× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শিক্ষাই পারে মানবসম্পদ বানাতে

মো. শামীম মিয়া

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১০:০৫ এএম

শিক্ষাই পারে মানবসম্পদ বানাতে

পৃথিবীর ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে বোঝা যায়, অধিক জনসংখ্যা বরাবরই একটি জটিল চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে এসেছে। উন্নত হোক কিংবা অনুন্নত, সব দেশই কোনো না কোনোভাবে এই সমস্যা মোকাবিলা করেছে, এখনও করছে। তবে প্রশ্ন হলোÑ এই ‘সমস্যা’ আদৌ কি কেবলই সমস্যা? নাকি এই জনসংখ্যাকে যথাযথভাবে পরিচালনা করলে তা হতে পারে এক অমিত সম্ভাবনার দ্বার? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার প্রয়াসেই আজকের এই আলোচনা। জনসংখ্যা : সম্ভাবনা না সংকট? বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা নিয়ে গবেষণা-তর্ক-বিতর্ক বহুদিনের পুরনো। কেবল জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিজে কোনো সমস্যা নয়; সমস্যা তখনই হয়, যখন সেই জনসংখ্যা প্রতিপালনে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যর্থ হয়, নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয় না, কর্মসংস্থানে সংকট বাড়ে, এবং জীবনের মান নিচে নেমে যায়। 

আঠারোশ শতকের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থমাস রবার্ট ম্যালথাস ‘জনসংখ্যা তত্ত্ব’ দিয়ে এই আলোচনার ভিত্তিপ্রস্তর গড়েন। তিনি বলেন, খাদ্য ও সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪...), আর জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮...)। ফলে এক সময় এসে জনসংখ্যা খাদ্য ও সম্পদের উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যায় এবং দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র্য ও অরাজকতা। ম্যালথাসের এই তত্ত্ব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধি যদি অর্থনৈতিক উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সেবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চলে, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে একটি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তবে প্রশ্ন উঠতে পারেÑ এই ধারণা কি আজকের আধুনিক বিশ্বে হুবহু প্রযোজ্য?

 তথ্যপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও শিক্ষার বিস্ময়কর অগ্রগতির যুগে কি আমরা ম্যালথাসের সেই পূর্বাভাসকে রুখে দিতে পারি না? শিক্ষা : সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয় : জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তরের সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো শিক্ষা। শিক্ষা মানুষকে সচেতন করে, দক্ষ করে তোলে, এবং শ্রমবাজারে প্রবেশের উপযুক্ত করে গড়ে তোলে। একজন শিক্ষিত মানুষ তার চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের পাশাপাশি সমাজ ও দেশকে উপকৃত করে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন জীবনঘনিষ্ঠ বাস্তবমুখী শিক্ষা। কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তি-ভিত্তিক জ্ঞান এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ মানুষকে দক্ষ করে গড়ে তোলে। একজন কৃষক যদি আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির জ্ঞান রাখেন, তাহলে তিনি তার উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়াতে সক্ষম হবেন। একজন গ্রামীণ নারী যদি সেলাই বা হস্তশিল্পে দক্ষতা অর্জন করেন, তিনিও হয়ে উঠতে পারেন আত্মনির্ভরশীল। আর একজন তরুণ যদি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন বা অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রশিক্ষিত হন, তাহলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জনসংখ্যা : বাংলাদেশ বর্তমানে একটি তরুণ জনগোষ্ঠী নির্ভর রাষ্ট্র। জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ২৫ বছরের নিচে। এই বিপুল তরুণ জনসংখ্যা একদিকে যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি সঠিক পথে পরিচালিত হলে হতে পারে দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রধান চালিকাশক্তি। 

আমাদের দেশে প্রতিবছর কয়েক লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করে, কিন্তু তারা অনেকেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থাকা সত্ত্বেও দক্ষতার অভাবে কাজ পায় না। সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে কারিগরি শিক্ষা ও ট্রেনিং কেন্দ্র বিস্তৃত করা জরুরি। প্রতিটি উপজেলায় প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা উচিত। সেখানে তরুণ-তরুণীরা হাতেকলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে। শিক্ষাই হবে রূপান্তরের মূল প্যানাসিয়া : ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’Ñ এটি নিছক একটি স্লোগান নয়, এটি একটি বাস্তব দর্শন। জনসংখ্যা তখনই সম্পদে রূপ নেয়, যখন সেই জনগোষ্ঠী সুশিক্ষিত, দক্ষ, আত্মপ্রত্যয়ী ও কর্মনির্ভর হয়। তাই বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া, এবং জনশক্তিকে মানবসম্পদে রূপান্তরের ধারাবাহিক রূপরেখা তৈরি করা। এই রূপান্তর শুধু জনসংখ্যার চাপ কমাবে না, বরং দারিদ্র্য, দুর্নীতি, দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা ও বেকারত্বÑ এসব সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধেও এক কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। জনসংখ্যাকে ‘সমস্যা’ থেকে ‘সম্পদ’-এ রূপান্তরের মূল চাবিকাঠি শিক্ষা। শিক্ষা ছাড়া কোনো দেশই উন্নয়নের পথে দীর্ঘমেয়াদে এগোতে পারে না। প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষা, কারিগরি জ্ঞান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারী শিক্ষার সম্প্রসারণÑ এই চারটি স্তম্ভকে ভিত্তি করে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে একটি মানবসম্পদভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে। জনসংখ্যা এখন আর ভয় নয়, যদি আমরা তার পেছনে বিনিয়োগ করি শিক্ষায়, দক্ষতায় এবং সম্ভাবনায়। 

  • শিক্ষার্থী, ফুলছড়ি সরকারি কলেজ, সাঘাটা, গাইবান্ধা
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা