× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান

ঐক্য-অনৈক্য এবং সংকট-সম্ভাবনা

ফজলে মিনহাজ

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৫ ১৩:১২ পিএম

ঐক্য-অনৈক্য এবং সংকট-সম্ভাবনা

চব্বিশের জুলাই ছিল ঐক্যের। বছর না ঘুরতেই পঁচিশের জুলাইতে সেই ঐক্যে এক ধরনের অনৈক্যের দামামা বেজে উঠল। ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই ঐক্যের স্টেকহোল্ডাররা আজ ক্রেডিটবাজি ও একে অপরকে হেয় প্রতিপন্ন করা নিয়ে ব্যস্ত। অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে, কার অবদান কতটুকু জাতির কাছে তা জাহির করাই যেন তাদের মূল লক্ষ্য! অথচ জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও জুলাই শহীদদের হত্যার বিচার নিয়ে আজ তারা কার্যকর পদক্ষেপ থেকে বহু দূরে। রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের তরুণরা নিজ নিজ প্লাটফর্ম ও কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত। ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে ঐক্যবদ্ধ কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি। অথচ, এখনও বহু অবুঝ সন্তান তার শহীদ বাবার লাশ কবর থেকে তুলে চুমু খেতে চায়, এখনও অনেক মা তার সন্তানের লাশ হয়তো গণকবরে আছে এ আশায় দূর থেকে জিয়ারাতে যায়, অনেক বাবা-মা তার ছোট্ট বাচ্চা হারিয়ে আজও দিশেহারা। এখনও আহত জুলাই যোদ্ধারা সুচিকিৎসার আশায় বুক বেঁধে আছে।

জুলাই যোদ্ধা ও শহীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হয়নি, নেওয়া হয়নি পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ। তার ওপর কেন বছর না ঘুরতে এত বিভাজন! কেন ‘রাজাকার’ ট্যাগিং, ‘বাংলা ছাড়’র মতো আওয়ামী বস্তা পচা স্লোগান আবার হাজির হলো। সব মিলিয়ে উত্তর খুঁজতে গেলে অবাক হচ্ছি! আমাদের আগামীর রাজনীতি পরাজিতদের হাতে তুলে দিতে যাচ্ছি না তো! আমরা কোনো চক্করে পড়ে কি আবারও দিল্লির ফাঁদে পা দিচ্ছি! আমরা মনে করি, দল এবং সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য আরও সুদৃঢ় ও দৃশ্যমান করা দরকার। আমরা মনে করি, মতপার্থক্য থাকলেও ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য জোরালো না হলে ষড়যন্ত্রকারীরা এটিকে সুযোগ হিসেবে নেবে।

গণভবন স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে, এটা সত্য। কিন্তু এর শাখা-প্রশাখা ও নানা আগাছা এখনও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এখনও সচিবালয় কিংবা সরকারি দপ্তরে ফ্যাসিবাদের চামচারা ঘাপটি মেরে বসে আছে। অনলাইন প্লাটফর্মেও সোচ্চার হয়ে উঠেছে পলাতক ফ্যাসিস্টের দোসররা। স্বৈরাচারের বড় দোসররা বিদেশে নিজেরা ভোগবিলাসে আরাম-আয়েশে জীবন কাটালেও দেশে থাকা কর্মীদের উস্কানি দিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে, যা তাদের কর্মীদেরই মার খাওয়ার বন্দোবস্ত করছে। 

এখনও রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি। এক গোপালগঞ্জে স্বৈরাচারের অনুগতদের নজিরবিহীন তাণ্ডবে আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর সক্ষমতায়ও বড় ধরনের ঘাটতি নজরে আসছে। ঘটনার পর খোদ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নিজেই গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন। পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা গোপালগঞ্জে যে তাণ্ডব চালিয়েছে তা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে পারলে বেশি কার্যকর হতো।

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট হয়তো ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়েছে, একটা রেজিমের সমাপ্তি করিয়েছে। হয়তো অতিবাহিত হয়ে যাওয়া একটা বছরে আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। অনেক অপ্রাপ্তি আছে। হতাশা থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, এটা একটা সম্ভাবনার শুরু, একটা আকাঙ্ক্ষার শুভ সূচনা। তাই সব ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ও সীমাবদ্ধতার জায়গাগুলোকে আমলে নিয়ে নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সব ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা সময়ের দাবি। অন্যথায় আগামীর বাংলাদেশ আবার পথ হারাবে। তখন সে পথ পুনরুদ্ধারে বড় কণ্টক পথ পাড়ি দিতে হবে। আবারও আমাদের দিল্লির আধিপত্যবাদের কাছে হেরে যেতে হবে। ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আমাদের আবার গ্রাস করে নেবে।

পঁচিশের নতুন বাংলাদেশের আরেকটি কলঙ্ক যুক্ত হয়েছে ‘চাঁদাবাজি’, যা জুলাইয়ের মর্মবাণীকে ম্লান করে দিচ্ছে। নতুন ও পুরনো দল সবাই এই কলঙ্কের কালি গায়ে মেখেছে। এই কলঙ্কের দায় থেকে মুক্ত হতে শুধু দলের নেতাকর্মীদের বহিষ্কার আর অব্যাহতি দিলেই চলবে না, তথ্য-প্রমাণসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তাদের তুলে দিতে হবে। দ্রুত কঠোর শাস্তি দৃশ্যমান করতে হবে। 

সেই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানে ঐক্যবদ্ধ সব রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতাদের উচিত হবে যারাই ঐক্য বিনষ্টের স্লোগান তুলবে বা তিক্ত বক্তব্যের ঝড় তুলে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতিকে কলুষিত করবে এবং আওয়ামী রাজনীতির বস্তা পচা সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। শুধু চেয়ার ও চেহারার রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার নয়। একটি পুরনো সিস্টেমের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ন্যায়-ইনসাফ, বৈষম্যহীন ও নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করা সব ছাত্র-শ্রমিক-জনতা ও মেহনতি মানুষের গণআকাঙ্ক্ষা। সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের সময় এখনও শেষ হয়নি। 

বৈষম্যের বেদনাই মানুষকে আন্দোলনে যুক্ত করেছিল। ছাত্র, শ্রমিক, নারী, শিশুর রক্তে এসেছে বিজয়। ভুলে গেলে চলবে না, বিজয় হাতছাড়া হওয়ার বেদনাময় ইতিহাস আছে বাংলাদেশের জনগণের। জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা এনেছে, স্বৈরশাসককে উচ্ছেদ করেছে। অথচ পরবর্তীতে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই সেই গণধিক্কৃত শক্তিকে বুকে টেনে নেবার নজিরও দেখিয়েছে বারবার। তাই অভ্যুত্থানের সাফল্যের বছর শেষে এসে আবার প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, এই রক্তের সিঁড়ি বেয়ে গণতন্ত্র কি আসবে? যে ছাত্রদের মাধ্যমে আন্দোলন তীব্রতা পেল, বিজয় অর্জিত হলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেই ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার তৎপরতা, রাজনৈতিক দলের ভূমিকা হেয় করে দেখা, ক্ষমতায় থেকে নিজেদের মধ্যে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টার লক্ষ্য করা যাচ্ছে-যা কাম্য নয়। 

আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সব হীনম্মন্যতা দূরে ঠেলে একটু গা ঝাড়া দিয়ে উঠলে জনমনে ফিরে আসবে স্বস্তি। বাস্তবায়িত হবে চব্বিশের আকাঙ্ক্ষা। সেই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের যে ‘দায় ও দরদের’ রাজনীতির কথা বলা হচ্ছে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও বিকল্প নেই।

  • কলাম লেখক ও গবেষক
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা