স্বাস্থ্য খাত
ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:০৭ এএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৪১ পিএম
ঔষধ প্রশাসনের এক সাবেক পরিচালকের তথ্য মোতাবেক দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো তাদের মোট বিক্রির ১০ শতাংশ অর্থ চিকিৎসকদের কমিশন দেওয়া বাবদ ব্যয় করে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর মোট ওষুধ বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। মোট বিক্রির ১০ শতাংশ হিসেবে প্রদত্ত কমিশনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ওষুধ কোম্পানিগুলোর মোট ওষুধ বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান ওষুধের বাজার ৩৭ হাজার কোটি টাকা হলে ১০ শতাংশ হিসাবে প্রদত্ত কমিশনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার কোটি টাকার ওপর। ভাবা যায়, কী পরিমাণ অর্থ ওষুধ কোম্পানিগুলো চিকিৎসকদের পেছনে খরচ করছে!
২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর দ্য নিউ এজ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হেলথ সেক্টর রিফর্ম কমিশনের প্রধান প্রফেসর একে আজাদ খান বলেছেন, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির কাছ থেকে চিকিৎসকদের কমিশন গ্রহণ করা অনৈতিক ও অবৈধ। তিনি তাদের রিপোর্টে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকদের বিভিন্নভাবে কমিশন দেয় ওষুধ কোম্পানিগুলো। মজার ব্যাপার হলো, চিকিৎসকরা ওষুধ কোম্পানি থেকে কমিশন পেলেও ওষুধ কোম্পানিগুলো কমিশন বাবদ প্রদত্ত সব টাকা তুলে নেয় নিরীহ মানুষের পকেট থেকে। চিকিৎসকরা আবার শুধু ওষুধ কোম্পানি থেকেই কমিশন নেন না। তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো থেকেও মোটা অঙ্কের কমিশন পেয়ে থাকেন। আর এই কারণেই প্রায় সব চিকিৎসক রোগীকে অসংখ্য অপ্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক টেস্টের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কোনো কোনো ডায়াগনস্টিক টেস্টের পেছনে অসহায় দরিদ্র রোগীদের হাজার হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, চিকিৎসকদের এ ধরনের কমিশন বাণিজ্যের কারণে মানুষের চিকিৎসা ব্যয় দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে ঢালাওভাবে সব চিকিৎসকের প্রতি এ ধরনের অভিযোগ প্রযোজ্য নয়। আমার জানাশোনা অনেক চিকিৎসক আছেন যারা এই কমিশন বাণিজ্যকে সম্পূর্ণ অনৈতিক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ওষুধ কোম্পানিগুলোর অনৈতিক ওষুধ বিপণন বহুকাল ধরে জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এই অনৈতিক ওষুধ বিপণনে চিকিৎসকদের পাশাপাশি সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে থাকেন ওষুধ বিক্রেতা ও মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ বা বিক্রয় প্রতিনিধিরা। আগেই বলেছি, ওষুধ বিপণনের উদ্দেশ্য যদি হয় স্রেফ মুনাফা, তবে এর কারণে বড় ধরনের খেসারত দিতে হয় রোগীকে। এমন অভিযোগও রয়েছে, বহু চিকিৎসক ওষুধ কোম্পানি কর্তৃক প্রতারিত হয়ে অনেক সময় সুস্থ মানুষকে রোগী বানিয়ে ওষুধ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেন। আবার অনেক সুস্থ-সবল মানুষ ওষুধ কোম্পানির প্ররোচনায় পড়ে আরও বেশি সুস্থ, সবল ও সুন্দর জীবনের জন্য অপ্রয়োজনীয় ও অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকর ওষুধ গ্রহণ করেন। এসব ওষুধকে বলা হয় লাইফস্টাইল ড্রাগ। ফুড সাপ্লিমেন্ট, ভিটামিন, টনিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, স্থূলতা কমানোর ওষুধ, যৌন অক্ষমতা, মাথার টাক, মন চাঙ্গা করার ওষুধ এসব ড্রাগের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে ওষুধের বিজ্ঞাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিজ্ঞাপন বৈধ হলে দেশে কোমল পানীয়, হরলিকস, কমপ্ল্যান বা ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির মতো দেদার ওষুধ বিক্রি হতো।
আমাদের মনে রাখা দরকার, ভোগ্যপণ্য আর ওষুধ এক জিনিস নয়। ভোগ্যপণ্য জীবন রক্ষাকারী অত্যাবশ্যকীয় বস্তু নয়। ওষুধ অত্যাবশ্যকীয় জীবন রক্ষাকারী বস্তু। সঠিক সময় সঠিক মাত্রায় সঠিক ওষুধটি প্রয়োগ না করলে কোনো কোনো অবস্থায় মানুষ মৃত্যুবরণ করতে পারে। মারাত্মক ও জটিল সংক্রামক রোগের কথাই ধরা যাক। জটিল সংক্রামক রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধ্বংসের জন্য আমাদের প্রয়োজন সঠিক মাত্রার গুণগতমানস্পন্ন একদম সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক। অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচনে ভুল হলে রোগ ভালো হবে না, রোগীর ভোগান্তি বাড়বে, একসময় হয়তো রোগী মারাও যাবে। সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো অবকাশ নেই। সংক্রামক রোগের ধরন যেমন ভিন্ন হয়, তেমনি অ্যান্টিবায়োটিকের ধরনও ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রেই উৎপাদকের জোরালো বিপণন ও অনেক চিকিৎসকের অনৈতিক আচরণের কারণে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগের মাত্রা অতীতের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। শুধু ব্যবসায়িক কারণে আজকাল চিকিৎসকরা সাধারণ সংক্রামক রোগেও সস্তা ও ন্যারো স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের (যেসব অ্যান্টিবায়োটিক বিস্তৃত পদের জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে না) পরিবর্তে নামিদামি ও পেটেন্টেড ব্রোড স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক রোগীকে প্রদান করছেন। কোনো কোনো সংক্রামক রোগে ন্যারো স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করলে ব্রোড স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক (যেসব অ্যান্টিবায়োটিক বিস্তৃত পদের জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে) প্রদান করে রোগ সারানোর সুযোগ থাকে। কিন্তু রোগীকে শুরুতেই ব্রোড স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান করা হলে এবং সে ওষুধ কাজ না করলে তখন হাতে আর কোনো বিকল্প থাকে না। সেজন্য আমরা বলে থাকিÑ কার্যকর ও অব্যর্থ অ্যান্টিবায়োটিকগুলো রোগীর দুঃসময়ের জন্য মজুদ রাখুন। কিন্তু অনেক চিকিৎসক অতি দ্রুত রোগ সারিয়ে রোগীর আস্থা ও সুনাম অর্জনের মাধ্যমে ব্যবসার প্রসার বাড়াতে ও কমিশন বাণিজ্যের কারণে অত্যন্ত দামি ও ব্রোড স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। তারা খুব কমই ভাবেন ভুল ও নির্বিচার অপব্যবহারের কারণে জীবাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্ট হয়ে গেলে শেষ সম্বল হিসেবে তারা কোন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন? ওষুধ কোম্পানিগুলোর আক্রমণাত্মক প্রমোশন, চিকিৎসকের অনৈতিক ও অবিবেচনাপ্রসূত প্রেসক্রাইবিং ও রোগীর চিকিৎসায় নির্বিচারে ব্যবহারের কারণে ইতোমধ্যে বহু অ্যান্টিবায়োটিক জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা হারিয়ে রেজিস্টেন্ট হয়ে গেছে। এটি মানবসভ্যতার জন্য একটি মারাত্মক দুঃসংবাদ। আমরা মনে করি, হয়তো ভবিষ্যতে এমন এক দুঃসময়ের দিন আসবে যখন অ্যান্টিবায়োটিকের অভাবে অসহায়ভাবে রোগী মৃত্যুবরণ করবে। আর চিকিৎসকদের অসহায়ভাবে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না।
ওষুধ কোম্পানিগুলো বাজারজাত করার সময় ওষুধের ওপর বিভিন্ন তথ্যাবলি দিয়ে লিফলেট বা আকর্ষণীয় ফোল্ডার প্রকাশ করে। ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি (মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ) এসব তথ্য সংবলিত কাগজপত্র চিকিৎসকদের মধ্যে বিলি করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা এসব বিজ্ঞাপনের ফিরিস্তি পড়ার সময় ও সুযোগ পান না। বিক্রয় প্রতিনিধিরাই চিকিৎসকদের কাছে তাদের কোম্পানির ওষুধের গুণাবলি ও কার্যকারিতার ফিরিস্তি উপস্থাপন করেন। ওষুধের লিফলেট বা বিজ্ঞাপনে প্রায়শই অতিরঞ্জিতভাবে ওষুধের গুণাবলি তুলে ধরা হয়। কার্যকর না হওয়া সত্ত্বেও কোনো কোনো রোগে ওষুধটির খুব ভালো কাজ করে বলে দাবি করা হয়। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা বিষক্রিয়া সম্পর্কে খুব কমই লেখা থাকে, বলাও হয়ে থাকে অতি অল্প। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসকরা যাচাই-বাছাই না করেই এসব ওষুধ প্রেসক্রাইব করা শুরু করেন। এতে করে রোগী বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথমত, ওষুধটি দামি হলে রোগীকে অধিক পয়সা ব্যয় করতে হয়, যেখানে সস্তায় একই মানের একই ওষুধ পাওয়া সম্ভব। দ্বিতীয়ত, সব কোম্পানির ওষুধের গুণগত মান সমান নয়। অর্থ বা ঘুষের বিনিময়ে চিকিৎসক গুণগত মান যাচাই না করে কোনো ওষুধ প্রেসক্রাইব করলে রোগী শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসাশাস্ত্র বিক্রয় প্রতিনিধি বা চিকিৎসকদের এসব অপকর্ম সমর্থন করে না। কিন্তু আমরা করি এবং অতিমাত্রায় করি। কারণ বাংলাদেশে রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে চিকিৎসা, হাসপাতাল, ফার্মেসি, ওষুধ কেনাকাটা, আদান-প্রদান ও নিয়ন্ত্রণÑ সবকিছুতেই চিকিৎসকদের মনোপলি বা একচেটিয়া রাজত্ব।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে রোগ চিকিৎসায় রোগী চিকিৎসকের কাছে গেলে তারা প্রয়োজনীয় ওষুধের সঙ্গে প্রেসক্রিপশনে একাধিক অপ্রয়োজনীয় ওষুধ জুড়ে দেন। চিকিৎসকদের এই অনৈতিক মানসিকতার পেছনে যা কাজ করে তা হলো লোভ-লালসা এবং নিজের ব্যক্তিত্ব, মানবিকতা, নৈতিকতা ও আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদাবোধের কাছে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে অধিক থেকে আরও অধিক উপার্জনের মনোবৃত্তি। না হলে একজন চিকিৎসক কী করে একটি ওষুধ প্রেসক্রাইব করার বিনিময়ে ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে বউয়ের জন্য একটি শাড়ি বা গহনা গ্রহণ করতে পারেন। একটি পারফিউম বা ফুলদানির জন্য একজন অসহায় দরিদ্র সাধারণ মানুষ, যিনি অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে একজন চিকিৎসকের কাছে যান সুচিকিৎসা পাওয়ার আশায়, এ ধরনের একজন মানুষের ক্ষতি কীভাবে করতে পারেন। অভিযোগ রয়েছে, ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে চিকিৎসকরা (সব চিকিৎসক নন) যেসব উপঢৌকন পান, তার মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা পয়সা, বড় অঙ্কের টাকার চেক, গহনা, দামি কাপড়-চোপড়, পারফিউম, অফিস ভাড়া, অফিস ডেকোরেশনের খরচ, চেম্বারের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি, বিদেশ ভ্রমণের টিকিট, বিদেশে অবস্থানকালে হোটেল ভাড়া, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ফ্রিজ, টেলিভিশন, এয়ারকুলার ইত্যাদি।
ওষুধ কোম্পানি, চিকিৎসক, বিক্রয় প্রতিনিধিদের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়া দরকার। ঔষধ প্রশাসনে কোটি কোটি টাকা খরচের ভারটা রোগী বা ওষুধ ক্রেতাকেই বহন করতে হয়। এতে করে ওষুধের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। চিকিৎসকদের অজ্ঞতা, অবহেলা বা পড়াশোনার অভাবে নকল ভেজাল ও ক্ষতিকর ওষুধও রোগীর হাতে পৌঁছে যায় ওষুধ কোম্পানি ও বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
প্রতিদিন বিভিন্ন হাসপাতালের সামনে অসংখ্য বিক্রয় প্রতিনিধির তৎপরতা আমাদের চোখে পড়ে। সারা দেশেই একই অবস্থা বিরাজ করছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসকদের চেম্বারগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভদের। অভিযোগ রয়েছে, এই রিপ্রেজেনটেটিভদের মাধ্যমেই ওষুধ কোম্পানিগুলো হাত করে চিকিৎসকদের। ওষুধ কোম্পানি, চিকিৎসক ও বিক্রয় প্রতিনিধিদের এই অশুভ ও অনৈতিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। কোনো চিকিৎসক উপহার নিলে তার চিকিৎসা সনদ বাতিল করার বিধান রাখা দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ওষুধ বিজ্ঞাপনে ওষুধ কোম্পানিগুলো বছরে কত টাকা খরচ করে তা প্রকাশ করতে হবে, ভুতুড়ে লেখক দিয়ে কোনো ওষুধের ওপর প্রবন্ধ লেখা হয় কি না তা জানাতে হবে। এ ছাড়া গবেষণার নামে ওষুধ কোম্পানিগুলো চিকিৎসকদের কত টাকা প্রদান করেন, কনসালটেশন ফি বাবদ ব্যয় কত, যাতায়াত ও আপ্যায়নে কত খরচ হয় তা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বহাল করার ব্যবস্থা রয়েছে।
অনৈতিক ওষুধ বিপণন বন্ধে সরকারের কোনো উদ্যোগ আছে বলে অতীতে দেখা যায়নি। বাংলাদেশের অসংখ্য পত্রিকায় এ ব্যাপারে অনেক প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় ছাপা হয়েছে, প্রতিকারের উপায় উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু এ অরাজকতা বেশি দিন চলতে দেওয়া যায় না। চিকিৎসাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি অনুধাবনপূর্বক সরকার জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে- এই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।