শাহ মো. জিয়াউদ্দিন
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৫ ১০:৩৬ এএম
ভোট, নির্বাচন পদ্ধতি, সংবিধান, রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই হত্যার বিচারসহ এসব ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে তীব্র বিতর্ক। বিএনপির শীর্ষ নেতারা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো নির্বাচন না হলে মাথাচাড়া দেবে ফ্যাসিবাদ, পাশাপাশি মৌলবাদ ও চরমপন্থার উত্থান ঘটতে পারে। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের মতে, বিএনপির এ বক্তব্য আসলে আওয়ামী লীগের পুরনো বয়ান, যা দেশের অনেক মানুষকে ভুক্তভোগী করেছে। এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, মৌলবাদ বা চরমপন্থা নিয়ে এক ধরনের রাজনৈতিক ট্যাগিং আমরা দেখে থাকি। এর ভুক্তভোগী কিন্তু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই। গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনা যে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছেন, সেখানে মৌলবাদ বা চরমপন্থার ট্যাগই ছিল প্রধান দমননীতি।
নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেনÑ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন। সেভাবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে ইসিকে। ইসিও সেই নির্দেশনা মোতাবেক প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যই অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান’। এদিকে বর্তমান সরকার ‘ফ্যাসিবাদের’ সঙ্গে আপস করছে, এ ধরনের অভিযোগ করেন জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পরে জনগণ যাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল তারাও আজ ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করছে। দেশকে ফ্যাসিবাদের কবল মুক্ত করতে হলে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দিতে হবে, যারা তড়িঘড়ি করে নির্বাচন চায় তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় না। প্রধান উপদেষ্টা ক্ষমতায় এসে বলেছিলেন, আগে সংস্কার ও বিচার তারপর নির্বাচন। আমরাও তাই বলতেছি।’ সংস্কার-বিচার না করে এবং জুলাই ঘোষণা ও সনদ বাস্তবায়ন না করেই যারা নির্বাচন চায় তারা মূলত ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায় বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের নায়েবে আমির। আর যাতে ‘ফ্যাসিবাদ’ ক্ষমতায় আসতে না পারে সে কারণেই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হওয়ার দাবি করে তিনি বলেন, আইন সভার দু’কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করতে হবে। অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, যখন জনগণ নির্বাচনমুখী, তখন কিছু ধর্মভিত্তিক দল শর্তের বেড়াজাল তৈরি করে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে নেমেছে। এতে মৌলবাদ ও চরমপন্থার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা যারা করছে, তারা গণতন্ত্রের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ইতিহাস বলে, এ ধরনের পরিস্থিতিতেই মৌলবাদ ও উগ্রপন্থার জন্ম হয়। তাই সংকট নিরসনে দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি। এটাকে যদি কেউ মৌলবাদ বলে গালি দিতে চান, সেটা তার ব্যাপার। মৌলবাদ কোনো গালি নয়, এটি মানুষের কল্যাণকামী একটি মতবাদ।
বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক শক্তি এবং সরকারের মধ্যকার সম্পর্কটায় ফাটল ধরার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এদিকে নির্বাচন কমিশন আসন্ন নির্বাচনের জন্য তৈরি করেছেন একটি রোডম্যাপ। সরকার চাইলেই তা তারা ঘোষণা করবে। প্রশ্ন হচ্ছে, এনসিপির দাবি জুলাই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি অর্থাৎ সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, তারপরে হবে নির্বাচন। বিএনপির বক্তব্য নির্বাচিত সরকার এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। আবার কতিপয় রাজনৈতিক দলের দাবি উচ্চকক্ষ গঠনের। সংসদ ছাড়া কি উচ্চকক্ষ গঠনের আইন পাস করা সম্ভব? এদিকে জামায়াত পিআর পদ্ধতি, উচ্চকক্ষ, জুলাই সনদসহ কিছু বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে ঐকমত্যে যেতে পারছে না। এদিকে আবার সরকার অনড় নির্বাচন নিয়ে। বলা যায়, সবার মত এক জায়গায় মিলিত হতে পারছে না? তাহলে নির্বাচনের কী হবে?
আমরা মনে করি, রাজনৈতিক অঙ্গনকে উত্তপ্ত না করে সকল পক্ষকে একটি ঐকমত্যে আসা দরকার।