× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজপথ অবরোধ

জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কর্মসূচি পরিহার করুন

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:২১ এএম

জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কর্মসূচি পরিহার করুন

ঘনবসতিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর রাজধানী ঢাকা যেন এখন আন্দোলন-কর্মসূচির মূল কেন্দ্র। প্রতিদিনই ছোট-বড় যেকোনো ইস্যুতে মুহূর্তে উত্তাল হয়ে উঠছে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক। নানান কিছিমের দাবিদাওয়ার এসব কর্মসূচিতে কখনও ছাত্র, কখনও শিক্ষক, কখনও শ্রমিক, কখনও-বা রাজনৈতিক দল বা সুবিধাবঞ্চিত সংস্থা/সংগঠন রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করতে দেখছি। প্রত্যেকেই নিজ নিজ পক্ষ থেকে দিচ্ছেন নানা আল্টিমেটামও। কোনো কোনো স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ সংঘাত-সহিংসতার মতো ঘটনাও ঘটছে। এতে কার্যত অবরুদ্ধ শহরের মানুষ। চলছে নৈরাজ্য। হঠাৎ উৎকণ্ঠার ছাপ এসে ভর করেছে নগরবাসীর জীবনে। যুক্ত হয়েছে নিরাপত্তাহীনতা। কখন, কোথায় কী ঘটবেÑ তা জানা নেই কারও। ছোটখাটো ঘটনা নিয়েও সৃষ্টি হচ্ছে সংঘাত কিংবা সহিংসতা। দাবি আদায়ের মতো স্বাভাবিক বিষয় হয়ে উঠছে সহিংস। অসহনীয় এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কার্যত জানা নেই কারওরই।

জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নেওয়া এই সরকারের ১৩ মাস হতে চলল। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে খোদ রাজধানীতে ১ হাজার ৬০৪ বার সড়ক অবরোধ হয়েছে। ছোট-বড় ১২৩টি সংগঠন ও রাজনৈতিক দল এসব কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিল। ৩১ আগস্ট রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। পরিসংখ্যানটি সত্যিই শঙ্কিত হওয়ার মতো। সীমিত সময়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি নির্দলীয় সরকারের জন্য বিষয়টি বিব্রতকরও। সরকারি হিসাবেই ২ কোটির বেশি মানুষের শহর আমাদের রাজধানী। এমন একটি নগরে কোনো সড়ক বন্ধ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আন্দোলন চলা মানে কী ধরনের কষ্টের কারণ, তা ভুক্তভোগী নাগরিকমাত্রই জানেন। এ কথা সত্যি যে, বিগত সরকারের দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনে সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে বৈষম্য ও বঞ্চনার পাহাড় জমেছিল। কিন্তু তাই বলে বৈষম্য ও বঞ্চনা ঘুচানোর নামে সড়কে জনভোগান্তি বাড়ানো কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না।

ঢাকার যোগাযোগ নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র শাহবাগ, ফার্মগেট, মিরপুর, জাতীয় প্রেস ক্লাব, সচিবালয়, মহাখালীসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এসব স্থানে আন্দোলন মানেই পুরো শহর স্থবির হয়ে পড়া। এসব সড়ক বাধাগ্রস্ত হলে তীব্র যানজট তৈরি হয়। তার প্রভাব পড়ে আশপাশের সকল সড়কে, অলিগলিতে এবং এক সময় সেই ভোগান্তি ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। সবাই তখন বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছতে চায়। যানজটের কারণে মানুষের প্রচুর কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। দেখা যায়, ৩০ মিনিটের পথ যেতে দুই ঘণ্টা বা তারও বেশি লেগে যায়। এতে মানুষ সঠিক সময়ে কর্মস্থলে বা কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরতে পারেন না। অ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতালগামী রোগীদেরকেও পথে আটকা পড়ে থাকতে হয় অনেক সময়। এ কথা সত্য যে, আমাদের দেশে সড়ক বন্ধ করে কর্মসূচি পালন করা কিংবা দাবিদাওয়া জানানোর রেওয়াজ দেশে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। অপ্রিয় হলেও সত্য, এসব কাজের পথপ্রদর্শক আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোই। সমাজের অন্য অংশের লোকেরাও তাদের দাবি আদায়ে একই পথ অবলম্বন করেন। আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই তা বলা যাবে না। এমনকি একটি গণতান্ত্রিক দেশে যেকোনো যৌক্তিক দাবিদাওয়া আদায়ে আন্দোলন-বিক্ষোভ হতে পারেÑ এটা দোষের কিছু দেখি না। কিন্তু সেই দাবিদাওয়া জানানোর রীতিসিদ্ধ পথও আছে। সেটা হতে হবে নিয়মতান্ত্রিক ও আইনসম্মত উপায়ে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমাদের দেশে তার উল্টো চিত্রই দেখা যায়। আমরা মনে করি, আলাপ-আলোচনায় যেকোনো সমস্যা সমাধানের সর্বোত্তম পথ। জনদুর্ভোগ বন্ধে সরকারকে অবশ্যই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নানা শঙ্কা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ট্রেনে উঠেছে দেশ। সরকার এখন নির্বাচনমুখী। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সম্ভাব্য রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণসহ নানা ধাপে এগিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই আলোকে নির্বাচনমুখী হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোও। সম্ভাব্য প্রার্থীরা যার যার নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছেন। আমরা মনে করি, এমন একটা উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে এ ধরনের দাবিদাওয়া আদায়ের নামে আন্দোলন নির্বাচনকে ভিন্নমুখী করার শামিল। এখানে বলে রাখা ভালো, কোনো কোনো সংগঠনের কর্মসূচিতে পতিত সরকারের অপচ্ছায়াও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিষয়টি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উপদেষ্টারাও বলছেন। এমনিতেই ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য উঠে আসছে। কোনো কোনো শক্তি নির্বাচন আটকে ফেলতে চাচ্ছে। রাজনীতির দৃশ্যপটে দেখা যাচ্ছে নানা ঘটনা। চলছে নানা সমীকরণও। টিআইবি বলছে, রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। জুলাই সনদ ঘোষণা এখনও কার্যত ঝুলে আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় ভোটারদের নির্বাচনমুখী অবস্থান ধরে রাখা কমিশনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা চাই, অন্তর্বর্তী সরকার সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমরা আরও মনে করি, সবার উচিত জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী যেকোনো কর্মসূচি পরিহার করা। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন রাজপথে নয়, যেকোনো দাবি সরকারকে লিখিত আকারে অবহিত করার জন্য। কিন্তু কেউ-ই সে পথে হাঁটছে না। বরং কথায় কথায় সড়কে নামছে। এই ধরনের প্রবণতা থেকে সবারই সরে আসা উচিত। আমরা আশা করব, এ ব্যাপারে সবার শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং সবাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা