× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাক্ষাৎকার : আনু মুহাম্মদ

সেদিন আওয়ামী লীগের পতন না হলে আরও হত্যাকাণ্ড ঘটত

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ১০:১৪ এএম

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ১১:৪৪ এএম

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

আনু মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক। ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব। দায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় তেল-গ্যাস ও বন্দর রক্ষা কমিটি সদস্য সচিব হিসেবেও। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদে ছিলেন মুখর। হয়েছেন অত্যাচারিত-নির্যাতিত। গত বছর কোটা সংষ্কারকে ঘিরে গড়ে উঠা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন করা পেশাজীবীদের মধ্যে প্রথম সারির ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ২ আগস্ট দ্রোহযাত্রা নামে একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করে নতুন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানান। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিবেদক ফারুক আহমাদ আরিফ। সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

প্রবা: কোন বিষয়টি আপনাকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেছে

আনু মুহাম্মদ: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি,  ‍লুণ্ঠন, সম্পদপাচার, গুম-খুন, ক্রসফায়ার, দেশবিরোধী বিভিন্ন চুক্তি যেমন- রামপাল প্রকল্প, রুপপুর প্রকল্প এসব নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন যাবত কথা বলছিলাম। সরকার নির্বাচন ছাড়া অবৈধভাবে ক্ষমতায় ছিল। যতদিন যাচ্ছিল তারা তত বেশি অসহিষ্ণু ও স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছিল। এসবের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ, সভা-সেমিনার, লেখালেখি করেছি। শেখ হাসিনা সরকার যে মেয়াদোত্তীর্ণ। তার যে নির্বাচন দিয়ে দেওয়া উচিত, বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনাশী যেসব চুক্তি করছে তার সেসব অপরাধ। এগুলো অনেক আগে থেকেই আমরা বলে আসছিলাম। সুতরাং নতুন কিছু ছিল না।  

প্রবা: শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিটি আপনি কোন পরিপ্রেক্ষিতে করলেন

আনু মুহাম্মদ: গত বছরের ২ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিটি আমি করে ছিলাম। তার আগেও অনেক রাজনৈতিক দল ও বামদলগুলো দাবি তুলে ছিলো। সুতরাং পদত্যাগের দাবিটি সমাজে ছিল। ২ আগস্টের প্রেক্ষাপটটি ছিল ছাত্রদের কোটাবিরোধী আন্দোলন যা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে হচ্চিল। সরকার প্রথমে সেখানে নমনীয় ছিল। তারা ১৫ জুলাই আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের অত্যাচার, বিশেষ করে ১৬ জুলাই নির্বিচারে হত্যা শুরু করলো। তাতে বোঝা যাচ্ছিল সরকার ত এমনিতেই মেয়াদোত্তীর্ণ। তারপর আওয়ামী লীঘ যেভাবে হত্যাকাণ্ড শুরু করেছে তারা যদি ক্ষমতায় থাকে তাহলে আরো হত্যাকাণ্ড ঘটাবে। বাংলাদেশের আরো অনেক ক্ষতি হবে। তাদের গায়ে যে হত্যাকাণ্ডের দাগ সেটা আরো বেশি লাগবে। যত তাড়াতাড়ি বিদায় নিবে ততই ভালো। তখন দ্রোহযাত্রার অনুষ্ঠানে পদত্যাগ দাবি করি। তখন বলেছিলাম সরকার বিদায় নিলেই গণতন্ত্র আসবে না। তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের আলোচনা শুরু করা উচিত।   

প্রবা: আওয়ামী লীগের ক্ষমতা থাকাকালে দীর্ঘদিন যাবত সহযোগী ছিল বামদলগুলো ছিল। এটা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? 

আনু মুহাম্মদ: তাদেরকে বাম বলা মুশকিল। বাম দল বলতে বোঝায় যারা শোষণ-নিপীড়ন, বৈষম্য-বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। সাম্রজ্যবাদ ও আধিপত্যে বিরুদ্ধে থাকে। বাম মতাদর্শের অর্থই হলো তারা এসবের বিরুদ্ধে থাকবে। কোন দল বাম নাম নিয়ে সরকারের শোষণ-লুণ্ঠন, অর্থ পাচারের সহযোগী হয় তাদের বাম বলা যায় না। যারা গেছিল তারা ব্যক্তিগত সুবিধাভোগী অবস্থান থেকে গিয়েছিল। বাম আদর্শ নিয়ে যায়নি।

প্রবা: ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের শাসনের প্রথম দিকে আপনারা তেল-গ্যাস জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করেছিলেন। দীর্ঘদিন ১৬ বছরের পরিক্রমায় কতটুকু অগ্রসর হতে পেরেছেন? 

আনু মুহাম্মদ: অগ্রসর বেশি হয়নি। হলে বাংলাদেশে জ্বালানির সংকট প্রকট হত না। ফলাফল যায় হোক নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেই হবে। যদি কোন ভুল হয়, দেশের স্বার্থবিরোধী তৎপরতা ও চুক্তি হয়। সেটার প্রতিবাদ করতে হবে। ২০০৯ সালে সরকার মার্কিন কনোকো ফিলিপস কোম্পানির সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের তেল-গ্যাসসম্পদ নিয়ে একটি চুক্তি করতে চেয়েছিল। সেটি ছিল দেশের জন্য ক্ষতিকর। কেন ক্ষতিকর সেটির যথেষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেটি অগ্রাহ্য করে সরকার চুক্তির দিকে যাচ্ছিল। তখন সেপ্টেম্বরে পেট্রোবাংলা অভিমুখে একটি মিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়। বিজয়নগর পর্যন্ত গেলেই পুলিশ আক্রমণ করে। আমাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করে। এতে আমার পা বড় ধরনের আঘাতপ্রাপ্ত হয়। অন্যরাও প্রচণ্ড আঘাতগ্রস্ত হয়। পরের দিন মতিয়া চৌধুরী, এইচটি ইমাম, তৌফিক-ই-এলাহীসহ ১০-১২ জন পদস্থ ব্যক্তি হাসপাতালে দেখতে এসে কথা দেয় আমাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এ চুক্তি সাক্ষর করবে না। কিন্তু দুইদিন পর শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে ফিরে চুক্তি করে, তারা কথা রাখেনি। সেই চুক্তি হলেও কার্যকর হয়নি। আমরা বলেছিলাম এটি বাংলাদেশের পক্ষে যাবে না। তখন সরকার আমাদের কথা শুনে জাতীয় সক্ষমতা বাড়াত তাহলে এই ২০২৫ সালে গ্যাসের তথা জ্বালানি সংকট হতো না। এখন বিদেশ থেকে বেশি দামে এলএনজি আনতে হচ্ছে। বিদ্যুতের ব্যয় বেড়ে গেছে। এটি হত না। সাগর থেকে নিজেদের গ্যাস উত্তোলন করতে পারলে অনেক কম দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। ভর্তুকি দিতে হত না। সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী ও গতিশীল হত। কনোকো ফিলিপস শেষ পর্যন্ত গ্যাস উত্তোলন না করে শেয়ার বাজারে মুনাফা করে চলে গেছে। অর্থাৎ আমাদের দাবিগুলোই সঠিক প্রমাণিত হলো। এর পরেও সরকার একই পথে চলেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও সেই পথে চলছে। তারা বন্দর বিদেশিদের দিয়েছে। 

প্রবা: অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে শিক্ষাখাতে কী ধরনের পরিবর্তন পেয়েছেন

আনু মুহাম্মদ: এটি অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের শিক্ষাখাতে তেমন কিছু করার নেই তবে সূচনা করতে পারত। অনেক খাতে কমিশন করেছে। শিক্ষাখাতে একটি কমিশনের দরকার ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য নিয়োগে কিছু গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষার ব্যবস্থায় পরিণত হয়। আওয়ামী লীগ আমলে তাই হতো। এজন্য দরকার ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়া একেবারে দলীয়মুক্ত করা। একটি নিয়োগ পদ্ধতি সামনে নিয়ে আসা। এই সরকার যেসব নিয়েগি দিয়েছে সেখানেও সমস্যা আছে। এখানেও দলীয় নিয়োগের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। এখন আওয়ামী লীগ নেই তবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যার যেখানে প্রভাব সেখানে তারা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ায় ছাত্রলীগের অত্যাচার-নির্যাতন নেই। হলগুলোতে অত্যাচার-নির্যাতন নেই। তবে কোন কোন গোষ্ঠীর মধ্যে ছাত্রলীগ হওয়ার প্রবণতা আছে, চেষ্টা ও হুমকি-ধামকি আছে। মব সন্ত্রাসের প্রবণতা আছে। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণঅভ্যুত্থানের পর একটি পরিবর্তন উচিত ছিল, সেটির বড় অভাব দেখা যাচ্ছে। 

প্রবা: চাকরিতে কোটা না রাখা নিয়ে আন্দোলন অর্থাৎ কর্মসংস্থানের সুযোগের জন্য আন্দোলনটি হলো। সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে কী উদ্যোগ নিয়েছে? এখাতে অগ্রগতি কী লক্ষ্য করছেন

আনু মুহাম্মদ: কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার উল্লেখযোগ্য কোন উদ্যোগ নেয়নি। এ আন্দোলনটি হয়েছিল কর্মসংস্থান অর্থাৎ কাজের দাবিতে। সেটা কোটা আন্দোলন হিসেবে পরিচিত হলেও মূলত ছিল তরুণদের কাজের অভাব। বেকারত্ব বেশি। এখান থেকেই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছিল। এ সরকার আসার পর অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে লক্ষাধিক শ্রমিক নতুন করে বেকার হয়ে পড়েছে। শাহবাগ, পুরানা পল্টন, প্রেসক্লাবে অনেক সমাবেশ দেখেছি। সেখানে শ্রমিকদের, প্রাথমিক-কলেজ শিক্ষকদের, শিক্ষার্থীদের, পল্লি বিদ্যুতের সমাবেশ ছিল। সবার কেন্দ্রীয় দাবি ছিল কাজ অর্থাৎ কর্মসংস্থান দরকার। সরকার যদি খেয়াল করত কর্মসংস্থানের জন্যই আন্দোলনটি হয়েছিল, এসব লোকদের প্রতি সংবেদনশীল থাকত, তাদের কথা শুনত ও সমাধান করত তাহলে ভালো হতো। আমরা দেখলাম সরকার তাদের কথা শুনতেই রাজি না। আড়াই মাস যাবত তথ্য আপারা রাস্তায় বসে আছে তাদের কথা শুনা হয়নি। শ্রমিকরা বকেয়া মজুরির জন্য ঘুরাঘুরি করছে। কর্মসংস্থানে নতুন যোগ হওয়ার বদলে গত এক বছরে বেকারত্বের পাল্লা ভারি হয়েছে। সরকারের যে ভূমিকা গ্রহণের উচিত ছিল তা করেনি। তারা স্থায়ী সমাধান না করতে পারলেও অবনতি ঠেকাতে পারত। পরিবর্তনের সূচনা করতে পারত। দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারত, করেনি।  

প্রবা: আন্দোলনে সর্বশ্রেণির মানুষ, শ্রমিক অংশ নিয়েছিল। শ্রমিকরা সঠিক প্রাপ্য পেয়েছে? আর না পেলে সরকার তাদের প্রাপ্য কীভাবে দিতে পারে?

আনু মুহাম্মদ: গণঅভ্যুত্থানের সময় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এসেছে। আওয়ামী সরকারের অত্যাচার, হত্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ নানা কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে আন্দোলনে যুক্ত হয়ে অভ্যুত্থান ঘটায়। তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেয়িছেল। হকার, রিকশাচালক, গার্মেন্টস কর্মী থেকে শুরু করে সবাই শিক্ষার্থীদের পাসে আসলো। আন্দোলনে নিহতদের মধ্যে দুই শতাধিক শুধুই শ্রমিক ছিল। যেসব শিক্ষার্থী মারা গেছে তাদের বেশিরভাগই শ্রমজীবী পরিবারের। সুতরাং এ কথা বলা যায় গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী, নিহত-আহতদের অধিকাংশই শ্রমজীবী বা গরিব মানুষ। তারা যে গণঅভ্যুত্থানের প্রধান শক্তি সরকার যদি এটা খেয়াল করত তাহলে তাদেরকে উপেক্ষা করা, নির্যাতন করা, বকেয়া মজুরির জন্য শ্রমিকদের গুলি করা হয়েছে। এসব হত না। আগের সরকারের গুলিতে যেমন শ্রমিক নিহত হয়েছে, এ সরকারের গুলিতেও নিহত হয়েছে। কেন? শ্রমিকরা বকেয়া মজুরি চাচ্ছে, মজুরি বৃদ্ধি না কিন্তু। কাজ করছে মজুরি পায়। এ সরকারের আমলে প্রথম নিহত শ্রমিক চম্পা খাতুন। শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ আন্দোলনের সহযোগি শক্তি ছিল ছাত্রদের সঙ্গে। এটি খেয়াল করলে সরকারকে তাদের প্রতি সহানুভূতিশূল হওয়া, দাবি-দাওয়া বাস্তবায়ন করার কথা। অবশ্য প্রথম দিকে কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল। শ্রম উপদেষ্টা, মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করে ১৮ দফার চুক্তি হয়েছিল। সেখানে বকেয়া মজুরি রাখা যাবে না বলা হয়েছিল। কোন কারণ ছাড়া ছাটাই করা যাবে না। জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করতে হবে। অনেক কিছুই ছিল। সরকার চুক্তি সাক্ষর করলেও সেগুলো বাস্তবায়ন করেনি। এগুলো খুবই দুঃখজনক। কেননা যারা গণঅভ্যুত্থানের প্রধান শক্তি, তারাই আবার নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।  

প্রবা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই অর্থ ও সম্পদ পাচার, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা জানতে একটি শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি করেছিল। কমিটি তাদের প্রতিবেদনও দিয়েছিল। সেই আলোকে কাজ কতটুকু হয়েছে?

আনু মুহাম্মদ: শ্বেতপত্র কমিটির তথ্য কী আসবে সেটি পূর্বেই অনুমেয় ছিল। কেননা আমরা দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থচাপার, দুর্নীতি নিয়ে কথা বলছিলাম। সেই প্রতিবেদনে নতুন কিছু আসেনি। আমরা যা বলে আসতে ছিলাম তাই এসেছে। তবে এই সরকারের আমলে বেশকিছু দিক পরিবর্তন হয়েছে। যেমন- আগে ব্যাংক ঋণ নিয়ে মেরে দেওয়া হতো। সেটি কমেছে। রিজার্ভ বেড়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপের কারণে মুল্যাস্ফীতি কমেছে। ব্যাংক ব্যবসায় গতি ফিরছে। তবে এই সরকার যে বাজেট দিয়েছে সেখানে যুগান্তকারী কিছু পরিবর্তন আসতে পারত। আসেনি। বরং পুরনো ধাচেই রয়ে গেছে। শিক্ষায় ব্যয় কম ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা যুগান্তকারী কিছুই আসেনি। জনপ্রশাসনে বেশি ব্যয় ধরে আমলাদের খুশি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে গিয়ে বেশি দামে পণ্য আমদানি করছে। আইএমএফের কথা শুনতে গিয়ে দেশিয় পণ্য উৎপাদনে ভতুর্কি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

প্রবা: সরকারের এক বছরে আপনার দৃষ্টিতে বিশেষ অগ্রগতি কী হয়েছে

আনু মুহাম্মদ: প্রথম অগ্রগতি জাতির বুকের ওপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। এটাই জাতির জন্য বড় সফলতা। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের যুলুম-নির্যাতন থেকে মানুষ মুক্তি পেয়েছে। তবে সেই সংস্কৃতি থেকে মুক্তি মিলেনি। এখন বিএনপি, জামায়াত ও অন্য কয়েকটি দলের লোকেরা সেই কাজ করছে। তবে খারাপ দিক হচ্ছে পাইকারি আকারে মামলা বাণিজ্য্য হচ্ছে। মব সন্ত্রাস তৈরি হয়েছে। বিদেশিদের সঙ্গে গোপন চুক্তি হয়েছে। এসব কিছু সরকারের সাফল্যগুলোকে দুর্বল করে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের গণত্রান্ত্রিক পথে উত্তরণ দরকার। ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি দরকার।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা