ডা. এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:০০ পিএম
ডা. এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর এক অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানায়ক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি শুধু একজন সাহসী যোদ্ধা নন, বরং ছিলেন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নসন্ধানী এক রাষ্ট্রনায়ক। স্বাধীনতার পরবর্তী অস্থির সময়ে তিনি জনগণকে সংগঠিত করে এমন এক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন, যার ভিত্তি ছিল—গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, স্বনির্ভরতা ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের অটল বিশ্বাস।
বিএনপি গঠনের পেছনে ছিল বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি এক গভীর ভালোবাসা। জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন, এ দেশকে টিকিয়ে রাখতে হলে কেবল ভাষা বা ভূগোলের গণ্ডি নয়—বরং এদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ইসলামী মূল্যবোধ এবং স্বতন্ত্র জাতীয় পরিচয়কে সমুন্নত রাখতে হবে। তাঁর প্রদত্ত “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ”-এর দর্শন তাই শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয় বরং ছিল বাঙালির আত্মপরিচয়কে নতুনভাবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।
বিএনপি-র আদর্শ চারটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ – আমাদের স্বাধীন সত্তা, গৌরব ও মূল্যবোধের স্বীকৃতি।
গণতন্ত্র – জনগণের ভোটাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও বহুদলীয় রাজনীতির নিশ্চয়তা।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন – স্বনির্ভরতা, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সবার জন্য সমান সুযোগ।
জাতীয় ঐক্য – সমাজের সব শ্রেণি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা।
বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি বহুবার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তিনি ছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী যিনি শুধু নারী নেতৃত্বের দিগন্ত উন্মোচন করেননি, বরং বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। বিশেষ করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ছিল গণমানুষের কণ্ঠস্বর, ছিল স্বাধীনতার চেতনা রক্ষার অঙ্গীকার।
প্রতি বছর ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয় গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের সাথে। এ দিনে দেশের প্রতিটি প্রান্তে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। এই আয়োজন কেবল উৎসব নয়—এটি আসলে নতুন করে শপথ নেওয়া, নতুন করে স্বপ্ন দেখার দিন। তারা স্মরণ করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বীরত্ব, দূরদৃষ্টি ও গণমানুষের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা।
বিএনপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস আজ শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মারক নয়, বরং এটি এক অনন্ত অনুপ্রেরণা। এটি শেখায়—গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, জাতীয় মর্যাদা অটুট রাখতে হলে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে, আর সমৃদ্ধির পথে এগোতে হলে সবাইকে সাথে নিয়ে চলতে হবে।
আজ ১সেপ্টেম্বরের এই মহিমান্বিত দিনে বিএনপি-র কর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অতীতের সংগ্রামকে স্মরণ করে এবং আগামীর পথে নতুন অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। তারা শপথ নেয়—বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে।
বিএনপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস তাই কেবল অতীতের গৌরবগাথা নয়, এটি এক দিশারী আলো—যা আমাদের আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রায়।
লেখক: ডা. এস. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও কো-অর্ডিনেটর, রেসপিরেটরি মেডিসিন এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা।