× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উপকূলীয় জনপদের দুঃখ

রিয়াদ হোসেন

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:২৬ এএম

উপকূলীয় জনপদের দুঃখ

প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরের পর বছর ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে উপকূলীয় জনপদের মানুষ। একের পর এক আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে তারা। বারবার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হচ্ছে লোকালয়। বছরের অর্ধেকের বেশি সময় ধরে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এর মধ্যে রয়েছে খাবার পানির তীব্র সংকট, লবণাক্ততা বৃদ্ধিতে কমছে ফসলি জমির পরিমাণ। এভাবে প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো সমস্যা আর সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তারা টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু কাজের অগ্রগতি নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ের অভাবসহ নানা সমস্যায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে ধীরগতিতে। আড়াই হাজার কোটি টাকার দুটি মেগাপ্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান থাকলেও বাস্তবায়নে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। ফলে বছরের এই সময় এলে উপকূলীয় এই বেড়িবাঁধে কোথাও না কোথাও ভাঙন দেখা দিচ্ছে। আবার কখনও কখনও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বেড়িবাঁধ উপচে পড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ফলে মানুষের বসতবাড়িসহ মৎসঘের, স্কুল-কলেজ দীর্ঘসময় ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের তিন জেলায় ২ হাজার ১৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বছরের বর্ষা মৌসুম আসলেই বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ এই অংশে ভয়াবহ অবস্থা দেখা দেয়। আমরা দেখেছি, বেড়িবাঁধের কোনো অংশে ফাঁটল দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসন বা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে খবর দেওয়া হয়। বাঁধ সংস্কারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানানো হয়। কিন্তু বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, বাঁধ ভেঙে গিয়ে কয়েক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ড বালির বস্তা বা অন্যান্য উপকরণ নিয়ে হাজির হয়। 

আমরা দেখেছি, উপকূলীয় জনপদে সরকার ইতোমধ্যে যতগুলো প্রকল্প হাতে নিয়েছে তার বেশিরভাগ জায়গায় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতার কারণে কাজের গতি কমে এসেছে। মাঠ পর্যায়ে কাজের প্রতি আন্তরিকতার ঘাটতিও এর পিছনে অন্যতমভাবে দায়ী। কখনও কখনও দেখা গেছে, কাজের ক্ষেত্র কাছাকাছি হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। যার ভোগান্তি পোহাতে হয় স্থানীয় ভুক্তভোগীদের। এজন্য উপকূলীয় সংকট নিরসনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় করার বিকল্প নেই। অনেক সময় দেখা যায়, উপকূল রক্ষায় সরকার নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। কিন্তু যারা ভুক্তভোগী সেখানে তাদের কোনো অংশগ্রহণ নেই। তাদের কোনো মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না। 

এসব প্রকল্পে যাতে দুর্নীতি না হয় বা প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করে কাজের গতি যাতে কমে না আসে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখবে। বারবার সংস্কারের নামে অর্থের অপচয় না করে একবারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্তরিক হবে। সর্বোপরি সরকার যদি স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মীদের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারে তাহলে নিশ্চয় সে পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় জনপদকে অসীম ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে। 

  • শিক্ষার্থী, সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা