পলাশ কুণ্ডু, নীলফামারী
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ১০:১৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের সকল ব্যক্তি করদাতার আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের নির্দেশ দিলেও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সনদধারী করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা এবং মৃতব্যক্তি করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধির আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করার বাধ্যবাধকতা নেই; তারা চাইলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
প্রতিবছর কর দিবস ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের বিধান থাকলেও পরবর্তীতে জরিমানা প্রদান সাপেক্ষে যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যায়। দেশের অনেক করদাতা ম্যানুয়ালি বা অনলাইনে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে নিয়মিত কর পরিশোধ করা সত্ত্বেও ভোগান্তিতে পড়েন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করদাতা প্রযোজ্য ফরম পূরণ না করে অন্য ফরমে রিটার্ন দাখিল করেছেন, রিটার্ন ফরমে চাহিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁকি দিয়েছেন, মোট আয় নিরূপণে গরমিল করেছেন, প্রদেয় কর পরিগণনায় ভুল করেছেন, সম্পদের তথ্য কম বা বেশি প্রদর্শন করেছেন, ঋণসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এড়িয়ে গেছেন, উৎসে কর ও অগ্রিম কর-সংক্রান্ত কাগজপত্র সংযুক্ত করেননি, বিনিয়োগজনিত রেয়াত নির্ণয়ে ভুল করেছেন অথবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি পেশ করেননি। করদাতার এসব ভুল হওয়ার মূল কারণ ইচ্ছাকৃত তথ্য গোপন রাখা, অনলাইনে ভুল পন্থায় রিটার্ন দাখিল করা এবং আইনজ্ঞ ব্যক্তি দ্বারা রিটার্ন ফরম পূরণ না করানো। কর বিষয়ে ডিগ্রি-জ্ঞান-দক্ষতা আছে কি না তা যাচাই না করে সচরাচর মানুষ একে অপরের দেখাদেখি আশপাশের জানাশোনা বিশেষ পরিচয়বাহী ব্যক্তিকে দিয়ে ম্যানুয়ালি বা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণে আগ্রহ দেখান। পরবর্তীতে যখন ম্যানুয়ালি বা অনলাইনে দাখিলকৃত রিটার্নের তথ্য ও হিসাব-সংক্রান্ত ভুল উদ্ঘাটন হয় তখন করদাতাকে জরিমানা ও খেসারত দিতে হয়। সুদ, জরিমানা, দণ্ড, ভোগান্তি ইত্যাদি সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে নাÑ এমনটাই প্রত্যাশা দেশের সকল শ্রেণি-পেশার করদাতার।
তাই ম্যানুয়ালি বা অনলাইনে করদাতার ফাইল সাবমিশনে প্রতিটি কর অঞ্চলের আওতাধীন সার্কেল অফিসে বিশেষ পরিচয়বাহী ব্যক্তিদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধকরণে কর কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং কারদাতাকে মানসিক চাপে না ফেলে অনলাইন ও অফলাইনে রিটার্ন দাখিলের সহজ-নির্ভুল-অটোমেটেড পদ্ধতি বের করতে হবে। করদাতার উচিত ম্যানুয়ালি ও অনলাইনে রিটার্ন ফরম পূরণে কে কতটুকু পটু তা বিবেচনা না করে আয়কর-আইন ও অর্থ-আইন সম্পর্কে জ্ঞানী আইনজীবী বা ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার তথা আয়কর উকিলের পরামর্শ নেওয়া।