× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গণআন্দোলন

দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশে তারুণ্যের বিস্ফোরণ

মাসুদুল হাসান রনি, গণমাধ্যমকর্মী ও কলাম লেখক

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪৮ এএম

দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশে তারুণ্যের বিস্ফোরণ

জনরোষের তীব্র ঢেউ প্রথমে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার দ্বীপরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতাচ্যুত করে। দুই বছর পর, বাংলাদেশেও এর সূত্রপাত হয় যখন বিক্ষোভকারীরা ক্ষমতাসীন সরকারকে উৎখাত করে। গত সোমবার নেপালে জনরোষ বিস্ফোরিত হয়, যার এক দিন পরই প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

প্রতিটি প্রতিবাদ-আন্দোলন একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, যা সরকার বা তার নেতাদের প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। অনেক দিক থেকেই, প্রতিবাদ আন্দোলনগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছেÑশাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হতাশ জনগণের ক্ষোভ এবং একটি দৃঢ় রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যা তারা ব্যাপক দুর্নীতি, বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের জন্য দায়ী করে।

প্রায়শই তরুণদের নেতৃত্বে, এই বিক্ষোভগুলো মারাত্মক সহিংসতার সূত্রপাত করেছে এবং কখনও কখনও অনির্বাচিত নেতাদের দ্বারা পূর্ণ রাজনৈতিক শূন্যতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। শাসক অভিজাতদের দুর্নীতিগ্রস্ত এবং একটি সম্ভাব্য উত্তরণের পথ না বাতলে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার প্রবণতাই বড় সংকটের জন্য একটি কাঠামোগত ভিত্তি তৈরি করেছে।

নেপালের জনসাধারণের ক্ষোভ মূলত রাজনৈতিক অভিজাতদের বিরুদ্ধে। সোমবার থেকে নেপালে যুবসমাজের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়, যখন সরকারের প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ফলে বছরের পর বছর ধরে চলমান অসন্তোষ প্রবল আকার ধারণ করে। অনেকেই বিশেষ করে ক্ষুব্ধ ছিলেন যে রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানরা বিলাসবহুল জীবনযাপন উপভোগ করছে, যেখানে জনসংখ্যার বেশিরভাগই অর্থনৈতিক সমস্যা, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং ব্যাপক দুর্নীতির সঙ্গে মোকাবিলা করছে।

নেপালে এই অস্থিরতায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন। দুর্নীতিবিরোধী ডাকে সমাবেশ করা ছাড়া বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতি ভবন এবং বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও অন্যান্য রাজনীতিকের বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসাধারণের চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে পদত্যাগ করেছেন। তবে, নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্ব দেবেন। নতুন সরকার কেমন হবে এবং এটি পুরনো রাজনৈতিক রক্ষীদের নিয়ে গঠন করবে কি না তা স্পষ্ট নয়। অনেক নেপালি একই রাজনৈতিক শ্রেণির মধ্যে দরকষাকষির একটি পরিচিত ধারাবাহিকতাকে ভয় পাচ্ছেন, যাদের তারা উৎখাত করতে চান। নেপাল ঘন ঘন রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভরা এবং ২০১৫ সালে নতুন সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রতিটি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ মাত্র এক বা দুই বছর স্থায়ী হয়েছে।

২০০৬ সালে দেশটি তার রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে, এক সহিংস বিদ্রোহের পর যা তার প্রাক্তন রাজাকে তার কর্তৃত্ববাদী শাসন ত্যাগ করতে বাধ্য করে। এখন যে সহিংসতার কারণে কার দায়িত্বে থাকা উচিত বা কীভাবে তাদের এগোনো উচিত তা নির্ধারণ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। নেপালে এখন বড় প্রশ্ন হবে আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা যাবে কি না এবং নতুন স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে কি না? 

নেপালের আগে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কায় সরকার পতন হয়েছে ব্যাপক গণ আন্দোলনের মুখে। নেপালের যারা এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উত্তর খুঁজছেন তারা বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কায় সান্ত্বনা পাবেন না। নির্বাচন এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার মতো মৌলিক সংস্কার দাবিতে ঐকমত্যের অভাব এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি অনিশ্চিত রোডম্যাপ, সেই দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং তাদের মুখোমুখি সমস্যাগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বাংলাদেশে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভগুলো যোগ্যতার ভিত্তিতে সিভিল সার্ভিসের চাকরির সংখ্যা সীমিত করার নিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সঙ্গে শুরু হয়েছিল। গত বছরের জুলাইয়ে এরা দেশব্যাপী জনগণের বিক্ষোভকে বিশাল গণআন্দোলনের রূপ দিতে সক্ষম হয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। সহিংস বিক্ষোভে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল ছাত্র। হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দেন।

এক বছরের অধিক সময় পার হলেও, বাংলাদেশ এখনও অস্থিতিশীলতার মধ্যে নিমজ্জিত। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের তারিখ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত। উগ্র জনতার সহিংসতা, প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও গোষ্ঠীর ওপর রাজনৈতিক আক্রমণ এবং ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের দুর্বল সংখ্যালঘু গোষ্ঠী ও নারীর প্রতি বৈরিতা বেড়েছে। 

আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ ঘোষণা করা হলেও সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনমনে চরম উৎকণ্ঠা রয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভকারীরা শক্তিশালী রাজাপক্ষে গোষ্ঠীকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমেনসিঙ্গে দেশটির ক্ষমতা গ্রহণ করেন। গত বছর মার্কসবাদী আইনপ্রণেতা অনুরা কুমারা দিসানায়েকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দেশটিতে গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতার উত্তরণ ঘটে। তিনি জীবনযাত্রার মান উন্নত করার, প্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত করা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রায় এক বছর পরে, শ্রীলঙ্কার সমস্যাগুলো এখনও শেষ হয়নি বলে মনে হচ্ছে। জনগণ অর্থনৈতিক দুর্দশা, মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ এবং বিদেশি ঋণখেলাপির মতো সমস্যাগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করছে। বলা যায়, বিক্ষোভকারীদের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের আদর্শের কোনো লক্ষণ নেই। এই অঞ্চলের ব্যাপক অস্থিতিশীলতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় বিদ্রোহ বা আন্দোলনের ইস্যুগুলো দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশগুলোকে নাড়া দিয়েছে।

গত সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ায় আইন প্রণেতাদের সুযোগ-সুবিধা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মারাত্মক বিক্ষোভের ফলে দেশটির রাষ্ট্রপতি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা মন্ত্রীদের বদলি করতে বাধ্য হন। এই বিক্ষোভের ফলে কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী কারারুদ্ধ প্রাক্তন নেত্রী অং সান সু চির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। বর্তমানে মিয়ানমারে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশটি এখন একটি নৃশংস গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। 

নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশে দেখা যায়, বেশিরভাগ বিক্ষোভ নাটকীয় ফলাফল ছাড়াই আসে এবং যায়। রাজনৈতিক ভুল পদক্ষেপ এবং জনবিরোধী শাসনব্যবস্থার জন্য আগুন জ্বলেছে। নেপাল দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিতিশীলতার নতুন রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করছে। 

দক্ষিণ এশিয়ার এই তিন দেশের গণআন্দোলনের সম্মুখসারিতে ছিল নতুন প্রজন্মের বিক্ষোভকারীরা। কোথাও সংঘবদ্ধ বা রাজনৈতিক গ্রুপের ডাকে মানুষ রাস্তায় নামেনি। মানুষ তখনই নেমেছে যখন শাসকগোষ্ঠীর ফ্যাসিবাদী আচরণ সকল মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে, মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে। এই জনগণ কোনো একজন একক নেতার ডাকে রাজপথে আসেনি। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কার মতন নেপালে নেতাবিহীন এই আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা নিজেদেরকে নেপালের জেন-জি জেডের কণ্ঠস্বর হিসেবে বর্ণনা করে, যারা দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ।

অন্যান্য জেন-জি জেডের কার্যক্রমের মতো নেপালে এই আন্দোলন অনলাইনে শুরু হয়েছিল। সহিংসতার কয়েক সপ্তাহ আগে নেপালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #nepokids হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিং শুরু করে, যেখানে দেখা যায় যে, রাজনৈতিক অভিজাতদের সন্তানরা যে বিলাসবহুল জীবনযাপন উপভোগ করে। অথচ সেই দেশের বেশিরভাগ তরুণ-তরুণী জীবিকা নির্বাহের জন্য কঠোর সংগ্রাম করে।

এই হ্যাশট্যাগের সঙ্গে শেয়ার করা সমস্ত ছবিই আসল কি না তা স্পষ্ট ছিল না। কিন্তু তারা ব্যাপক ক্ষোভের সুযোগ নিয়ে নেপালে দুর্নীতির প্রতীক হয়ে ওঠে।

বুধবার পর্যন্ত নেপাল কে চালাচ্ছে তা স্পষ্ট ছিল না। গণমাধ্যমে উঠে এসেছে কাঠমান্ডুতে এক ভয়াবহ নীরবতা ছিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী, যদি থাকে, সে সম্পর্কে কোনো স্পষ্টতা ছিল না। মঙ্গলবার পদত্যাগকারী রাজনৈতিক নেতাদের কেউ এখনও দেশে আছেন কি না তাও স্পষ্ট ছিল না।

সেনাবাহিনী বুধবার সকালে জনসাধারণকে বিক্ষোভের সময় নেওয়া যেকোনো অস্ত্র ও গোলা-বারুদ হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে এবং যারা তা করেনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্ক করেছে। বুধবার কিছু নাগরিক দল এক দিন আগে অগ্নিসংযোগের হামলার ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করার জন্য সংগঠিত হয়েছিল।

কিন্তু বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে স্পষ্ট, দৃশ্যমান নেতৃত্ব খুব কমই পাওয়া গেছে। জেন-জি আন্দোলনের প্রতিনিধিত্বকারী একটি দল বুধবার তারা সামরিক নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছে এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনার জন্য মনোনীত করেছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। মিসেস কার্কি একটি ভারতীয় সংবাদ চ্যানেলকে বলেছেন যে, তিনি এই পদটি গ্রহণ করবেন কারণ ‘ওই তরুণ ছেলেমেয়েরা, তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, তারা আমাকে অনুরোধ করেছিল।’

এতে একটা ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, বিক্ষোভকারীরা সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির মাধ্যমে নেপালে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। নেপালি জনগণ যে আত্মত্যাগ করেছে দুর্নীতিমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য অচিরেই তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে বলে এমনটাই আশা করা যায়। তবে তাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিকতায় ফিরিয়ে এনে গণতান্ত্রিক নেপাল প্রতিষ্ঠা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা