× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ওষুধ কোম্পানি

উপঢৌকন ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ

এম আর করিম রেজা

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:২০ এএম

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৪০ পিএম

উপঢৌকন ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ

ওষুধ কোম্পানিগুলো পণ্য বাজারজাত করতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। এর মধ্যে চিকিৎসকদের উপঢৌকন প্রদান, বিলাসী সম্মেলন ও সেমিনার স্পন্সর করা, ট্রেনিং প্রোগ্রাম বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ অন্যতম। যদিও এসব ট্রেনিং ও সম্মেলন প্রায়শই শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে সাজানো হয়, তবে এর নৈতিক ও আইনগত প্রভাবকে অবমূল্যায়ন করা যায় না। এ ধরনের প্রচেষ্টা কোম্পানির ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হলেও এর নৈতিক ও আইনগত দিক নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। 

চিকিৎসক ও ‍ওষুধ কোম্পানির মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে পেশাগত। কিন্তু যখন কোনো কোম্পানি উপঢৌকন বা অর্থের দ্বারা চিকিৎসকের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তখন তা রোগীর স্বার্থ এবং পেশাদারি নৈতিকতার সঙ্গে সংঘাত তৈরি করে। সম্প্রতি বাংলাদেশে চিকিৎসকদের ওপর ওষুধ কোম্পানির অনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক চলছে। চিকিৎসক ও ওষুধ কোম্পানির পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচরণ নিয়ে দেশ সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি না থাকায় এটি নিয়ে প্রায়শই বিতর্ক শুরু হয়, তবে সমাধান মেলে না।

চিকিৎসক হিসেবে নৈতিক দায়িত্ব হলো রোগীর স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। যখন উপঢৌকন বা বিলাসী সুবিধার প্রভাবে ওষুধের প্রয়োগ বা প্রেসক্রিপশন প্রভাবিত হয়, তখন তা রোগীর স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে শিক্ষামূলক সেমিনার বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ অনুমোদিত। কিন্তু বিলাসী ভ্রমণ, পাঁচতারকা হোটেল এবং ব্যক্তিগত উপহার প্রায়শই চিকিৎসকের অবচেতন প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। এই প্রভাব রোগীর স্বার্থের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে এবং পেশাদারি সততার মানদণ্ডকে ক্ষুণ্ন করে।

এক্ষেত্রে আইনগত নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কয়েকটি দেশের কার্যক্রমকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফিজিসিয়ান পেমেন্টস সানসাইন অ্যাক্ট (২০১০) অনুযায়ী চিকিৎসককে দেওয়া সব অর্থ, সুবিধা ও উপহার প্রকাশ করতে হবে। ভারতে এমসিআই কোড অব এথিক্স রেজল্যুশন (২০০২, ২০২১ পুনঃসংস্করণ) অনুযায়ী চিকিৎসক কোনো প্রকার নগদ, বিলাসী উপহার বা প্রলুব্ধকরণ গ্রহণ করতে পারবেন না। জার্মানি ও যুক্তরাজ্যেও কোনো কোম্পানি সরাসরি চিকিৎসককে মূল্যবান উপহার দিতে পারবে না এবং সম্মেলন বা সেমিনার স্পন্সরশিপ শুধু শিক্ষামূলক উদ্দেশ্য হতে হবে।

এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বার্ষিক রিপোর্টে প্রকাশ করে কতজন চিকিৎসক কত সুবিধা পেয়েছেন। ভারতে চিকিৎসক উপঢৌকন গ্রহণ করলে শাস্তি, নৈতিক বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন। ইউরোপে (জার্মানি, যুক্তরাজ্য) শিক্ষামূলক সম্মেলন ছাড়া বিলাসী সুবিধা প্রভাবশালী হিসেবে গণ্য হয় এবং আইনত দণ্ডনীয়।

উন্নত দেশগুলোতে ওষুধ কোম্পানির বিপণন কৌশল যেমন উপঢৌকন, সেমিনার স্পন্সরশিপ শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হয়, তবুও এর নৈতিক ও আইনগত সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। সেখানে রোগীর স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।

আমাদেরও মনে রাখা প্রয়োজন, চিকিৎসকের কোনো সিদ্ধান্ত কখনোই কোম্পানির প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে উপঢৌকন বা স্পন্সরশিপ প্রকাশ ও সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। নৈতিকতা বজায় রাখতে পেশাদার সততা, রোগীর স্বার্থ ও সমাজের বিশ্বাসকে রক্ষা করতে হবে এবং বাংলাদেশে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

চিকিৎসক, কোম্পানি এবং আইন- এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে কাজ করলে চিকিৎসাক্ষেত্রে বিশ্বাস, সততা এবং মানবিকতা বজায় রাখা সম্ভব।

  • চিকিৎসক এবং ত্বক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা