শামসুল হুদা হিটু
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৫ ১১:০৬ এএম
আলুর জেলা খ্যাত মুন্সীগঞ্জের প্রান্তিক চাষি এবং হিমাগারে মজুদকারী ব্যবসায়ীরা আলুর দাম না বাড়ায় চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেক আলু ব্যবসায়ী রয়েছেন তারা আলু উত্তোলন না করে দলিল কোল্ডস্টোরেজে রেখে আসছেন। তার কারণ আলু বিক্রি করলেও তারা তাদের খরচটুকু পর্যন্ত ওঠাতে পারছেন না। দেশে অন্যান্য শাকসবজির দাম যেখানে আকাশচুম্বী সেখানে আলু কেউ ছুঁয়েও দেখছে না। বাজারে আলু বিক্রি না হয়ায় কোল্ডস্টোরগুলোও অলস সময় পার করছে। সামনে আলুর দাম বাড়ার সুযোগও তেমন নেই। তার কারণ সামনে আগাম নতুন আলু চলে আসবে। আবার বর্ষার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে পুরোদমে আলুর চাষ। এ সময়ের মধ্যে হিমাগারে যে পরিমাণ আলুর মজুদ রয়েছে তা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।
আলুর দাম পতনের অন্যতম কারণ হলোÑ আগের বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে আলু চাষ মার খেয়ে ফলন অনেক কম হয়েছিল। তাতে বাজারে আলুর দর বেড়ে ৮০ টাকা পর্যন্ত ঠেকে। সে লোভের কারণেই এ বছর দেশজুড়ে ব্যাপক আলু চাষ হয়েছিল। আবার গত বছরের তুলনায় এ বছর আলু রাখতে হিমাগারের ভাড়াও বৃদ্ধি করা হয়েছে। একদিকে আলুর দরপতন অন্যদিকে আলু হিমাগারে রাখতে যেয়ে খরচ পড়েছে বেশি। তাই চাষি এবং ব্যবসায়ীরা উভয়ই এখন ক্ষতির মুখে পড়ছেন। জেলায় ১০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে। কিন্তু উৎপাদন হয়েছে তার দ্বিগুণ। আবার এ জেলায় উত্তরাঞ্চলের লাল আলু এসে সয়লাব হয়ে গেছে। সেখানে হিমাগারের তেমন সুযোগ না পেয়ে তারা মুন্সীগঞ্জে এসে আলু রাখছেন।
এ জেলার কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা আলু নিয়ে মহাসংকটে পড়েছেন। প্রতি কেজি আলু এখন ১৩ থেকে ১৪ টাকায় হিমাগার থেকে বিক্রি করতে হচ্ছে। এখন সামনে যদি আলুর দাম বৃদ্ধি না পায় তাহলে ভবিষ্যতে জেলায় আলু চাষ অর্ধেকে নেমে আসবে। তাতে করে আবারও সাধারণ ক্রেতাকে ৮০ টাকা কেজি দরে আলু খেতে হবে। তাই সরকারকে কৃষকের পাশে এখনই দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্র আলু কিনে তা দেশের গরিব মানুষের মাঝে বিতরণ করতে হবে। তা ছাড়া আলু রপ্তানি বাড়ানো ছাড়াও কোনো গত্যন্তর নেই।