× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাকৃবির গবেষণা

কৃষি খাতে বালাইনাশক ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৫ ১৬:০৮ পিএম

কৃষি খাতে বালাইনাশক ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি

খাদ্য মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। চাহিদাকে সামনে রেখে কৃষিকাজে আবাদের পরিধি ও ধরন বদলেছে। অধিক ফলন নিশ্চিত করতে হাইব্রিড ও উচ্চফলনশীল জাতের ফলনের ব্যবহারও বাড়ছে। বেড়েছে ফসলের জন্য ক্ষতিকর রোগজীবাণু ও কীটপতঙ্গ। এরা ফসলের ক্ষতি করে উৎপাদন হ্রাস করে, চাষাবাদের খরচ বাড়িয়ে লাভ কমিয়ে দেয়। এসব দমন করতে বিভিন্ন রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে কৃষক। নামে বালাইনাশক হলেও রোগবালাইয়ের কারণ  হয়ে উঠছে এটি। এসব বিষাক্ত বালাইনাশক সরাসরি প্রভাব ফেলছে কৃষক, ভোক্তা ও পরিবেশের ওপর। উদ্বেগের এই তথ্যটি উঠে এসেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায়। ৩০ জুলাই বুধবার ঢাকায় এক কর্মশালায় তথ্যটি উপস্থাপন করা হয়। ‘বাংলাদেশে অধিক বিপজ্জনক বালাইনাশক ও রাসায়নিকের উন্নত ব্যবস্থাপনার জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক’ শীর্ষক কর্মশালায় গবেষণাটি উপস্থাপন করেন বাকৃবির প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. গোপাল দাস। আমরা মনে করি, কৃষিতে কীটনাশক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে শক্ত নজরদারি দরকার। 

৩১ জুলাই প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘দেশে অধিক বিপজ্জনক ২৫ বালাইনাশক চিহ্নিত’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণায় দেখা গেছে, এই বালাইনাশকগুলো ক্যানসার, কিডনি বিকলতা, হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। এদের অনেকগুলোই স্থায়ী জৈব দূষক হিসেবে দীর্ঘদিন পরিবেশে রয়ে যায়। গবেষণার অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ১৪টি অঞ্চলে প্রশিক্ষণ, র‍্যালি, মাঠ প্রদর্শনী ও ১০টি আঞ্চলিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে কৃষক, ডিলার ও কৃষি কর্মকর্তাদের সচেতন করতে নেওয়া হয় বিভিন্ন উদ্যোগ। উল্লেখ্য, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জরিপ (২০১৫-১৭) অনুযায়ী, তাদের হাসপাতালে ক্যানসারে আক্রান্ত পুরুষ রোগীদের মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ কৃষির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এই তথ্যই বলছেÑ বিষ কীভাবে খাদ্যচক্রে ঢুকে মানুষ ও পরিবেশে বিপর্যয় ডেকে আনছে। এই বাস্তবতায় দেশে প্রথমবারের মতো ‘অধিক বিপজ্জনক বালাইনাশক’ চিহ্নিত করল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। 

পরিসংখ্যানে জানা যায়, দেশে বালাইনাশকের পাঁচ হাজার কোটি টাকার বাজার। এর প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, দেশে ভূরি ভূরি মানহীন নিষিদ্ধ বালাইনাশকের কারণে আর্থিক ক্ষতি এবং প্রতারণার মুখে পড়ছে কৃষককুল। আবার ডিলারনির্ভর ব্যবসায়ীরা ‘লাভের গুড়’ খাওয়ার আশায় নানা কসরত করে বিদেশ থেকে নিম্নমানের বালাইনাশক উড়িয়ে আনছেন দেশে। বালাইনাশকের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবসা থামাতে নেই কর্তৃপক্ষীয় কোনো ফলপ্রসূ উদ্যোগ। 

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বালাইনাশকের প্রভাবে মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব দ্বিমুখী। প্রথমত, তাৎক্ষণিক প্রভাব এবং দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি। তাৎক্ষণিক প্রভাবের ফলে নাক ও চোখ এবং ত্বকে, গলায় চুলকানি, ঝিমুনি, ঝাপসা দেখা, খিঁচুনি, ডায়রিয়া ইত্যাদি হয়। কখনও শ্বাসকষ্টজাতীয় উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হাঁপানি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া আরও বিরূপ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে ক্যানসার, টিউমার, জন্মগত ত্রুটি, বন্ধ্যত্ব, অন্যান্য প্রজননগত সমস্যা, লিভারের ক্ষতি, প্রসটেটের সমস্যা, কিডনির ক্ষতি, ফুসফুসের ক্ষতি এবং দেহের অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি ইত্যাদি। শুধু তাই নয়, বালাইনাশকের অপরিকল্পিত ব্যবহারের ফলে মাটি, বায়ু, পানি প্রভৃতি দূষণ হতে পারে, বিশেষ করে পুকুর, জলাধার, খাল-বিল, নদী-নালা এবং এতে থাকা মাছ ও জলজপ্রাণী, ফাইটোপ্লাংটন, জুপ্লাংটন, জলজউদ্ভিদ, ব্যাঙ ইত্যাদি আক্রান্ত হতে পারে এবং বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। এসব পানি ব্যবহারকারী লোকজন ও গবাদিপশুও বালাইনাশকের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি ভূপরিস্থিত পানির সঙ্গে সঙ্গে মাটির নিচে অবস্থিত পানিও দূষিত হতে পারে। এর ক্ষতিকর প্রভাবে মাটিতে থাকা কেঁচো, শতপদী ও অন্যান্য পোকামাকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে মাটির ভৌতিক ও রাসায়নিক গুণাবলি নষ্ট হয়ে ভূমির উর্বরতার ক্ষতি হয়।

বালাইনাশকের নিরাপদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী, বিক্রেতা, ব্যবহারকারী এবং জনসাধারণ সকলকেই সচেতন হতে হবে। ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীর সুরক্ষা আগে নিশ্চিত করতে হবে। যেমন- মাস্ক, গ্লাভস এবং গাউন পরতে হবে। এ ছাড়াও, স্প্রে করার সময় মুখ ও ত্বক ঢেকে রাখা উচিত। বালাইনাশক ব্যবহারের পূর্বে এর লেবেল বা নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়াও, বালাইনাশক ব্যবহারের পর সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, যেমনÑ গা, হাত, পা, মুখ, চোখ এমনকি যেসব স্থানে শরীরে বালাইনাশক লেগেছে সেসব স্থান পরিষ্কার পানি ও সাবান দ্বারা ভালোভাবে ধুতে হবে এবং পরিষ্কার পানিতে গোসল করতে হবে। 

এ কথা সত্য যে, আমাদের জাতীয় অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত কৃষি। এ খাতে কর্মরত মানুষের স্বাস্থ্য বিশেষ গুরুত্ব পায় না। কৃষি খাত ও গ্রামীণ অর্থনীতির অনেক উন্নতি হয়েছে, কিন্তু কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিগত পরিস্থিতি সে তুলনায় উন্নত হয়নি। জাতীয় গড় আয়ু বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা কী মাত্রায় অন্তর্ভুক্ত, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। পরিসংখ্যান বলছে, কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত মানুষের মধ্যে মারণব্যাধিগুলো বাড়ছে এবং এর সঙ্গে বালাইনাশক ব্যবহারের সম্পর্ক আছে। তাই কৃষিজীবীদের মধ্যে যারা এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের ওপর এসব রোগের গবেষণা-সমীক্ষা চালানো প্রয়োজন। তবে বিশ্বের বহু দেশে ইতোমধ্যে গবেষণা হয়েছে, তা থেকে বালাইনাশকের সঙ্গে উল্লিখিত রোগগুলোর সম্পর্ক প্রমাণিত হয়েছে। আমরা মনে করি, এ তথ্য বিবেচনায় নিয়ে আমাদের কৃষি খাতে বালাইনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। এতে অধিক বিপদজনক বালাইনাশকের নিবন্ধন বাতিল ও নবায়ন বন্ধ করতে হবে, ডিলারদের লাইসেন্স আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি, মাঠ পর্যায়ে আইন বাস্তবায়নে কৃষি কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিতে হবে। নিরাপদ বিকল্প উপায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে। বিষয়টি তদারকি করতে পারে সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। আমরা চাই, কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত লোকজনের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হোক। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা