অলিউর রহমান ফিরোজ
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১১:৩৫ এএম
দেশে এখন চলছে জ্বরের মহামারি। ভাইরাস জ্বরের প্রকোপের সঙ্গে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া সমানতালে ছড়িয়ে পড়ছে। আগে শুধু শহরের মধ্যেই ডেঙ্গুর ভয়াবহতা লক্ষ করা যেত। এবার গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া। সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গুর প্রভাব পড়েছে এবার বরগুনায়। যেখানে এখন ডেঙ্গুর ভয়াবহ মাতম চলছে। তার অন্যতম কারণ হলোÑ বরগুনা উপকূলীয় জেলা হওয়ায় সেখানে মিঠা পানির তীব্র অভাব থাকে সারা বছর। শুধু বৃষ্টিপাত হলেই পানি নিয়ে তাদের স্বস্তি মেলে। তাই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা হয় পুরো এলাকায়। সেই বৃষ্টির পানিই এখন বরগুনাবাসীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে এডিস মশা বাসা বেঁধে ডেঙ্গুর মহামারি সৃষ্টি করছে। আক্রান্ত মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। তবে সেখানকার সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না বিধায় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক থেকেই চড়া মূল্যে গরিব মানুষকে ডেঙ্গুর রক্ত পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। সেখানে মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়।
আরেকটি ডেঙ্গুর জোনে পরিণত হয়েছে মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার গোলাপবাগ এবং পঞ্চসার ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রাম। মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে উক্ত এলাকার ডেঙ্গু রোগীদের সামাল দেওয়াটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালের একজন ডাক্তার পাশের চেম্বারে বসিয়ে এক দিনে ২০০ রোগীর সিরিয়াল নিচ্ছেন। তিনি আবার হাসপাতালের বেডে এসেও পয়সার বিনিময়ে রোগী দেখছেন। মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালে ডেঙ্গুর সিবিসি পরীক্ষা ২০০ টাকায় করানো গেলেও এখানে চলে ভানুমতীর খেল। সকাল সাড়ে ন’টায় রক্ত পরীক্ষা দিলে রিপোর্ট মেলে দুপুর বারোটায়। আর ডেঙ্গু রোগীদের ওয়ার্ডে মেডিসিনের ডাক্তার আসেন সাড়ে এগারোটায়। তাই দালালরা ২০০ টাকার পরীক্ষা করাতে ফি নেন এক হাজার টাকা। তবে সরকারি হাসপাতালে টাকা দিলে সময়ের আগেই রিপোর্ট মেলে। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর রোগীদের অবস্থা আরও ভয়াবহ হচ্ছে। তবে জেলা শহর থেকে ডেঙ্গুর জটিল-কঠিন রোগীদের ঢাকায় প্রেরণ করা হলেও তাতে চিকিৎসাসেবা তেমন মিলছে না। তাই ডেঙ্গুর মহামারি অবস্থা সামাল দিতে সবাইকেই এখন সচেতন হতে হবে। বৃষ্টির পানি যাতে করে ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, চিপসের প্যাকেট এবং পরিত্যক্ত ভবনে জমে থাকতে না পারে তার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে সচেতনতাবোধ তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। যেহেতু ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসাব্যবস্থা নেই। শুধুমাত্র উপসর্গ ধরেই চিকিৎসা করা হয়।
ডেঙ্গুর প্লাটিলেট কমে যেয়ে রোগীর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় করে তোলে। তাই বিভিন্ন উপসর্গের চিকিৎসা নিতে অনেক টাকা খরচ হয়। তরল খাবারের মধ্যে ডাব এবং মালটার দাম ব্যয়বহুল। একটি ডাবের দাম ২০০ টাকা আর মালটার কেজি ৪৫০ টাকা। সরকারি হাসপাতাল থেকে নাপা আর গ্যাসট্রিকের ওষুধ ছাড়া আর তেমন কোনো ওষুধ দেওয়া হয় না। তাই গরিব মানুষের ডেঙ্গুর চিকিৎসা করাতে যেয়ে নাজেহাল পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। সাধারণ জ্বর এমনিতেই ভালো হয়ে যায় কিন্তু ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে একজন রোগীকে বেসামাল করে তোলে। তা ছাড়া করোনাও মাঝে মাঝে চোখ রাঙাচ্ছে। তাই সরকারকে এমন মহামারি রোধে আরও শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। নইলে সাধারণ রোগীদের অবস্থা বেসামাল হয়ে পড়বে।