ইমেইল থেকে
মো. আব্দুল মজিদ
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৩১ এএম
প্রতীকী ছবি
সর্বজনবিদিত একটা প্রবাদ রয়েছে, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’। কথাটা যদি সত্য হয় , তাহলে প্রাথমিক শিক্ষা সেটির প্রথম এবং প্রধান ভিত্তি। সময় পাল্টেছে। অনেক পরিবর্তন হয়েছে সর্ব ক্ষেত্রেই। প্রাথমিক শিক্ষায় যে পরিবর্তন হয়নি, তা বলছি না। তবে জনগণের প্রত্যাশা অর্জনের জন্য আরও বেশি কিছু প্রয়োজন। এক সময় ছিল না কোনো আধুনিক অবকাঠামো, বসার আসন, স্যানিটেশন ব্যবস্থা ইত্যাদি। আমরা নিজেরাই এক সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাকা বিল্ডিং কল্পনা করতে পারিনি। বছরের পর বছর ধরে জোড়াতালি দেওয়া বেঞ্চ ব্যবহার করতে হয়েছে। শিক্ষকের চেয়ার-টেবিলগুলোর দৈন্যদশা বর্ণনাতীত। বিদ্যুৎ তো ছিলই না। কখনও-বা বৃষ্টি এলে অপেক্ষাকৃত বৃষ্টি না পড়া কক্ষে জড়ো হতে হতো। দিন পাল্টেছে। পাশাপাশি বড় ধরনের কিছু না করতে পারলেও , যেকোনো সরকারই কিছুই যে করছে না, তা কিন্তু নয়। বিগত তিন দশকে চেষ্টা চলছে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে নানান পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।
প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে শতভাগ শিশু ভর্তি, শিশুর আনুষঙ্গিক ব্যয়ের চাপ কমানো, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রাথমিক শিক্ষাচক্র সমাপ্ত করতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুকে ধরে রাখার জন্য উপবৃত্তি, মিড-ডে মিল ব্যবস্থা খুব চমৎকার এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ। বর্তমানে সার্বিক পরিবেশের উন্নতি হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশ করছেন মেধাবী মুখ। তবুও প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তির হিসাবে ততটা উল্লসিত হওয়ার পর্যায়ে আসতে পারিনি আমরা।
যদিও-বা উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর তুলনায় আমরা সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে, তবু সীমিত সম্পদের এই রাষ্ট্রে যতটুকু সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তারই সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এগিয়ে যেতে হবে। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার জন্য কাজ করতে হবে নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে। শিক্ষকগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, এ কথা যেমনটি ন্যায্য এবং যুক্তিসংগত তেমনি এটির অভাবে সৃষ্ট মনঃকষ্টের কারণ যাতে শিক্ষার্থীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেদিকে সচেতন থাকা উচিত। শিক্ষকের নিজস্ব সৃষ্টিশীল উদ্ভাবনী শক্তি শিখন প্রক্রিয়াকে বেগবান ও স্থায়ী করতে পারে। বিদ্যালয়ের ভৌত পরিবেশ অনেকটাই শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন চাই, শিখন প্রক্রিয়াকে আনন্দদায়ক এবং গ্রহণ উপযোগী করে উপস্থাপন করা। এ ক্ষেত্রে মাল্টিমিডিয়া ভিত্তিক পাঠদান কার্যক্রম অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি উপায়। কিন্তু পাশাপাশি এ কথাও বলে রাখতে চাই; অনেক শিক্ষক আছেন, যারা নিজেরাই তাদের মেধা কাজে লাগিয়ে গোটা ক্লাসকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতে পারেন।
তাই বলা যায়, শিক্ষকের আন্তরিকভাবে পাঠদান নিশ্চিতই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাঠদান প্রক্রিয়াকে উন্নত, বিজ্ঞানসম্মত এবং ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে এ যাবৎ শিক্ষক প্রশিক্ষণও কম হয়নি। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে যারা এটি প্রতিপালন করছেন তাদেরকে একইভাবে সন্মানিত করা যেতে পারে। এভাবেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাতে করে শিক্ষকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়ে, সেসব ক্ষেত্র চিহ্নিত করে অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ প্রদান কিংবা অন্যান্য খাতে ব্যয় সংকোচন করে এটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। আশা করা যায়, সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবেন।