রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ০৯:১২ এএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫ ২১:০৭ পিএম
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে বারবার এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। একটানা বৃষ্টির ফলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বেড়িবাঁধ ছাপিয়ে যাচ্ছে। এতে উপকূল রক্ষা বাঁধে দেখা দিচ্ছে ভাঙন। ফলে বছরের এ সময় এলেই সংশয় আর উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটছে উপকূলবর্তী মানুষের। উপকূলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করে টিকে আছে এই জনপদে। কিন্তু বারবার উপকূল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একটি সময় গিয়ে অনেকে স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র পাড়ি দিচ্ছেন। এতে দেখা দিচ্ছে পারিবারিক, সামাজিক সমস্যাসহ নানা সংকট।
এ বছর বৃষ্টি মৌসুমে উপকূলে বড়সড় কোনো ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব না পড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ ও তালা উপজেলার শাহাজাতপুর গ্রামে কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে যেকোনো সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে বিস্তীর্ণ এসব এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এজন্য উপকূলীয় জনপদের মানুষ এখন দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে উপকূলের মানুষ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে।
কিন্তু তাদের এই চিৎকার, আর্তনাদ সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল পর্যন্ত পৌঁছেও পৌঁছাচ্ছে না। ফলে বারবার প্লাবিত হয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে উপকূলীয় জনপদের মানুষ কয়েক বছর পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের দিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরিভিত্তিতে নজর দেওয়া প্রয়োজন। উপকূলের এসব সংকট মোকাবিলায় উপকূলীয় বোর্ড গঠন করলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা যায়।
বিগত দুই দশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশিবার বিধ্বস্ত হয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদ। নদীর পানি বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বারবার ভেঙেছে উপকূল রক্ষায় নির্মিত বেড়িবাঁধ। এসব জনপদে আঘাতহানা আইলা, সিডর, আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ আজও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এর ওপর প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও না কোথাও ভেঙে যায় এই বাঁধ। ফলে সংকট যেন তাদের পিছে লেগেই থাকে। তা ছাড়া দেখা গেছে, উপকূলের অনেক বেড়িবাঁধ মূল সড়কের পাশে রয়েছে। সেখানে যদি ভাঙন দেখা দেয়, তাহলে সেই ভাঙন সংস্কারে সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়।
কারণ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তারা একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকে। এজন্য সরকারের এসব দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরগুলোর সমন্বয় করা জরুরি। অনেক সময় কর্তৃপক্ষের স্বজনপ্রীতির জন্য টেকসই বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে ঠিকাদাররা অনিয়ম-দুর্নীতি করে থাকেন। তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর, না গিয়ে ফাটল দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধ সংস্কার করার বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে ইতোমধ্যে যেসব প্রকল্প পাস হয়েছে, সেগুলো পরিকল্পিতভাবে এবং স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারলে উপকূলের সংকট অনেকটা কেটে যাবে বলে প্রত্যাশা রাখছি।