এম জে আবেদীন
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১০:২৯ এএম
পাকিস্তান ও ভারতের রাজনীতি থেকে জামায়াতে ইসলামী দলটি এখন বিলুপ্ত প্রায়। কিন্তু ‘চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে তাদের অবস্থান কী? যেকোনো বড় অভ্যুথান বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশে অনেক রকম অস্থিরতা দেখা দেয়। এটা স্বাভাবিক। জামায়াতে ইসলামীও দেশের এই অস্থিরতার সুযোগে আবারও দাঁড়িয়ে যাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
মুক্তিযুদ্ধের পর পর আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল সেটা তখনকার রাষ্ট্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান সামাল দিতে পারেননি। রাজনৈতিকভাবে বাঙালি জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা এমনভাবে বেড়ে গিয়েছিল যে, তার কুফল ভোগ করতে হয়েছিল পুরো জাতিকে। শেখ মুজিবের মতো জনপ্রিয় মানুষ মাত্র তিন বছরে একজন চরম স্বৈরশাসকে পরিণত হন। দেশের মানুষের গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ব্যক্তিস্বাধীনতা বা বাঁচার অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছিল ১৯৭২-৭৫ সালে। ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরের তিন মাস দেশ ছিল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। ১৯৭৫-এর ৭ নভেম্বর চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশকে উদ্ধার এবং পরবর্তী ৫ বছরে দেশটাকে মেরুদণ্ড গড়ে দিতে পেরেছিলেন। ১৫ আগস্ট ও ৭ নভেম্বরের পর কিন্তু চরম ডানপন্হীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমানের কঠোর হস্তক্ষেপে চরম ডান ও চরম বাম শক্তি রুখে দেওয়া হয়। ফলে দেশে একটা স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়। কিন্তু সেটা শেষ হয়ে যায় ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যার মাধ্যমে। জেনারেল এরশাদ আওয়ামী লীগের বি-টিম হিসেবে ক্ষমতায় আসেন এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা দখল করে রাখেন।
ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। তখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা থেকে ভারত একটু পিছু হটলেও তাদের আসল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তারা পিছপা হয়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তাদের আসল কাজ বাস্তবায়ন শুরু করে। অক্টোবরে ২০০১ সালের বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া কুখ্যাত ৯/১১ তথা টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনা ভারতের জন্য তুরুপের তাস হয়ে উঠেছিল। পশ্চিমা ভুয়া ইসলামোফোবিক নীতির ওপর তারা বাংলাদেশকে নিয়ে যে পরিকল্পনা করে সেটা বাস্তবায়ন শুরু করে তখন থেকেই। এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ সকল পশ্চিমা দেশের সমর্থন নিয়ে ভারত ১/১১ নামক বাংলাদেশ বিরোধী ঘটনা ঘটিয়ে যে কার্যক্রম শুরু করেছিল ১৭ বছর ধরে যে তা অবাধে চালিয়ে যায়, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই।
