মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ, সোনাগাজী, ফেনী
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৫ ১০:২৩ এএম
হঠাৎ করেই দেশে জ্বরের প্রকোপ বেড়ে গেছে। শহর থেকে গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অফিসÑ প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কেউ না কেউ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকের মধ্যে দেখা যাচ্ছে সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা। কেউ কেউ আবার কয়েক দিন পর পর আবারও আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকরা এটিকে ‘ভাইরাল ফ্লু’ বা ঋতু পরিবর্তনজনিত জ্বর হিসেবে উল্লেখ করছেন। এই জ্বর সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন স্থায়ী হয়। তবে কখনও কখনও জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয়, শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অন্যান্য জটিলতা দেখা দেয়। বিশেষ করে বাচ্চা, বয়স্ক এবং যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।
এই ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিবর্তন : বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টির কারণে পরিবেশে আর্দ্রতা বেড়ে যায়, যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ভাইরাল সংক্রমণ : এক ব্যক্তি থেকে আরেক জনের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একবার আক্রান্ত হলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মশাবাহিত রোগ : এই সময় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, টাইফয়েডের মতো রোগও ছড়িয়ে পড়ে, যেগুলোর উপসর্গ প্রায় ভাইরাল জ্বরের মতোই।
উপসর্গ ও লক্ষণ হলোÑ উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর, মাথা ও শরীর ব্যথা, গলা খুসখুসে ও কাশি, খাওয়ায় অরুচি, চোখে বা মাথায় চাপ, কিছু ক্ষেত্রে বমি ও পাতলা পায়খানা
জ্বর হলে বিশ্রাম নিন। দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান। তরল ও পুষ্টিকর খাবার যেমন স্যুপ, ডাবের পানি, ভাতের মাড়, ফলের রস খাওয়া দরকার। নিয়ন্ত্রণে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়। জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা শরীরে লাল দাগ, শ্বাসকষ্ট বা ঘন ঘন বমি হলে দেরি না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। বর্তমানে দেশে ভাইরাল ও মৌসুমি জ্বর এক ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আমাদের সবারই উচিত নিজে সচেতন হওয়া এবং পরিবার-প্রতিবেশীকেও সচেতন করা। ছোট একটি অসাবধানতা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই সময় থাকতে সতর্ক হই, সুস্থ থাকি।