নাছির মিয়া দেওয়ান
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৫ ১৬:৫৪ পিএম
অগ্নিকাণ্ড বিশ্বের যেকোনো স্থানের জন্য এক ভয়াবহ দুর্যোগ। যা মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে মানুষের জীবন ও সহায়-সম্পদ। অতি সম্প্রতি দেশের কয়েকটি স্থানে ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আমাদের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। যদিও সঠিক প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমরা এ বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারি।
এ কথা সত্য যে,অগ্নিকাণ্ডসহ যে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জনসচেতনতা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, বাজার এবং আবাসিক ভবনগুলোতে নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তার প্রাথমিক ব্যবস্থা থাকা জরুরি। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শপিংমলগুলোতে কয়েক মাস পর পর মহড়া আয়োজন করা উচিত। আগুন নেভানোর প্রাথমিক কৌশলগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট বিল্ডিং কোড রয়েছে; কিন্তু অনেকে সেগুলো মানেন না। ভবন নির্মাণের সময় অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হবে।
আমাদের দেশে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট ও গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন লাগার ঘটনা বেশি হয়। তাই নিয়মিত ইলেকট্রিক লাইন ও গ্যাস সংযোগ পরীক্ষা করতে হবে। প্রতিটি ভবনে ফায়ার এক্সটিংগুইশার, বালতির পানি, বালুর বস্তা এবং ফায়ার ব্ল্যাঙ্কেট রাখতে হবে। সেই সঙ্গে এসব সরঞ্জাম কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা জানা থাকতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও বেশি প্রচারণা চালাতে হবে। অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করা যেতে পারে। আগুন শনাক্ত করার জন্য স্মোক ডিটেক্টর এবং স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন করা উচিত। এ ছাড়া ফায়ার অ্যালার্ম ও স্প্রিংক্লার সিস্টেম প্রতিটি বড় স্থাপনায় থাকা প্রয়োজন।
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে হলে এখনই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। নিজেরা সচেতন হতে হবে এবং অন্যকেও সচেতন করতে হবে। তবেই হয়তো আমরা এ ধরনের দুর্বিপাক থেকে রক্ষা পেতে পারি।