× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মুদ্রানীতি

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সমন্বিত পদক্ষেপ

ড. মো. আইনুল ইসলাম

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ১০:১২ এএম

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৩৫ পিএম

ড. মো. আইনুল ইসলাম

ড. মো. আইনুল ইসলাম

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমাত্রিক সংকট ও পুনর্গঠনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বৈশ্বিক মন্দার ছায়া, আমদানি নির্ভরতা, রিজার্ভের চাপের টান, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা মিলে সামগ্রিক অর্থনীতিকে একটি জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এর মধ্যেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের অগ্রাধিকার। ২০২৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতি এই বাস্তবতা প্রতিফলিত করেছে। এতে একটি সুস্পষ্ট সংকোচনমূলক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য চাহিদা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতিকে ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫-এ দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৫৫ শতাংশে, যা জুন মাসের তুলনায় সামান্য বেশি। এই পরিসংখ্যান একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশলের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে, তেমনি অন্যদিকে অর্থনীতির গভীরে বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতাকেও উন্মোচিত করে। বিশেষ করে আমদানি-নির্ভর খাদ্য ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার অকার্যকারিতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মূল্যস্ফীতির পেছনে অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক রিপো হার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর রয়েছে। স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ও স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটিকে যথাক্রমে ১১.৫০ শতাংশ এবং ৮ শতাংশে স্থির রাখা হয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ৯.৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে অর্থ সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমনের প্রয়াস দেখা যায়। সরকারের ও বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু পদক্ষেপে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, সরকার শুধু মুদ্রানীতির কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না; বরং সার্বিক আর্থিক খাতের সংস্কারের পথেও হাঁটতে চাইছে। কিন্তু এজন্যে যে ধরনের সামগ্রিক সমন্বয় প্রয়োজন, তা এখনও দৃশ্যমান হচ্ছে না।

দেশে মূল্যস্ফীতি গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ১১.৬৬ শতাংশ এ পৌঁছেছিল, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালের জুন মাসে এটি কমে ৮.৪৮ শতাংশে দাঁড়ায়, যা ২৭ মাসের মধ্যে প্রথমবার ৯ শতাংশের নিচে নেমেছিল। তবে, জুলাই ২০২৫-এ মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে ৮.৫৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭.৫৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.৫৫ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৮.৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নিম্ন ও স্থির আয়ের পরিবারগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ মূল্যস্ফীতির ৭৪ শতাংশ স্থানীয় পণ্য দ্বারা চালিত হয়েছে, যা জুন মাসে ছিল ৬১ শতাংশ। আমদানিনির্ভর পণ্যের অবদান ৩৯ শতাংশ থেকে কমে ২৬ শতাংশে নেমেছে, যা স্থানীয় উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে তুলে ধরছে। 

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতি সত্ত্বেও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, টাকার মূল্যহ্রাস আমদানিকৃত পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ২০২২ সাল থেকে টাকার মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্কনীতি এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভয়াবহ বন্যার কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যাহত হয়েছে, যা খাদ্যপণ্যের দামে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তৃতীয়ত, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে সঞ্চয় এবং বাজারে অস্বাভাবিকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটেও চাপ রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য উত্তেজনা এবং শুল্ক শোকাবহতা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে প্রভাবিত করছে। উচ্চ জাতীয় ঋণও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশে জনসাধারণের ঋণ বর্তমানে জিডিপির প্রায় ১০০ শতাংশ, যা ১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ শতাংশ ছিল। উচ্চ নীতি হার ঋণের সুদের খরচ বাড়ায়, যা আর্থিক সংকট বা মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। 

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাণিজ্য উত্তেজনা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক শুল্কনীতি রপ্তানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। তবে, দুর্বল চাহিদা, মুদ্রার অস্থিরতা এবং হাইড্রোকার্বনের দাম হ্রাসের কারণে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি কমার প্রত্যাশা রয়েছে। ফলে, বিশ্বের অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি হার কমাতে বা স্থিতিশীল রাখতে পারে। পণ্যের দাম ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে কমার সম্ভাবনা থাকলেও, বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক বাজারের এই অস্থিরতা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এ অবস্থায় মুদ্রানীতি একা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট নয়। সরবরাহ শৃঙ্খলার গতিশীলতা, উৎপাদন খরচ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধান করা প্রয়োজন। আমদানি শুল্ক কমানো, স্থানীয় পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো এবং বাজারে অস্বাভাবিকতা রোধে প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যকারিতা বৃদ্ধির প্রয়োজন। কঠোর মুদ্রানীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলার সমস্যা সমাধান একযোগে করা হলে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, অত্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি বিনিয়োগকে ব্যয়বহুল করছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে প্রবৃদ্ধির ক্ষতি করতে পারে। চাহিদা-সরবরাহের ব্যবধান পূরণ, পরিবহন খরচ কমানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নতির প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য, অর্থ, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া আসলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে ধারাবাহিকভাবে কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করে চলেছে, যা একদিকে যেমন নীতিনির্ধারকদের দৃঢ় সংকল্পের পরিচায়ক, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে। সরকার যেখানে চলমান অর্থবছরে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তথ্য উপস্থাপন করেছে, সেখানেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আশা করছেন, তা আগামী অর্থবছরে ৫-৬ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তবে, উচ্চনীতির হার ও ঋণের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ ও ভোক্তা ব্যয় হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়, যা অর্থনৈতিক স্থবিরতা বা মন্দার সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে। এর ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেমনÑ ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে উচ্চ সুদের হার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফল হলেও তা গভীর মন্দার জন্ম দিয়েছিল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও জটিল, কারণ উচ্চ বৈদেশিক ঋণের বোঝা এবং কাঠামোগত সংস্কারের ঘাটতি মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ অবস্থায়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ, এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির রূপান্তরÑ বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য নতুন শুল্ক নির্ধারণÑ রপ্তানি খাতে চাপ তৈরি করতে পারে। তৈরি পোশাক খাত এতে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তারপরও কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিতও লক্ষ করা যায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালে ৩.৮ শতাংশে নেমে এলেও ২০২৬ সালে তা ৬.৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে। পাশাপাশি, বিকল্প রপ্তানি বাজারে প্রবেশ, কৃষি ও এসএমই খাতে প্রণোদনা, অবকাঠামোগত সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ ভোগ চাহিদার ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারÑ সব মিলিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের একটি সম্ভাব্য পথ উন্মুক্ত হতে পারে। তবে এর জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও কার্যকর কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। ফলে বাংলাদেশ সামনে সম্ভাব্য বিপদ ও সংকটের মুখে থাকলেও, সুসমন্বিত নীতি ও প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সুযোগ এখনও বিদ্যমান। এজন্য সামনের দিনগুলোয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে তিনটি কৌশলিক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও ইউরোপীয় ও আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরালো করা, দ্বিতীয়ত, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়িয়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তৃতীয়ত, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি,  দরিদ্র ও নিম্নবিত্তমুখী প্রণোদনা জোরদার করে ভোক্তার আস্থা ফিরিয়ে আনা। যদিও ২০২৬ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৩.৬ শতাংশে নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তারপরও বাংলাদেশে উচ্চ খাদ্যমূল্য, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রানীতির সীমাবদ্ধতা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতি ও রেপো সুদহার বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে পারলেও, বিনিয়োগ ও উৎপাদনে ইতোমধ্যেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এর সঙ্গে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা যোগ হলে অর্থনীতির চিত্র আরও খারাপ হতে পারে।

বাংলাদেশ আসলে অর্থনীতির এক অস্থিরতা ও পুনরুদ্ধারের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলোর মধ্যেও যদি সরকার দক্ষনীতি গ্রহণ করতে পারে, তবে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। তবে সে লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অংশীদারত্ব অপরিহার্য। কেননা বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতি কমাতে কিছুটা সফল হলেও, সরবরাহ শৃঙ্খলার সমস্যা, মুদ্রার মূল্যহ্রাস ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এই প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে। এ অবস্থায় মুদ্রানীতির পাশাপাশি আর্থিক নীতি, সরবরাহ শৃঙ্খলার উন্নতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার সংস্কার একযোগে কার্যকর করা প্রয়োজন। সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ যেমন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক হ্রাস ইতিবাচক হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক নীতির সমন্বিত ও টেকসই নীতি প্রয়োজন। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সফলতা নির্ভর করবে এই সমন্বিত পদক্ষেপের কার্যকারিতার ওপর।

  • অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা