও নির্বাচিত না হলে পুনরায় ২২০ টাকা জমা দিয়ে একই নিয়মে আবেদন করতে হচ্ছে। সুযোগ না আসা অবধি এভাবে অন্তত চারবার করতে হয়। প্রতিবারই কম্পিউটারওয়ালাকে ১০০ টাকা দিতে হচ্ছে।
জানা যায়, টাকাগুলো সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের হিসাব নম্বরে জমা হয়ে যায়। এতে করে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকগণ নানাবিধ বিপত্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদেরকে ১ম পর্যায়, ২য়, ৩য় এবং সর্বশেষ ৪র্থ ধাপেও ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। মফস্বলের সাধারণত ছাত্র-ছাত্রীদের টার্গেট থাকে জেলা পর্যায়ের ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া, যা তাদের জিপিএ গ্রেড অনুযায়ী সম্ভব হয়ে ওঠে না। এতে কিছু ছাত্র-ছাত্রী ভালো কলেজ পেলেও গ্রামের কলেজসমূহ ছাত্র-ছাত্রী পাচ্ছে না। অথচ দেশব্যাপী ইউনিয়ন পর্যায়ে এমনকি পাড়াগাঁয়ে অসংখ্য অনুমোদিত কলেজের অস্তিত্ব রয়েছে। তাদেরও যথাযথ সরকারি ইন নম্বর এবং কোড নম্বর রয়েছে। গতানুগতিক বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভর্তির জন্য তারা কলেজের পাশে বসবাসকারী ছাত্র-ছাত্রীদেরও নাগাল পাচ্ছে না। ছাত্ররা শহরের রঙিন আলোর হাতছানিতে সাড়া দিয়ে সবান্ধব চলে যাচ্ছে। অথচ এসব কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল গ্রামীণ পিছিয়ে থাকা নিম্ন-মধ্যবিত্ত সাধারণ গরিব পরিবারের মেধাবী ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগকে সামনে এনে দেওয়ার মতো মহত্ত্বের কথা বিবেচনা করে। এমনকি আজকে এমপিওভুক্ত স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলোর চিত্রও অভিন্ন।
ছাত্ররা পাস করে একই ক্যাম্পাসে পড়ার আগ্রহ প্রদর্শন করছে না। তারা চলে যাচ্ছে অন্যত্র। গড়ে শতকরা ১০ জনের মতন একই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছে। বাকিরা যাচ্ছে দূরের অনিশ্চিত গন্তব্যে। অথচ গণহারে দেশের পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোকে রাতারাতি স্কুল অ্যান্ড কলেজে রূপান্তরিত করে দেওয়া হচ্ছে। কেউ জানে না, কার স্বার্থে কলেজ হয়ে যাচ্ছে? এতে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকই থেকে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ হয়ে। তিনি তার স্কুল দেখবেন নাকি নতুন কলেজের দিকে নজর দেবেন? এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্কুলগুলোকে আর উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের কলেজ না করার জাতীয় সিদ্ধান্ত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
দুই.
এ ক্ষেত্রে আরও একটা ভয়াবহ তথ্য হলো, এখনকার সন্তানরা বাবা মা’র সিদ্ধান্ত মেনে নিতে চাচ্ছে না। তারা তো জেন-জি! তাদের চিন্তায় তারা অটল থাকছে। অভিভাবকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে বাসা থেকে দূরবর্তী শহুরে কলেজে গিয়ে ভর্তি হবেÑ এমনকি হোস্টেলে থেকে পড়ার বায়না ধরছে।
বন্ধুবান্ধব নিয়ে সময় কাটাবে। তাদের অধিকতর স্বাধীনতা চাই। এতে অভিভাবকের আর্থিক সংগতি আছে কি নাÑ তা তাদের কাছে মোটেই গুরুত্ব পাচ্ছে না। এরা বাবা- মা’র অসহায়ত্ব দেখছে না। যা সত্যিই অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুর্ভাগ্যজনক। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার বিগত ১৬ বছরের মধ্যে তুলনামূলক হিসাবে সবচেয়ে কম হওয়ায় এই জাতীয় কলেজগুলো পড়েছে দারুণ বিপাকে।
এ বছর ভর্তি নিয়ে তারা রীতিমতো এক বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। তারা ছাত্র-ছাত্রীর জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়ে নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েও ভর্তি করাতে আশাহত হচ্ছে। কোনো কোনো গ্রামীণ কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থানে স্থানে ব্যানার ঝুলিয়ে, মাইকিং করে বিনা বেতনে ভর্তি করার ঘোষণা দিচ্ছে। ছাত্রদের একপ্রকার প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। তথাপি প্রত্যাশিত ছাত্র-ছাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। অবস্থাটা এমন যে, শহরে বা পৌর এলাকার কেজি (কিন্ডারগার্টেন) স্কুলে প্লে গ্রুপের শিশুর বেতন কয়েক হাজার টাকা। আর গ্রামের বেসরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনাবেতনে ছাত্র-ছাত্রী চাওয়া হচ্ছে। কী বিচিত্র এই দেশ! তবে এ কথাও সত্য যে, বিনামূল্যে বা বিনাবেতনে কোয়ালিটি এডুকেশন প্রত্যাশা করা অরণ্যে-রোদন।
এ হেন পরিস্থিতিতে বলা যায়, সারা দেশের তৃণমূল থেকে একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং সুযোগ এনে দেওয়ার যে মহতী আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সরকার গ্রামীণ জনপদের কলেজগুলোকে স্বীকৃতি তথা এমপিওভুক্তির আওতায় নিয়ে আসছে, এমন হলে তা ধীরে ধীরে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। মনে হচ্ছে, এসব স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সরকার থেকে পূর্ণাঙ্গ মাসিক বেতনভুক্তি সম্পন্ন (এমপিও) প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের অতীত গৌরব এবং শিক্ষার মানদণ্ডে অচিরে পিছিয়ে পড়বে। কারণ তারা বেসরকারি হলেও শতভাগ সরকারি সুযোগ প্রাপ্ত। এদের দায়বদ্ধতার বা জবাবদিহিতার জায়গাটি সংকুচিত হয়ে গেছে। এখন ছাত্র-ছাত্রী পাওয়া না পাওয়ার সঙ্গে তাদের বেতন বা পদোন্নতি প্রাপ্তিতে কোনো বাধা নেই। এতে ছাত্রের সংখ্যা শূন্য হলেও শিক্ষকের ক্ষতিবৃদ্ধি নেই। কী অদ্ভুত আত্মঘাতী পথে হাঁটছে দেশ!
তিন.
সমস্যা হচ্ছে, একেবারে নতুন কলেজগুলোর ক্ষেত্রে, তারা ছাত্র ছাড়া চলবে কীভাবে? কলেজের মতো একটা মোটামুটি বৃহদাকার এস্টাবলিশমেন্টকে পরিচালনার আর্থিক সহায়তা ব্যক্তি উদ্যোগে কত দিন সম্ভব হবে? অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, গ্রামীণ জনপদের এই কলেজগুলোর জন্য ছাত্র-ছাত্রীর প্রয়োজনীয়তা এমপিও কলেজগুলোর চেয়েও অধিক। এদেরকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পারিবারিক যোগাযোগে ভর্তির একটা সুযোগ করে না দিলে প্রতিষ্ঠানসমূহ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এমন বাস্তবতার নিরিখে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকারকে ভাবতে হবে। নতুন কলেজগুলোর জন্য বিশেষ বিবেচনায় হলেও তা করা সময়ের দাবি।
একই সঙ্গে বলা যায়, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সাবজেক্ট বা বিষয় পরিবর্তনের ঝক্কি-ঝামেলার কথা। নতুন কলেজের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডই যথারীতি বিষয়গুলো অনুমোদন করে থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে ছাত্র-ছাত্রীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বা শিক্ষকের স্বল্পতার কারণে কোনো একটা বিশেষ সাবজেক্ট পরিবর্তন করতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যন্ত কয়েক মাস দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে। একজন স্কুল-কলেজের শিক্ষকের পক্ষে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের সুযোগ কতটুকু? কীভাবে অনুমোদন করিয়ে নেবেন? এটা ভাবা যায়? তাই সাবজেক্ট পরিবর্তন করার এখতিয়ারটুকু বোর্ডের হাতে রাখাই বাস্তব এবং যৌক্তিক বলে মনে হয়।
জানা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে একটা বিশেষ সিদ্ধান্ত হয়ে আছে, তা হলো দেশের চারটি মাত্র অভিজাত এবং ঐতিহ্যবাহী কলেজের ক্ষেত্রে অনলাইন আবেদন পদ্ধতির সুযোগ রাখা হয়নি। কলেজগুলোÑ ঢাকা কলেজ, নটর ডেম কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ এবং হলিক্রস কলেজ। রাজধানীর এই চার কলেজকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। বৈষম্যের প্রশ্ন উত্থাপিত হলেও সত্য যে, এ কলেজগুলো সরকারি নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে না। তারা নিজেরাই নিজেদের প্রশ্নে মানসম্মত যাচাই-বাছাই এবং পরীক্ষাপূর্বক ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করে এবং শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করে। দৃশ্যত মনে হবে এক দেশে দুই আইন।
চার.
সারা দেশে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হিসাবে আমাদের কোটি কোটি ছাত্র-ছাত্রী আছে। শিক্ষার হার বেড়ে ৭৩% হয়েছে। বলা হয়, দেশে ছয় কোটির বেশি ছাত্র-ছাত্রী আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে হাজার হাজার স্থাপনা গড়ে উঠেছে গ্রামে-পাড়া-মহল্লায়। চারতলা-ছয়তলা প্রটো-টাইপ বিল্ডিং হয়েছে সর্বত্র, এর বিস্তার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, হাইস্কুল এবং কলেজ পর্যন্ত। ছয়তলা ভবন যেখানে একটা আস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান সংকুলান হওয়া সম্ভব। কিন্তু সারি সারি তলা শূন্য পড়ে আছে, কাজে লাগছে না। এর রক্ষণাবেক্ষণ কে করে? কত দিন টিকে থাকবে এসব অব্যবহৃত কক্ষগুলো? ছাত্র-ছাত্রী কোথায়? তারা কী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে?
কে ফেরাবে তাদের? স্কুল, কলেজে হাজিরার গুরুত্ব কী এখন আছে? এইসব বিশাল বিশাল অট্টালিকা কবে ছাত্র-ছাত্রীদের পদভারে প্রকম্পিত হবে? তাহলে কার স্বার্থে এমন বিপুল ব্যয়? এগুলো কী সরকারি অর্থের অপচয় নয়? জানা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুটো ফ্লোরও কাজে লাগেনি। অথচ বাইরে থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখতে হয় কত বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ভেতরে কত প্রকার শিক্ষা কার্যক্রম?
পক্ষান্তরে দেশব্যাপী ব্যাঙের ছাতার মতন গড়ে উঠেছে অবৈধ কোচিং সেন্টারের বাণিজ্য। তারা রাস্তার পাশে একটা কক্ষ ভাড়া নিয়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজ নাম দিয়ে দিবালোকে গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীকে পড়াচ্ছেন। যার সরকারি স্বীকৃতি নেই ও সম্পূর্ণ বে-আইনি।
জানা যায়, তারা ছাত্রদের স্কুলে না যাওয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করে চলেছে। বলছে, কোচিং সেন্টার থেকেই তারা অন্য কোনো স্কুল বা কলেজের সহযোগিতা নিয়ে এবং বোর্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক করে এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেবে। এবং তা-ই করা হচ্ছে। এগুলো দেখার কেউ নেই! মনে হয়, একদিন চিত্রটা এমন হবে যে, স্কুল-কলেজ পড়ে থাকবে ফাঁকা, শিক্ষকদের বেতন-ভাতাদি, পদোন্নতি যথাসময়ে সরকার দিয়ে যাবে। ছাত্র-ছাত্রীরা অবাধ স্বাধীনতা পেয়ে এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করতে পারবে। পরীক্ষার নামে একটা ভূঁইফোড় প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে সনদ সংগ্রহ করে নেবে। অথচ এগুলো দেখার জন্য অফিস আছে, সরকারি চাকরি আছে, খাতাপত্র রেজিস্টার আছে। তবে প্রশ্ন করার জন্য কেউ থাকবে না। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীরা দিব্যি এদের সঙ্গেই আছেন। যেন সকলে মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকবে এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা।
পাঁচ.
একই সঙ্গে বলা যায়, স্কুলে ভর্তি হতে লটারি পদ্ধতির কারণে মেধাবী ছাত্র-শিশুরা ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পাচ্ছে না। এসব ছাত্র মধ্যম মানের বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে মানসিকভাবে তৃপ্ত থাকছে না। জানা যায়, এতে করে লেখাপড়ায় তাদের অমনোযোগিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকগণ উদ্বিগ্ন থাকছেন। যদিও সবাই বলে থাকেন, স্কুল-কলেজ উন্নত হলেই ভালো রেজাল্ট হয় না। ভালো রেজাল্টের জন্য প্রয়োজন ভালো পড়াশোনা। এখন সময়ের পরিক্রমায় এগুলোও যেন বদলে গেছে। বরং ভালো পরিবেশই ভালো ফলাফল এনে দেয়।
জানা গেল, এ বছর শতাধিক কলেজ ভর্তির জন্য কোনো ছাত্র-ছাত্রী পাচ্ছে না। অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহার করার কারণে পছন্দের তালিকায় থাকছে না নতুন এবং অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত অথচ মানসম্মত প্রান্তিকের কলেজগুলো। ফলে শূন্য ভর্তি নিয়ে শিক্ষাবর্ষ পার করার ঝুঁকিতে পড়বে অসংখ্য গ্রামভিত্তিক কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষানীতি ও কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ ছাড়া সমাধানের পথ কী?