গত বছর ৩৬ জুলাই খ্যাত ৫ আগস্ট এই ষড়যন্ত্রের মূলোৎপাটন করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ আমরা পেয়েছি কোটি মানুষের অংশগ্রহণে ভারতের আশ্রিত হাসিনার পতন ও পলায়নের মাধ্যমে। এত বড় স্বৈরশাসক পতনের পর বিভিন্ন রকম অনুসর্গ দেখা দেয়। কিন্তু এই সুযোগে সবচেয়ে সক্রিয় এবং পুরো আন্দোলনকে তাদের নিজস্ব কায়দায় দখল করার চেষ্টা করে জামায়াতে ইসলামী। এতে তারা কিছুটা সফলও হয়। তারা মারাত্মক রকম সক্রিয় হয়ে ওঠে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক দখলদারত্বে। তাদের আরও বেশি সক্রিয় দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। গুজব ও নানা অপপ্রচার চালিয়ে তারা এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, যাতে বিএনপির সকল নেতার চরিত্রহনন সম্ভব হয়। ‘গোলাম আযমের বাংলাদেশ’ বলে তারা স্লোগানও দেয়। এমনকি বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় জন্মদাতা বলে পরিচিত প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে পর্যন্ত হেয় করতে ছাড়েনি।
সর্বশেষ নির্বাচনে ভোটের হিসাব না করতে পারলেও আমরা ধরে নিতে পারি তাদের ভোটের হার ৬-১০ পার্সেন্ট। কিন্তু গত নির্বাচনেও বিএনপির আশ্রয়ে থাকা এই দলটি এত তাড়াতাড়ি এতটা বৈরী ও ভয়ংকর হয়ে উঠবে বিএনপি বিশ্বাস করেনি বা বুঝতেই পারেনি। মজলুম একটা দল জামায়াত যে নিজের স্বার্থের জন্য আরেকটা মজলুম কিন্তু বড় দলের বিরুদ্ধে হাসিনা পতনের মুহূর্ত থেকে এভাবে ধূর্ত অবস্থান নেবে এবং পুরো কৃতিত্ব হাইজাক করে নিজেদের বলে জাহির করবে সেটা ছিল কল্পনাতীত।
জামায়াতের রাজনীতিটা কী? ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তানে জামায়াত প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সংসদে তাদের একটি আসনও নেই। ভারত প্রায় ২৫ কোটি মুসলমানদের দেশ। সেখানে জামায়াতে কাগজে-কলমে আছে মাত্র। তবে তাদের রাজনৈতিক সামান্যতম প্রভাব বা সমর্থন নেই। তাদের রাজনীতির মূলে আছে মওদূদীবাদ। যেটা পলিটিক্যাল ইসলাম এবং আবুল আলা মওদূদীর নিজস্ব রাজনৈতিক মতবাদ। ভারতের আওরঙ্গাবাদে জন্মগ্রহণকারী মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী জামায়াতের একক প্রতিষ্ঠাতা ও চিন্তাবিদ ছিলেন। ১৯৪১ সালে লাহোরে সর্বভারতীয় জামায়াতে ইসলামী দলটি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কয়েকটি ভাষায় লিখতে পারতেন এবং তার কুরআনের ইন্টারপ্রিটেশন বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোচনা এবং সেই সঙ্গে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
পশ্চিমা বিশ্বে তার দারুণ পরিচিতি ছিল। কিন্তু তার রাজনৈতিকভাবে মতবাদ সবচেয়ে ভয়ানক। তার মতে, ‘তৌহিদ আল হাকিমিয়াহ’ বা ‘আল্লাহ্র সার্বভৌমত্ব’ মতবাদটি শুনলে প্রতিটি মুসলমানের কাছে ভালো লাগবে। কারণ তৌহিদ শব্দটা আমাদের ঈমানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি মুসলিম বলতেই এই শব্দটার প্রতি দুর্বল। আল্লাহর সার্বভৌমত্বের এই রাজনৈতিক তত্ত্ব দিয়েই মওদূদী গণতন্ত্রসহ সকল রাষ্ট্র্ ব্যবস্থাকে কুফরি বলে মত দিয়েছেন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় আমাদের মহানবী (স) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের পর বিভক্ত হলেও জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে থেকে মুসলমানেরা পরের কমপক্ষে ১০০০ বছর ধরে বিশ্বের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ শাসন করেছে। কিন্তু অষ্টাদশ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীতে এসে মুসলিমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে যেমন পিছিয়ে পড়ে তেমনি ধীরে ধীরে বিশ্বনেতৃত্ব থেকেও ছিটকে পড়ে। নামমাত্র অটোমেন সাম্রাজ্য থাকলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২৪ সালের পর খেলাফতও শেষ হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় পশ্চিমাদের এবং কমিউনিস্টদের উত্থান। ইউরোপীয় রেনেসাঁর ফলে সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ তাদের কাছে চলে যায় তারও আগে। যে রেনেসাঁ সৃষ্টির মূলে ছিলেন ইবনে খালদুন, আল খাওয়ারিজমি, ইবনে সিনা, জালালউদ্দীন রুমি, আল কিন্দি আল গাজালী, শেখ সাদি, হাফিজ বা জালালউদ্দীন রুমিসহ ডজন ডজন মুসলিম বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক কিন্তু তাদের উত্তরসূরিরা বিশ্বের নতুন পরিবর্তনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি। ফলে বিশ্বব্যবস্থা থেকে মুসলমানেরা ছিটকে পড়ে। শত শত বছর ধরে একটা সভ্যতা বা বিশ্বব্যবস্থা গড়ে ওঠে, যার পেছনে থাকে একটি পরীক্ষিত ডক্ট্রিন এবং বিশ্বশক্তি ও শিক্ষা। কিন্তু এই বিশ্বব্যবস্থার বাইরে যেতে হলে তার চেয়ে বড় মতবাদ নিয়ে এগোতে হবে। কিন্তু অর্ধশিক্ষিত মুসলমানদের ধর্মের দোহাই দিয়ে আবুল আলা মওদূদী যে ‘মওদূদীবাদ’ নিয়ে সামনে আসেন সেটা আরও ভয়ানক বিপদ ডেকে আনল খোদ মুসলমানদের জন্য। কেননা তিনি তার জিহাদ আল ইসলাম বইতে লিখেছেন গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র সবকিছু অনুসরণ করা হারাম এবং সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে অংশীদারত্বের সমানÑ মানে শিরক বা মহাপাপ! তার মতে গণতান্ত্রিক সমাজ বা সংসদে আইন তৈরি করা একটি শয়তানি ব্যবস্থা। এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ও উৎখাত করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব বলে তিনি ঘোষণা করেন।
গত ৯০ বছরে নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম, মধ্যপ্রাচ্যে আইসিস হামাস, আল কায়েদা, আলজেরিয়ায় ইসলামিক সেলভেশান ফ্রন্ট, পাকিস্তানে হিজবুল মুজাহিদিন, মিসরে ব্রাদারহুড, আফগানিস্তানে আল কায়েদা, সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে বা আজকের বাংলাদেশে জামায়াত ছাড়া এবং ১৯৭১ সালে আল শামস বা আলবদর সংগঠনগুলো প্রতিটি দেশের জন্য কি লাভ বা লোকসান করেছে মুসলমানদের সেই হিসাব করতে হবে। ১৯৯১ সাল থেকে পরবর্তী ১০ বছরে আলজেরিয়ায় কমপক্ষে ২ লাখ মুসলমান নিহত হয় জিহাদের নামে। উগ্র মওদূদীবাদ ফিলিস্তিনি জনগণের আন্দোলনে হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে বর্তমানে গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতার দুয়ার খুলে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কাশ্মিরে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধকে রেডিকাইলাইজড করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাশ্মিরের জনগণের সম্পর্ক মারাত্মক খারাপ করে। ফলে আরও বেশি সংখ্যক কাশ্মিরি মানুষ নিহত হয়।
মুসলমানদের দীর্ঘকালের জ্ঞানকেন্দ্র আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬০ সালে, মক্কার গ্রান্ড মুফতি আবদুল আজিজ আল বাজ ১৯৯৩ সালে, দেওবন্দের শায়কুল ইসলাম হুসাইন আল মাদানী ১৯৪৮ সালে, বেরলভী প্রধান সাইদ কাজমীসহ তাদের বিভিন্ন বইতে মওদূদীবাদের কঠোর সমালোচনা করেন এবং বলেন, ইসলাম কোনো রাষ্ট্র দখলের কৌশল নয় বরং রুহানি নৈতিক-ইমারত। রাজনীতি তার ফল, গোড়ার উদ্দেশ্যে নয়।
বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান অবস্থা কী? ২৪-এর আগস্ট থেকে জামায়াত নিজেদের অবস্থান অনেক বড় করে তুলে ধরতে চাইছে। সত্য বটে হাসিনার রোষানলে পড়া জামায়াতের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই বিএনপির মতো সাধারণ মানুষের সহানুভূতি জেগেছিল। তা ছাড়া হাসিনার আমলের ভয়ানক রাজনীতি এবং গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের কোনো বালাই না থাকাকে সেকুলার রাজনীতির অংশ বলে তুলে ধরে ধর্মভীরু মুসলমানদের আরও কাছে যেতে পেরেছে জামায়াত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমার নিজের পরিচিত এবং ঘনিষ্ঠ অনেককেই জানি তারা ধর্মীয় কারণে হোক বা ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত সৎ এবং পরোপকারী। তারা জামায়াতের কর্মকাণ্ডকে শুধু সমর্থনই করে না বরং জীবনের একটা অংশ মনে করতে শুরু করেছেন।
তাদের রাজনীতি যে নিয়ন্ত্রিত বা তাদের দলে কোনোদিন ক্যারিশমেটিক নেতৃত্ব তৈরি কেন হয় না তারা কি সেটা খতিয়ে দেখেছে? সহজ-সরল ধর্মপ্রাণ ছেলেমেয়েদের ইসলামের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে মুসলিম আইডেন্টিটির রাজনীতি করতে গিয়ে ইসলাম ধর্মের লাভ করছে না ক্ষতি করছেÑ এটা কি তারা বুঝতে পারছে? ২৫ কোটি মুসলিম ভারতে এই রাজনীতির শিকার, ৮০ বছর ধরে ফিলিস্তিনে জায়নিস্টরা একই কাজ করে যাচ্ছে, মিয়ানমারের বুড্ডিস্ট আইডি পলিটিক্সের শিকার রোহিঙ্গা মুসলমানরা। এই ভয়ানক আইডেন্টিটি পলিটিক্সের শিকার হয়ে আফ্রিকান কমপক্ষে ২০টা দেশসহ সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ অসহায় বা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে পরিগণিত। এটা কি জামায়াত জানে না?
শুধু ধর্মের পরিচয়ে রাজনীতি কতটুকু এদেশের মানুষ গ্রহণ করবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এর কুফলও আমরা বারবার দেখেছি। আমরা বিএনপির বা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে সমালোচনা করি কিন্তু রেজিমেন্টেড দলটি কনস্টিটিউশনাল এবং সংসদীয় রাজনীতি করার অঙ্গীকার করলেও দলের ভিতরে গণতন্ত্রের চর্চার কোনো চিহ্ন দেখা যায় না। তারা তাদের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের কোনো কিছুই প্রকাশ করে না বা করতে দেয় না। গণতান্ত্রিক সমাজে এটা অগ্রহণযোগ্য। জামায়াতের সাবেক সিনিয়র নেতা সদ্য প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক জামায়াত থেকে পদত্যাগ করার আগে ’৭১ এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এবি পার্টি গড়ার উদ্যোগ নেন।
সব শেষে বলতে চাই, ২০১৫ সালে সউদি আরবে মওদূদীর সকল বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বই বহনকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে সউদি সরকার। মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা মুসলিম বিশ্বে নিষিদ্ধ যে মতবাদ আমাদের সহজ-সরল শিক্ষিত ধর্মপ্রাণ মুসলমান শিক্ষার্থীদের কি স্কেপগোট করছে না? ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান গঠনের বিরোধিতা করেছিলেন মাওলানা মওদূদী এবং জামায়াত। ’৭১ সালে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার শুধু বিরোধিতাই করেনি, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করেছিল। আবার ২৪-এ সকল দলের সঙ্গে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েও এখন বিভিন্ন তালবাহনা করে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। পরাজিত ও পলাতক শক্তি আওয়ামী লীগ ও ভারত-বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিরোধী। তাহলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা দিয়েছে সেই নির্বাচনের বিরোধিতা করা কি অন্যের স্বার্থের অনুকূল নয়? গণতন্ত্রের কোনো পদ্ধতিই নিখুঁত নয়। পিআর বা সংখ্যানুপাতিক যে পদ্ধতির দাবি তুলে তারা নির্বাচন বয়কট করার হুমকি দিচ্ছে তাতে আবার প্রমাণিত হচ্ছে জামায়াত সব সময় ইতিহাসের ভুল পথে হাঁটছে। এবারও যেন তারা ‘রং সাইড অব দ্য হিস্ট্রি’!