× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডাকসু নির্বাচন

পক্ষ-বিপক্ষের প্রতিপক্ষ

আহসান কবির, কলাম লেখক

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৫০ এএম

পক্ষ-বিপক্ষের প্রতিপক্ষ

‘জনরায়কে অশ্রদ্ধা করতে নেই।’ এটা প্রয়াত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কথা। তার ছোট ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর বন্ধু, সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত, নির্বাচনে জিতে আসা বিতর্কিত একজনকে শ্রীমতী ইন্দিরা ক্ষমতার স্বাদ দিয়েছিলেন। ভারতজুড়ে এর সমালোচনা শুরু হলে তিনি বলেছিলেন, মানুষ যদি ভোট দিয়ে কাউকে জিতিয়ে আনে বুঝতে হবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য মানুষ তাকে ক্ষমা করে একটা সুযোগ দিয়েছে!’

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা ও বিশ্লেষণ বের হচ্ছে। আজ সকালে একটা কবিতা লিখেছিলাম সামাজিক মাধ্যমে, যেটাকে ডাকসুর ফলাফল নিয়ে লেখা ভেবেছেন অনেকে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যে ছাত্রদল তুমুল জনপ্রিয় ছিল, যে ছাত্রদল সারা দেশের সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে জিতে যাওয়ার রেওয়াজ তৈরি করেছিল তারা কেন এভাবে হারল? এমন ফলাফল কি আগে হয়নি?

এক. ২০১৯ সালে ডাকসু ভিপি হয়েছিলেন নুরুল হক নুর। সে সময়ে ২০২৫-এর নির্বাচিত ভিপি আবু সাদিক কায়েম ছাত্রলীগ বা ‘গুপ্ত শিবির’ করতেন। ভিপি পদে ছাত্রদল কি সেবার ৫০০ ভোট পেয়েছিল? যতই বিতর্কিত হোক নির্বাচন, এত কম ভোট কেমন করে পায়? ছাত্রদল সেবার কেন্দ্রে একটি আসনও পায়নি! ২০২৫-এ ছাত্রদল একই ফল বজায় রেখেছে! সরকার যাবে সরকার আসবে ছাত্রদলের ফলাফল কি ভালো হবে না?

দুই . এবারের ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে ‘গুপ্ত’ বলতে পারবেন কিন্তু জুলাই জাগরণে তিনি সম্মুখযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘাতক দালালদের ছবিও টানিয়েছিলেন, যা পরে প্রতিরোধের মুখে খুলে ফেলা হয়। ছাত্রদলের পরাজিত আবিদও সম্মুখযোদ্ধা ছিলেন। তিনি গুপ্ত ছিলেন না। কিন্তু সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা কি তার কাছ থেকে উদ্ধত আচরণ পেয়েছিল? না হলে এমন হবে কেন? ছাত্রছাত্রীদের অনেকে গত দুই যুগ ধরে স্টাবলিস্টমেন্ট-বিরোধী না হয়ে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে নাকি পছন্দ করতেন! ক্ষমতাসীন দলের মাস্তানটাইপ কেউ যদি সাধারণদের ভালোবাসা পানও, আবিদরা কি বোঝেননি যে এই সরকারের আমলে তারা সেটা পাবেন না? সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা কি ছাত্রদলের ভেতরে ছাত্রলীগের ‘ভূত’কেই দেখেছিল? তবে চট্টগ্রাম বা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নির্মম বা বিতর্কিত শিবির তার সঙ্গে যেন ডাকসুতে জিতে আসা শিবিরের কোনো মিল না থাকে!

তিন. ‘যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন কেষ্ট ব্যাটাই চোর!’ আওয়ামী লীগ ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো রাজনৈতিক বড় কার্ড নাই। ছাত্রদল বা বিএনপির কেউ কেউ বলছেন ছাত্রলীগ নাকি নীরবে ছাত্রশিবিরকে ভোট দিয়েছে! যদি তা-ই হয় তাহলে শিবিরে এখনও ‘গুপ্ত লীগ’ আছে! বিএনপির এই অভিযোগ যদি সত্য হয় তাহলে আগামী সংসদ নির্বাচনে তাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করা উচিত! তাহলে তারা জিততে পারবেন! কিন্তু জগন্নাথ হলে সাদিকরা পাঁচ-দশ ভোট পেল কেন? শহীদদের ‘গণকবর’ সবার হৃদয়ে সবসময় থাকে না বলে? 

চার. মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয়েছে। অনেকের কাছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব এখন ‘চেতনার টিকা’ বা ‘ভারতের বয়ান’। মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান বারবার মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে তিন মাসের জন্য বিএনপির সব দলীয় পদ খুইয়েছেন! সবচেয়ে বেশি মুক্তিযোদ্ধাদের দল বলে গর্ব করা বিএনপির অনেক নেতাই এখন চুপ। সেখানে ছাত্রদলের ছেলেরা ডাকসু নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ প্রশংসা করে কথা বলেছেন। একই দলে দুই ধরনের বয়ানকে কি ভালোমতো নেয়নি সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা?

পাঁচ. ‘আমি বা আমার দল জিতলে নির্বাচন বৈধ হারলে কারচুপির নির্বাচন’Ñ প্রচলিত এই মতবাদ ছাত্রদলের এই অভিযোগের বেলায় সত্যি হলেও হতে পারত। পুরোপুরি সত্য হচ্ছে না। কারণ উমামা ফাতেমাও নির্বাচন বর্জন করেছেন এবং বলেছেন, ‘এটা সম্পূর্ণ নির্লজ্জ ও কারচুপির নির্বাচন। পাঁচ আগস্টের পর জাতিকে লজ্জা উপহার দিল ঢাবি প্রশাসন। শিবির পালিত প্রশাসন।… চলিতেছে সার্কাস! কে কে দেখতেছেন?’

তিনিও জুলাই জাগরণের সম্মুখযোদ্ধা ছিলেন। হেরে গেলেও আপনি আবিদ বা উমামাদের ফেলে দিতে পারবেন না!

ছয়. জাতীয় নির্বাচনের মতো এবারের ডাকসু নির্বাচনেও কি ডামি প্যানেল বা প্রার্থী ছিল? যে নুরুল হক নুর হাসিনা আমলে জিতেছিলেন, আহত হওয়ার পর যার জন্য মানুষের সহানুভূতি সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছাল, তাদের ভোট কোথায় গেল? বৈষম্যবিরোধীরা যারা জুলাই জাগরণে ও পরে সবসময় ছাত্রছাত্রীদের পাশে ছিল তাদের অবস্থা এমন হলো কেন? এদের সবার ভেতরে কি সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ‘ছাত্রলীগ ভূত’ দেখেছিল নাকি এমন কিছু আছে, যা আমরা আজ বুঝিনি কিন্তু কাল বুঝব?

সাত. একদা বাম দলগুলো থেকে পর পর তিন-চারটা ডাকসু নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা ভিপি-জিএস হয়েছিলেন। আওয়ামী তোষণ বা উগ্রতার কারণে ওই দলগুলো জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। আওয়ামী বা বিএনপির রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি বা ধারাও কি ক্রমশ অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে? আওয়ামী ধারার ভেতর যেমন কর্তৃত্ববাদী অংশ, ধর্মের মধ্যে যে উগ্রবাদী ধারা সেসব জনপ্রিয় হয়ে ঊঠলে জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবির যে ধারার রাজনীতি করে তার সঙ্গে সেসব সাংঘর্ষিক হতে পারে। ডাকসুতে তাদের বিজয়ের মাধ্যমে সেই প্রশ্ন সামনে চলে আসতে পারে।

বিখ্যাত ব্যান্ডদল ‘অ্যাবা’র একটা তুমুল জনপ্রিয় গান আছে, যা ১৯৮০ সালে বেরিয়েছিল। গানের কয়েক লাইন তুলে দিলাম ছাত্রদলের জন্য- দ্য উইনার টেক ইট অল/দ্য লুজার্স স্ট্যান্ডিং অল/বিসাইডস দ্য ভিকট্রি/দ্যাটস হার ডেসটিনি ... ‘দ্য উইনার টেক ইট অল/দ্য লুজার হ্যাজ টু ফল/ইটস সিম্পল অ্যান্ড ইটস প্লেইন/হোয়াই শুড আই কমপ্লেইন?

বিজয়ীর হাত ধরে হাঁটে পৃথিবীর সব সুখ হাসি/তোমার জন্য শুধু পরাজিত হতে ভালোবাসি

ছাত্রদল কি শ্রদ্ধেয় গায়ক আইয়ুব বাচ্চুর মতো করে বলবেÑ ‘কোনো অভিযোগ নেই যে আমার কোনো অভিমান নেই এখন…?’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা