× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পর্যবেক্ষণ

খরগোশ ঘুমালে কচ্ছপ জয়ী হয়

মহিউদ্দিন খান মোহন

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:১৩ পিএম

খরগোশ ঘুমালে কচ্ছপ জয়ী হয়

মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বড়সড় দুটি ধাক্কা খেয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মশ্লাঘায় আচ্ছন্ন বিএনপি। প্রথম ধাক্কাটি খেয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর। সেদিন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। অপর ধাক্কাটি এসেছে মাত্র দুদিন পর ঢাকা-সংলগ্ন সাভার থেকে। ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনেও বিএনপির ছাত্রফ্রন্ট ছাত্রদল নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে বর্জনের ঘোষণা দিয়ে মুখ রক্ষার চেষ্টা করেছে। এ দুটি ঘটনা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নড়বড়ে সাংগঠনিক অবস্থার জানান দিয়েছে, এটা অস্বীকার করা যাবে না। ডাকসুতে ভূমিধস পরাজয়ের পর কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলছেন, দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের কারণে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারায় তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি সেভাবে নিতে পারেনি। কৈফিয়ত হিসেবে তা একেবারে মন্দ নয়। তবে একই ঘটনা তো ইসলামী ছাত্রশিবিরের বেলায়ও ঘটেছে। তারও তো লীগ শাসন আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। আর জাহাঙ্গীরনগরে তো অলিখিত নিষিদ্ধই ছিল শিবির। অথচ আওয়ামী লীগের পালিয়ে যাওয়ার এক বছরের মধ্যে শিবির এতটা শক্তিশালী হতে পারলে ছাত্রদল পারল না কেন? 

এই কেন-এর জবাব এককথায় দেওয়া মোটেই সম্ভব নয়। এটা ঠিক আওয়ামী লীগের পুরো শাসনামলে বিএনপি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নয়, দেশের কোথাও বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনগুলো রাজনৈতিক-সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতে পারেনি। প্রকাশ্যে তো দূরের কথা, নেতাদের বাসাবাড়িতে মিটিং করতে গেলেও পুলিশ-র‌্যাব হাজির হতো ‘নাশকতার ষড়যন্ত্র হচ্ছে’- এই বায়বীয় অভিযোগ নিয়ে। একই অবস্থা ছিল জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্র শিবিরেরও। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ছাড়াও ক্ষমতার আয়ু শেষ হওয়ার পূর্বমুহূর্তে লীগ সরকার দলটিকে নিষিদ্ধও করেছিল। সে নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়েছে হাসিনার পতন-পলায়নের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। এটা বলা নিশ্চয়ই অত্যুক্তি হবে না যে, ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশে একই সময় থেকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী অবাধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অধিকার ফিরে পেয়েছে। কিন্তু অবাধ রাজনীতির এই সময়কে কাজে লাগিয়ে জামায়াত তথা ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের সাংগঠনিক শক্তি মজবুত করেছে। যে কারণে একসময় যে সংগঠনকে বৃক্ষ হিসেবে ব্যবহার করে তারা স্বর্ণলতার মতো বেড়ে উঠেছে, সেই সংগঠনকেই খেয়ে ফেলতে উদ্যত হয়েছে। এটাকে শিবিরের সাংগঠনিক কৌশল হিসেবে ধরাটা ভুল হবে না বোধহয়। কেননা, যেকোনো সংগঠন তার নিজস্ব স্বার্থে আরেকটি সংগঠনের ওপর যেমন ভর করতে পারে, তেমনি প্রয়োজনে সে সংগঠনের ক্ষতিসাধন করে হলেও নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণের চেষ্টা করবে। যেহেতু রাজনীতি হচ্ছে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। এখানে কেউ কাউকে ছাড় দেয় না, দেওয়াটা সমীচীনও নয়। তা ছাড়া রাজনীতিকে অনেকে ‘আর্ট অব ডিভাইস’ও বলে থাকেন। যার অর্থ বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কৌশল বা ফন্দি।

জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের অস্তিত্ব রক্ষা ও বেড়ে ওঠার জন্য একসময় বিএনপিকে ‘ছায়াবৃক্ষ’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। এখন তারা নিজেদেরকেই মহীরুহ মনে করছে। ফলে এককালের আশ্রয়দাতা বিএনপিকে খাদে ফেলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যদি তারা শক্তিমত্তা প্রদর্শন করে, অবাক হওয়ার কিছু নেই। এখানে অপরাধেরও কিছু নেই। তবে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর বা দেশের অন্য দু-চারটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়ে যাবে না, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড়সড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে বা জনপ্রিয়তায় বিএনপিকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। কেননা, জাতীয় রাজনীতিতে নানারকম হিসাব-কিতাব, মানে সমীকরণ থাকে। সেসব মেলাতে ভিন্নরকম কৌশল নিতে হয়; যার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের ছাত্ররাজনীতি বা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সাযুজ্য নেই।

ডাকসুতে লজ্জাকর পরাজয় ও জাকসুতে লড়াই শেষ না হতেই বক্সিং রিংয়ের বাইরে চলে যাওয়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নড়বড়ে সাংগঠনিক অবস্থারই জানান দিয়েছে। এই সাংগঠনিক দৌর্বল্য একদিনে হয়নি। দীঘদিনের সাংগঠনিক অব্যবস্থাপনার কুফল এবার প্রকাশ্যে এসেছে। বিগত বছরগুলোতে ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্ররা স্থান পেয়েছে খুব কম। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্কহীন তরুণদের দিয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছে নানা স্তরে। কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ে অছাত্রদের সমন্বয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমনও দেখা গেছে, স্কুল পাস না করা দোকান কর্মচারী, পরিবহন শ্রমিক কিংবা আইসক্রিম বিক্রেতা তরুণকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানলাম, আমার নিজের উপজেলা (মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর) ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কারোরই স্কুল-কলেজের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। এখন স্থানীয় কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তো বহিরাগত হিসেবে ক্যাম্পাসেই প্রবেশ করতে পারবে না। তাছাড়া অধ্যয়নরত কলেজ শিক্ষার্থীরা বহুদিন আগে স্কুল-কলেজ প্রাঙ্গণত্যাগী এসব তথাকথিত ছাত্রনেতাদের পাত্তা দিতে যাবে কেন? আরও জানলাম, কোনো এক অলৌকিক আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে ওই এলাকার ‘সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত’ হিসেবে পরিচয়দানকারী নেতাজি তার শক্তির বলয়কে মজবুত করার জন্য এসব কমিটি বানিয়েছেন।

আমার মনে হয়, যদি খোঁজ নেওয়া হয়, তাহলে সারা দেশে একই চিত্র পাওয়া যাবে। অভিভাবক সংগঠন বিএনপির ব্যক্তিস্বার্থবাদী নেতারা তাদের দল ভারী করার জন্য ছাত্রদল-যুবদলে সমাজে অগ্রহণযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বসিয়েছে। এতে ওই নেতার হাত হয়তো শক্তিশালী হয়েছে, তবে দলের হাত শক্তিশালী হওয়া তো দূর কি বাত, বরং আরও দুর্বল হয়েছে।

শিবিরের এই আকস্মিক উত্থান ও ছাত্রদলের হীনবল অবস্থার সমীকরণ অনেকেই মেলাতে পারছেন না। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নিজেদের রাজনীতির বিশ্বসেরা ‘হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী’ হিসেবে জাহির করা ছাত্রদল শিবিরের কাছে এভাবে ‘নকআউট’ হবে এটা অনেকেই ধারণা করেননি। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। প্রথমত. আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকেই শিবির মনোযোগ দিয়েছে তাদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে। অন্যদিকে ছাত্রদল মনোযোগ দিয়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ফেলে যাওয়া সাম্রাজ্য দখলে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমিজিরাত দখল, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তোলা আদায়, বাসস্ট্যান্ড, ট্রলারঘাট, মাছের আড়ত, অটোরিকশাস্ট্যান্ড দখলের মতো জনঘৃণিত কাজে তারা বীরবিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে এ প্রতীতী জন্মেছে যে, আওয়ামী লীগের পতন হলেও দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি বিএনপির মাধ্যমে ফিরে আসছে। আর এ সুযোগটি সার্থকভাবে ব্যবহার করে চলেছে একসময়ের জোট ও ভোটসঙ্গী জামায়াত। 

শিক্ষাঙ্গনে তাদের কর্মীরা কথাবার্তা-আচরণ দ্বারা যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি ও সমর্থন আদায়ে তৎপর থেকেছে, ওই সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘বিগ ব্রাদার’ সেজে এমন সব কাজকর্ম করেছে, যে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের কাছ আসার পরিবর্তে দূরে সরে গেছে। ফলে ভোটের সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর ভোটার সাধারণের সঙ্গে ছাত্রদলের দূরত্ব অনতিক্রম্য হয়ে ওঠে। যে কারণে ভিপি-জিএস পদে অপেক্ষাকৃত ভালো প্রার্থী দিয়েও ডাকসু-জাকসুতে ছাত্রদল কাঙ্ক্ষিত ফললাভ করতে পারেনি। 

বিএনপি একটি কোন্দলসর্বস্ব দল এটা অস্বীকার করা যাবে না। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত দ্বন্দ্ব-কোন্দলে জর্জরিত দলটি। এমন কোনো জেলা-উপজেলা নেই যেখানে কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচটি গ্রুপের অস্তিত্ব নেই। এই গ্রুপিংয়ের ভাইরাস ছাত্রদলকেও আক্রান্ত করেছে। শোনা যায় ডাকসুতে ভিপি-জিএস মনোনয়ন নিয়ে মতবিরোধ ছিল ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির পক্ষ থেকে গঠন করে দেওয়া ‘তত্ত্বাবধান কমিটি’র সঙ্গে। এর ফলে ছাত্রদলের সবাই মনোনীত প্যানেলের পক্ষে কাজ করেনি, ভোটও দেয়নি। এমনকি ভোটগ্রহণের আগের রাতে ‘সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন ছাত্রদল নেতাকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয়েছে। খবরটি সেদিন বাইরে না এলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে তা চাউর হতে সময় লাগেনি। আর ভোটের রাজনীতিতে একটি সামান্য ঘটনা যে মুহূর্তেই বাতাস ঘুরিয়ে দিতে পারে সেটা নিশ্চয়ই সবার জানা। 

কথা উঠেছে ডাকসু-জাকসু নির্বাচনের কোনো প্রভাব আগামী সংসদ নির্বাচনে পড়বে কি না বা কতটুকু পড়বে। যেহেতু ডাকসুসহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা-স্বজনরা এবং তারা নিজেরাও সংসদ নির্বাচনের ভোটার, তাই এর একটা প্রভাব অবশ্যই পড়বে। তাছাড়া আগামী নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবে প্রায় চার কোটি নতুন ভোটার। রাজনীতি ও ভোটের বিষয়ে তাদের মনস্তত্ত্ব সম্বন্ধে এরই মধ্যে যে আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তাতে এটা পরিষ্কার, নবীন এই ভোটাররা প্রচলিত রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেবে না। বিএনপি যদি নতুন প্রজন্মের এই মনস্তত্ত্ব পড়তে না পারে, তাহলে তাদেরকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। বাস্তবতা অনুধাবনের চেষ্টা না করে তারা যদি ডাকসু-জাকসু নির্বাচনের মতো ‘আমরা অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ ভেবে ঈশপের গল্পের খরগোশের মতো ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে কচ্ছপ গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে মঞ্জিলে মকসুদে পৌঁছে যেতে পারে।

  • সাংবাদিক ও কলাম লেখক
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা