সৈয়দা ফারিভা আখতার
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫ ১০:৪৭ এএম
প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে টেলিভিশনে, খবরের পাতা উল্টালে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং করলেই চোখে পড়ে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, হত্যা আরও কত কী! এমন সংবাদে মন ঘাবড়ে যায় এমনকি মনে অনেক প্রশ্নও জাগে যে আমরা কি আসলেই নিরাপদ?
আজকের দিনে নিরাপত্তা শব্দটি শুধু শব্দই রয়ে গেছে। যার প্রতিফলন মানুষ বাস্তবে খুঁজে পায় না। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ চায় নিরাপদ ভাবে বাঁচতে। যেখানে মা-বাবা তার সন্তানকে নিশ্চিন্তে স্কুলে পাঠাতে পারে, রাস্তায় বের হলে যেন কোনো মানুষের বুক আতঙ্কে ধড়ফড় না করে, এমনকি রাতে ঘুমোতে গেলে দরজা-জানালা নিয়ে বারবার মনে শঙ্কা না কাজ করে। কিন্তু বাস্তবে এগুলোর ঠিক উল্টোটাই ঘটে। যেখানে মানুষ রাস্তায় বের হলে মনের ভেতর ভয় কাজ করে যে এই বুঝি মোবাইল ফোন কিংবা টাকা-পয়সা ছিনতাই হতে পারে। এমনকি রাতে যাত্রীবাহী বাসে ভ্রমণ করার সময়ও চুরি-ডাকাতির শিকার হওয়ার আতঙ্ক কাজ করে। এ ছাড়া দিনের আলোতেও শহরের ব্যস্ততম রাস্তায় ছিনতাইয়ের ব্যাপক প্রসার ঘটছে। যেখানে নারীরা প্রতিদিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ভয় নিয়ে বের হয় যে কখন কোথায় কোনো হেনস্থার শিকার হতে হয় সেই চিন্তায়। আজকের দিনে মানুষের স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করা অনিশ্চয়তার মায়াজালে বন্দি হয়ে গেছে।
কিছুদিন আগেই রাজশাহীতে দিনের বেলায় এক শিক্ষকের গলায় প্রকাশ্যে ছুরি চালানোর চেষ্টা করেছিল এক ছাত্রী। এ ছাড়া ছিনতাই করার ঘটনা তো রোজই চোখে পড়ে। এমনকি কিছুদিন আগেও ঢাকায় সাংবাদিক তুহিনকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে হত্যা করেছে। এ ছাড়া এক ব্যবসায়ীকেও দিনেদুপুরে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছিল। সন্ধ্যার পর কিংবা ভোরবেলা কর্মরত মানুষকে লক্ষ্য করে ছিনতাইকারীরা হামলা চালাচ্ছে। ব্যস্ত সড়ক থেকে শুরু করে ফাঁকা অলিগলি পর্যন্ত কোথাও যেন নিরাপদ নয় মানুষ। এ ছাড়া কিশোর গ্যাংও প্রতিনিয়ত ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে। প্রতিদিনই তারা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এসব ঘটনা যেন এখন রোজকার ঘটনা হয়ে উঠেছে।
ছিনতাই আর হত্যার সঙ্গে সঙ্গে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য কাজও প্রতিনিয়ত ঘটছে। নারী ও শিশুদের জন্য বাংলাদেশ আজ ভয়ংকর এক অনিরাপদ জায়গায় হিসেবে পরিণত হচ্ছে। পত্রিকার পাতা উল্টালেই ছোট ছোট শিশু থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ কেউই নিরাপদ নয়। সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং করলে চোখে পড়ে কোথাও শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে, আবার কোথাও কিশোরী কিংবা নারীকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আর এসব খারাপ কাজের মূল কেন্দ্র হচ্ছে নির্জন স্থান। আবার দেখা গেছে অনেক সময় পরিচিত মানুষের হাতেই ঘটছে এসব কাজ। এমন পরিস্থিতি শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয় বরং পুরো সমাজকেই অনিরাপত্তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রতিদিনের এই দুঃসংবাদগুলো আর কত? বাংলাদেশে এসব অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে। যার মূলে রয়েছে বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, দারিদ্র্য ইত্যাদি কারণ। আবার অনেক সময় দেখা যায়, মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য ছিনতাই, ডাকাতি কিংবা খুনের মতো বড় বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তা ছাড়া কর্মসংস্থানের অভাবেও অনেক তরুণ এসব অপরাধের পথে পাড়ি জমাচ্ছে। যার ফলে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ও অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে। নারীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছে না। এমনকি শিশুদের শৈশবও কাটছে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে।
এসব প্রতিরোধ করার জন্য তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। এমনকি নগরীতে সিসি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যদি আমরা এসব ব্যবস্থা না করি তবে আগামী প্রজন্ম কেমন সমাজে বড় হবে? তাই এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।