× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সমাধানের কোন পথে রোহিঙ্গা সংকট

বদরুল আলম পান্না, দাউদকান্দি (কুমিল্লা)

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:৩৪ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১৩ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এরা প্রত্যেকেই মিয়ানমারের জান্তা সরকারের অত্যাচার, জাতিগত নিধন ও পরিকল্পিত সহিংসতার মুখে নিজেদের ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, আইসিজে-তে আইনি পদক্ষেপ ও নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থমকে আছে। দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থা বাংলাদেশের কূটনৈতিক কৌশল কেবল প্রচলিত কূটনীতি ও নরম শক্তির ওপর নির্ভর করার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। 

উল্লেখ্য, কয়েক দশক ধরে তারা মিয়ানমার সরকারের পরিকল্পিত বৈষম্য, প্রান্তিকীকরণ এবং নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। দীর্ঘকাল ধরে রাখাইনে বসবাস করলেও মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের একটি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, বরং প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে তাদের আখ্যায়িত করেছে। ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে তাদের রাষ্ট্রহীন করা হয় এবং শিক্ষাগ্রহণ, চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা, চলাচলের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক দাতাদের তহবিল সংকোচনের মাঝে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় লড়াই করছে বাংলাদেশ। তবে গত কয়েক বছরে বিশ্বের নানা সংকট রোহিঙ্গা ইস্যুকে ছাপিয়ে গেছে, যার ফলে শরণার্থীদের জন্য তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর জন্য মৌলিক সেবার জোগান দেওয়াই বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক তহবিল সংকোচন এই সংকটকে আরও গভীর করেছে, যার প্রভাব ইতোমধ্যে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের শিবিরগুলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি, মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে নতুন করে আরও প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বসবাসরত ১৩ লাখ শরণার্থীর সংখ্যা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। 

এখন প্রশ্ন উঠছে, তিন দশকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না হওয়া কি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আঞ্চলিক এই সমস্যা জিইয়ে থাকার পেছনে মূল দায় আন্তর্জাতিক সংস্থার শৈথিল্য আর পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিচারিতার। জান্তা ও আরাকান আর্মির চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সহসা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ কেন কেবল ঐতিহ্যগত নরম শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। রোহিঙ্গা সংকট একটি মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের আর অলস কূটনীতি বা শুধু মানবিক সাহায্য-নির্ভর নীতির বিলাসিতার সুযোগ নেই। এখন সময় এসেছে দৃঢ়, বাস্তববাদী ও স্বার্থভিত্তিক কূটনীতি গ্রহণের, যা বিশ্বাসযোগ্য সামরিক শক্তির বৃদ্ধি দ্বারা সমর্থিত হবে। আরাকান আর্মির সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মিত্রতার বহুমুখীকরণ এবং একটি সংগঠিত রোহিঙ্গা প্রতিরোধ বাহিনী গঠনের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা