× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পরিবর্তনের রাজনীতি এবং অপরিবর্তিত যাত্রা

সুব্রত আপন,ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ১০:২১ এএম

পরিবর্তনের রাজনীতি এবং অপরিবর্তিত যাত্রা

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সংকট বহু আগে থেকেই চলে আসছে। পূর্বেকার সেনা শাসন, এরশাদের শাসনব্যবস্থায় গণতন্ত্রের যে সংকট পরিলক্ষিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগও তাদের আদর্শিক জায়গা থেকে সরে গিয়ে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধীদল দমন পীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানি, ভোটাধিকার হরণ, উন্নয়নের আড়ালে হাজার কোটি টাকা লুটপাট, একচ্ছত্রভাবে সরকারি বেসরকারি অফিসে আধিপত্য বিস্তার, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকের লেখায় হস্তক্ষেপসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে ছিল মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের এ শক্তিটি। এতকিছু হওয়ার পরেও বিশ্বনেতারা চুপ কেন হয়েছিল আপনার মনে সংশয় হতেই পারে। গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিগুলো এতবেশি সমন্বিতভাবে কাজ করছিল যে, আন্তর্জাতিকভাবে চাপ প্রয়োগ না হলে সেটি থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায়ও ছিল না। বিগত সময়গুলোতে দেখা মিলেছে গণতন্ত্রের আড়ালে কুচক্রী মহলেরা জনসাধারণকে প্রতিবারই আত্মবিশ্বাসের ফাঁদে ফেলে চেয়ার দখল করে ক্ষমতার মসনদে বসেছে। রাখেনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। অধিকার আদায়ের মিছিলে প্রশাসনের বাধার পাশাপাশি ঘটেছে প্রাণঘাতীর মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা, অহরহ বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এক কথায় বলা চলে, একটি অকার্যকর সমাজব্যবস্থার দিকে ছুটতে বাধ্য হয়েছিল  স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের শাসনামলে। 

বলা যায়, সবকিছুই ছিল নির্বাহী ক্ষমতার অধীনে। ফলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, রোষানলে পড়েছে নির্বাচন কমিশনের মতো স্বাধীন অফিসও। ফলে সাধারণ নাগরিকের কাছ থেকে বিছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি সরকারের প্রতি আস্থা কমতে শুরু করে। তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ বিগত তিন মেয়াদের আওয়ামী লীগের শাসনামলের অগণতান্ত্রিক পন্থার নির্বাচনে ৭০% লোক তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোটকেন্দ্রে যায়নি। প্রত্যেকবারেই জনগণ অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করে নির্বাচনী কাঠামো দেখে নির্বাচনবিমুখ হয়েছে। 

সে সময় দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলেও দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক সংকট, লুটপাট ও বৈষম্য। বস্তুতপক্ষে, বাংলাদেশে লাখ লাখ বেকার কাঙ্ক্ষিত পথ বা চাকরি বঞ্চিত হয়ে কেউ কেউ গার্মেন্টস কারখানায়, কেউ হোটেল-রেস্টুরেন্টে যুক্ত হয়েছে, কেউ ঢাকা শহরে রিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য গাড়ি চালাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা, পোষ্য কোটা, পোষ্য কোটায় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এত কোটার ভিড়ে আবার জেলা প্রশাসকের সুপারিশ, মন্ত্রী এমপির সুপারিশ, উপজেলা চেয়ারম্যানের সুপারিশের পাশাপাশি উপজেলার নেতাদের সুপারিশে চাকরি দিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে বরাবরই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে অনেকেই।

তবে হতাশার বিষয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী স্বার্থান্বেষী একটি মহল সুবিধাবাদী হয়ে জনগণের শত প্রত্যাশার বুকে কালিমা লেপন করছে প্রতিনিয়ত। এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ শহীদের লিস্ট হয়নি, হয়নি আহতের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার নিশ্চয়তাও। অথচ সেই সমন্বয়ক তথা জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা দাবি করে অনেকেই বিভিন্ন এলাকায় লুটপাট-চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হওয়ার খবর পত্রপত্রিকায় আসছে। রাতারাতি নেতা বনে যাওয়া সমন্বয়কদের হাতে এখন লাখ টাকার মোবাইল ফোন, ব্যাংকভর্তি টাকা, বাড়ি নির্মাণের কাজ চালাচ্ছে জোরসে। চলাফেরায় ব্যবহার করে দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি, জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করছে বিমান ফ্লাইট। চলাফেরায় দেখা  মেলে আভিজাত্যের ছোঁয়া। এ আত্মপরিবর্তনের রাজনীতির কবলে পড়ে জনসাধারণের পাশাপাশি ছাত্রসমাজও এখন তাদের ন্যায্য অধিকারগুলোতে বঞ্চিত হচ্ছে আগের মতোই। এমতাবস্থায়, ছাদবিহীন বাড়ির মতোই যখন-তখন বাড়ির মধ্যে বৃষ্টি পড়ছে। যে কেউ যেকোনো মানুষকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে, মারধর করছে, লুটপাট করছে, চাঁদাবাজি করছে, সর্বোপরি মব সৃষ্টি করে পুরো দেশটায় অস্থিতিশীল ও অনিয়ন্ত্রিত করে ফেলেছে। এর অবসান জরুরি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা