অলিউর রহমান ফিরোজ
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:১৬ এএম
দেশজুড়ে এখন ডেঙ্গুর ভয়াবহ মাতম। ঘরে ঘরে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন মহামারিতে রূপ নিয়েছে। এক ঘরের ছেলে ভালো হয় তো মেয়েকে নিয়ে ছুটতে হচ্ছে হাসপাতালে। এভাবেই একে একে ঘরের সবাই ডেঙ্গুতে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং ভাইরাস জ্বরের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এখন ভয়াবহ নাকাল হচ্ছেন। তার অন্যতম কারণ হলোÑ সরকার ডেঙ্গুরোধে ঢাকঢোল পেটালেও হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করছে না। আবার করলেও তা বেহাত হয়ে যাচ্ছে। ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রথমতো রক্তে স্যালাইন পুশ করা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু তা হাসপাতাল থেকে বরাদ্দ করা হচ্ছে না। স্যালাইন পুশ করতে তার সরঞ্জামাদি আবার বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে। বমির ওষুধ হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না।
ডেঙ্গু চিকিৎসায় তরল খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। একটি ডাবের দাম ১৫০ টাকা। ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে তার দাম আরও বেশি। এক কেজি মালটা ৩৫০ টাকা। তাই একজন গরিব রোগী ওষুধ কেনার পর আর পথ্য খেতে পারেন না। আবার অনেক রোগীকে দেখেছি সামান্য স্যালাইন কেনারও টাকা নেই। তাইতো সরকারের ডেঙ্গু চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোকে সতর্কতার পাশাপাশি ওষুধের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে হবে। তারপর আসে ডেঙ্গুর আবাসস্থল ধ্বংসের কাজ। সেগুলো প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে। এখন আর শহরের মধ্যে ডেঙ্গুর আবাস সীমাবদ্ধ নেই। মফস্বলেও ছড়িয়ে পড়েছে মহামারি।
এ বছর ৪০ হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মারা গেছে দেড় শতাধিকের বেশি। একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬২২ জনের মতো। আর প্রতিনিয়তই এখন ৫ থেকে ৬ জন রোগী মারা যাচ্ছে। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এখন চলছে দালালদের দৌরাত্ম্য, টেস্ট বাণিজ্য, ডাক্তারদের গাফিলতি, অনিয়ম আর ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি।
ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়া রোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের তেমন ধারণা না থাকায় হাসপাতালের দালালরা এ সুযোগ নিচ্ছেন। অনেক ডাক্তার রয়েছেন হাসপাতালের রোগীকে তাদের চেম্বারে দেখানোর কথা বলে থাকেন। সেখানে দেখালেই আবার সে ডাক্তার টাকার বিনিময়ে হাসপাতালের বেডে এসে রোগী দেখে যান। নিজের ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর এমন ভয়াবহ দৃশ্য নিজের চোখে অবলোকন করেছি। রোগীর ভয়াবহ চাপে হাসপাতালগুলো এখন পর্যুদস্ত। হাসপাতলের কোথাও শৃঙ্খলা নেই। রোগীর চাপ থাকলে কীভাবে তা সামাল দেওয়া হবেÑ তার কোনো সঠিক দিকনির্দেশনা নেই। ডাক্তাররা হাসপাতালে দায়সারগোছের রোগী দেখে সময়ের আগেই প্রাইভেট ক্লিনিকে দৌড়াচ্ছে। একটি রোগীর রোগ সম্পর্কে বলতে যে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে তাও ডাক্তাররা শুনতে চান না। এই দুর্ভোগ কবে থামাবে?
মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