× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিদেশি ঋণে প্রকল্প

ধারের টাকা পড়ে থাকা গুরুতর ব্যর্থতা

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৫ ১১:৫৪ এএম

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৫ ১২:১০ পিএম

ধারের টাকা পড়ে থাকা গুরুতর ব্যর্থতা

গরিব ও গরিবের দেশহিসেবে আমাদের মূল আকাল টাকার। টাকার অভাবে আমরা উন্নয়ন প্রকল্প করতে পারি না। তাই বিদেশি রাষ্ট্র সংস্থার কাছ থেকে আমাদের ধার-কর্জ নিতে হয় হাত পেতে। সেই অর্থের একটা বড় অংশ যদি  দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে অনুমোদন, অর্থছাড় ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় হওয়ার কারণে বিদেশি ঋণের বিশাল অর্থের অংশ ‘অলস’ পড়ে থাকে তাহলে তার চেয়ে বড় দু:খের কথা আর কী হতে পারে! যেখানে ঋণের টাকায় গতিশীল হওয়ার কথা ছিল উন্নয়ন, বাড়ার কথা ছিল কর্মসংস্থান ও অর্থপ্রবাহÑ সেসব কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের ৩৫ শতাংশই খরচ হয়নি। কেবল বিদেশি ঋণই নয়, সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) জুড়েই এই ব্যর্থতা দৃশ্যমান। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, বাস্তবায়ন হার গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরবর্তী-পরিস্থিতিতে বহু প্রকল্পের ঠিকাদার কাজ ছেড়ে দেন, কয়েকজন পরিচালক পদ ছেড়ে অন্যত্র বদলি হন। অন্যদিকে চলমান প্রকল্পগুলোর অপ্রয়োজনীয়তা ও দুর্নীতি ধরা পড়ার বিষয়টি সামনে এনে যাচাই-বাছাই করতেও সময়ক্ষেপণ হয়। ফলে প্রকল্পের গতি কমে যায়। কারণ যাই হোক, এতে আরএডিপির বাস্তবায়ন কম হওয়ায় উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কম হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়তে পারে। এতে ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে। কর্মসংস্থানের ওপর এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সার্বিক বিবেচনায় দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকারণ বৈকি। আমরা মনে করি, এই ক্ষতি পোষাতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে এখনই বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা করা জরুরি।

২৭ আগস্ট প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘বিদেশি ঋণের ৩৫ শতাংশই অলস পড়ে ছিল’ শীর্ষক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা। বাকি টাকা অব্যয়িত থেকে যায়। আইএমইডির তথ্যে জানা যায়, ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়ন ছিল খুবই নাজুক। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ছিল স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, ভূমি ও নির্বাচন কমিশন। এডিপিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৯টি প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার ৬৭৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এক বছরের মধ্যে খরচ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ২৩৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১৫টি প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ২৮৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ব্যয় হয়েছে ৩৫০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ৬টি প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৪৬৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। খরচ হয়েছে ১৭৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ২টি প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৪২৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। খরচ হয়েছে ১৩৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। একই চিত্র অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলোর ক্ষেত্রেও। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঋণের অর্থ অব্যবহৃত থাকা উন্নয়ন ব্যাহত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনছে। ঋণের অর্থ ব‍্যয় না হলেও ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যায়। তখন প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই ঋণ পরিশোধ করতে হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, ঋণদাতাদের আস্থা নষ্ট হয়, ভবিষ্যতে অর্থছাড় জটিলতা দেখা দেয়।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, গত দেড় দশকে দেশে বেশ কিছু বৃহৎ অবকাঠামো (মেগা প্রকল্প) বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেÑ পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, টানেল ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বাস্তবতা হচ্ছে, সব প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব এখনও আসেনি। কিন্তু এই খাতের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এতে দেশের অর্থনীতি এক জটিল ঋণের ফাঁদে আটকে গেছে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বিগত সময়ে প্রবৃদ্ধির সাফল্যগাথা প্রচার করা হলেও সকল ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের যথার্থতা ছিল না। সম্ভাব্যতাও সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের আর্থিক সংকট উত্তরণে ঋণ ব্যবস্থাপনায় এখনই পরিবর্তন আনা জরুরি। এমনকি নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই করে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে হবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সবচেয়ে ভালো হয়, ঋণনির্ভর না হয়ে স্বাবলম্বী অর্থনীতির দিকে মনোযোগ দেওয়া।

উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য গৃহীত বিদেশি ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার না হওয়া দেশের অর্থনীতিতে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলে না। এটা এক ধরনের রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় এবং অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না হলে কেবল বোঝা হয়েই দাঁড়ায় না, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগও নষ্ট করে। এ কথা সত্য যে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবস্থাপনার ঘাটতিই একটি বড় সমস্যা। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিচালনাগত দক্ষতার বিষয়টি। সরকার পালাবদলের পর অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান সংস্কার ও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সত্য, তবে আলোচ্য প্রকল্পগুলোর বিষয়ে পরিকল্পনাভিত্তিক কোনো কাজ হয়নি। আমরা মনে করি, দেশের উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে, উন্নয়নশীল এসব খাতে আস্থা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এটা নিশ্চিত করা গেলে তা হবে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্য ইতিবাচক সংকেত। তাই ঋণ গ্রহণ ও ব্যবহারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করতে হবে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস করতে হবে, সঠিক প্রকল্প নির্বাচন এবং স্থানীয় সম্পদ ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, ঋণগ্রহীতা দেশ হিসেবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক নীতিমালা উন্নত করার মাধ্যমে ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক। তাই সবার আগে দরকার বিদেশি ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা