× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

কৃষিজমি রক্ষার বিকল্প নেই

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৫ ১৭:০৮ পিএম

কৃষিজমি রক্ষার বিকল্প নেই

জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। কিছু দ্বীপ ও নগররাষ্ট্র বাদ দিলে বাংলাদেশই বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। তারপরেও দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে। বাড়তে থাকা এ জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজন বাড়তি জায়গা। কিন্তু জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের আয়তন তো আর বাড়ানো যায় না। আর তাই বাসস্থানের বাড়তি চাহিদা মেটাতে প্রথমই টার্গেট করা হচ্ছে কৃষিজমি। এসব জমি ভরাটও হচ্ছে অবলীলায়। কৃষিজমি ছাড়াও বনজঙ্গল পরিষ্কার করে মাথাগোঁজার ঠাঁই করে নিচ্ছে মানুষজন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন ‘আবাসন প্রকল্প’ও গড়ে উঠছে। কিন্তু তা অপরিকল্পিতভাবে। ফলে দ্রুত শহরায়নের বিস্তার আমাদের কৃষিজমিকে গিলে খাচ্ছে। বলা যায়, নগর সভ্যতার ছোঁয়ায় আমাদের চেনা-পরিচিত গ্রাম ও শহরের আশপাশের কৃষিজমিগুলো তার চেনা দৃশ্য হারাচ্ছে। সেই ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে জনবসতি। এতে চাষযোগ্য কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমেই কমছে। হারিয়ে যাচ্ছে মেঠোপথ। মেঠোপথের পরিবর্তে আজ তপ্ত পিচ ঢালা সড়ক। এতে একদিকে যেমন খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হচ্ছি, তেমনি কৃষিজমিও রক্ষা করতে পারছি না।

এমন বাস্তবতায় কৃষিজমি রক্ষায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনার কথা উঠে এসেছে ৩০ জুলাই প্রতিদিনের বাংলাদেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে। নির্দেশনায় জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, কৃষিজমিতে আবাসন প্রকল্প করা যাবে না। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থার অনুকূলে এর আগে অধিগ্রহণ করা ভূমি অব্যবহৃত থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় রিজিউম করতে হবে। জেলা প্রশাসকদের এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রতি মাসে নির্ধারিত ছকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। হাউজিং বা আবাসন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে হলে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির আগে থেকে অনুমোদন নিতে হবে। শহর এলাকার কাছাকাছি গ্রামীণ ভূমি চিহ্নিত করে আবাসিক ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা-২০০১ অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ‘জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতি ২০১০ এবং কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি জোনিং আইন ২০১০’ অনুসারে কৃষিজমি কৃষিকাজ ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি করতে স্থানীয় প্রশাসন থেকে অনুমোদন নিতে হবে। গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে বহুতল ভবন করতে অবশ্যই নকশা অনুমোদন করতে হবে। জানা যায়, এই নির্দেশনার সিদ্ধান্তগুলো ১৬ জুলাই কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা যায়, দেশে মোট জমির পরিমাণ ১ কোটি ৪৯ লাখ ২১ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে চাষযোগ্য জমি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ২৬৬ হেক্টর এবং অনাবাদি জমির পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার ৫৫১ একর বা ৯১ হাজার ২৭৭ হেক্টর। এর মধ্যে প্রতিবছর আড়াই থেকে তিন হাজার হেক্টর চাষযোগ্য জমি অকৃষি কাজে ব্যবহার হচ্ছে। ফসলি জমিতে গড়ে উঠছে বড় বড় দালান, কলকারখানা ও নানা প্রতিষ্ঠান। এ প্রেক্ষিতে সরকার এই কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কৃষিজমি ভরাট এবং অকৃষি কাজে ব্যবহারের ব্যাপারে অতীতের সরকারগুলোর সময়ও বিভিন্ন নির্দেশনা ছিল। কিন্তু অদৃশ্য কারণে অনেকেই তা মানত না। নিয়মের তোয়াক্কা না করেই এভাবে ভরাট করায় কৃষিজমি কমছে এবং বিপরীতে খাদ্য উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটছে। যদি চাষযোগ্য জমিই না থাকে তাহলে ফসল উৎপাদন হবে কোথায়। অবস্থা এমন যে, আমরা হাঁটছি নগরায়ণ সভ্যতার দিকে অন্যদিকে প্রতিদিনই হারাচ্ছি কৃষিজমি। পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খাদ্য নিরাপত্তা। যে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা যত শক্তিশালী সেখানে অর্থনৈতিক অবস্থা তত স্থিতিশীল থাকে। বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। আর খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন কৃষিজমি। সেই কৃষিজমিই আমাদের কমছে। আরেকটা বিষয় এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, দেশে অপরিকল্পিত আবাসন ও শিল্প-কলকারখানার পাশাপাশি নতুন নতুন ইটভাটা গড়ে উঠছে। এক হিসাবে দেখা গেছে, দেশে সাড়ে চার হাজারের বেশি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। যার বেশিরভাগই কৃষিজমি নষ্ট করে। আমাদের উন্নয়নের প্রয়োজন আছে কিন্তু তাই বলে কৃষিজমিকে হত্যা করে নিশ্চয়ই নয়। 

বাংলাদেশ আজও কৃষিনির্ভর। কৃষিজমি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পায়ন ও অন্যান্য আর্থিক সংগতির পথে দেশ অগ্রগামী হলেও এখনও বেশিরভাগ মানুষ কৃষি সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। কৃষিপণ্য উৎপাদনে আমরা অনেকটা সংসম্পূর্ণ। কিন্তু এভাবে কৃষিজমি হারাতে থাকলে দেশ একসময় খাদ্য উৎপাদনের ঝুঁকিতে পড়বে। কৃষক তার মূল পেশা হারাবে। পরিবেশ অধিদপ্তর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, এভাবে ভূমির অবক্ষয় চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে কোনো কৃষিজমি থাকবে না। এমনিতেই গড়ে প্রতিবছর প্রায় ৬৯ হাজার হেক্টর আবাদি জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। তাই কৃষিজমিতে আবাসন বন্ধ করা উচিত। এভাবে কৃষিজমি ব্যবহারে খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে, যা চরম খাদ্য সংকট সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প নির্মাণের কারণে পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি, জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

এ কথা মানতে হবে, নগরায়ণের বিস্তার রোধ করার কোনো উপায় নেই। সেটা রোধ করাও সম্ভব নয়। সে কারণে নগরায়ণের বিস্তারে কৃষি ও অ-কৃষিজমি পৃথক করে অ-কৃষিজমিতে শিল্প গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করতে হবে। আর আমাদের দেশের জনসংখ্যার বাস্তবতায় একক বাড়ির চেয়ে বহুতল ভবনের সংখ্যা খুবই কম। বিশ্বের বহু ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বহুতল ভবনের সংখ্যাধিক্য দেখা যায়। তাই একক বাড়ি নয়, আমরা যদি বহুতল ভবনের দিকে ঝুঁকি তাহলে কৃষিজমির ওপর চাপ কমে আসবে। ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিজমি রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কৃষিজমি থেকে অপরিকল্পিত স্থাপনা গড়ে ওঠা ঠেকাতে হবে। বর্তমানে ১৮ কোটির বেশি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যে পরিমাণ কৃষিজমি রয়েছে সেই জমির অনেকটাই যে হুমকির মুখে- তা স্পষ্ট। যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে তা রক্ষা করতেই হবে। আমরা মনে করি, কৃষিপ্রধান অর্থনীতির দেশে কৃষিজমি রক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা