অলিউর রহমান ফিরোজ
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৫ ১৬:৫১ পিএম
উত্তরার প্রজাপতিগুলো এখন জান্নাতের ফুলবাগানে উড়ে বেড়াবে। মাইলস্টোনের ওপরে বিমান দুর্ঘটনায় ঝরে পড়া ফুলগুলোর জন্য সারা দেশের মানুষ এখন চোখের জল ঝরাচ্ছে। বাচ্চাগুলো যেন দেশের প্রতিটি মানুষের। শোকাবহ এ পরিস্থিতিতে সান্ত্বনার নেই কোনো ভাষা। সকালে বাবার সঙ্গে ছোট্ট এক সোনামণি আড়ি করে স্কুলে এসেছিল। তার অভিমানের কারণ বাবা তাকে ঘুরতে নিয়ে যাবে বলে নেয়নি। তাতেই বাবার সঙ্গে আড়ি করেছিল মেয়েটি। সে কথা বারবার মনে করেই বাবা মূর্ছা যাচ্ছেন। শিক্ষিকা মেহেরীন চৌধুরী নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে একাই ২০ জন বাচ্চাকে বাঁচিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। তার মর্মবেদনা কোনো ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়। শত শত হতাহত বাবা মায়ের বুকফাটা ক্রন্দনে যখন চারদিকের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হচ্ছে তখন দেখলাম কিছু সিএনজি আহতদের না নিয়েই চলে যাচ্ছে। আগুনে দগ্ধদের শরীরে পানি দিতে হবে তাই একজন বাবা তার সন্তানের জন্য এক দোকানে গিয়েছেন পানির বোতল কিনতে। সেখানে দু’বোতল পানির দাম হাঁকা হয়েছে ৬০০ টাকা। আরেকজন আহতের স্বজন তার বাচ্চাকে কাছের একটি হাসপাতালে নিতে সিএনজি ভাড়া গুনেছেন হাজার টাকা। আবার একটি বাচ্চা জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মাঠ দিয়ে বের হচ্ছে তাকে ধরার মতো কেউ নেই। তার সেলফি তোলায় অনেকে ব্যস্ত ছিল। কী ভয়ানক এবং বিভীষিকাময়।
জীবনবোধে এ মানুষগুলোর আচার-আচরণ সত্যিই মর্মপীড়া দিয়েছে। যেখানে বাচ্চারা জীবন্ত দগ্ধ হচ্ছে সেখানে দোকানির পানির ব্যবসা ছিল নিষ্ঠুরতায় ভরা। শত শত মায়ের পরম আদরের ধন হারিয়ে তারা এখন হতবিহ্বল। হাসপাতালগুলোতে বাচ্চাদের চিকিৎসা দিতে যেয়ে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। সেখানে আগুনে পোড়া দগ্ধদের আর্তচিৎকারে চোখের জল কেউ ধরে রাখতে পারেনি। তবে সামরিক প্রশিক্ষণ বিমান জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেন রোডম্যাপ করা হলো তা কারও বোধগম্য হচ্ছে না। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণের বিমান যাতে উন্মুক্ত এলাকায় বেছে নেওয়া হয় তার জন্য উত্তরার এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি দেশের মানুষ ভালোভাবে নেবে না। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় যেমন নিষ্ঠুর লোক রয়েছেন তেমনি মেহেরীন চৌধুরীর মতো একজন মমতাময়ী শিক্ষিকাও আছেন। তার আত্মবলিদানে অনেকগুলো বাচ্চা জীবন্ত তাদের বাবা-মায়ের কোলে ফিরতে পেরেছেন। আল্লাহ পাক তাকেও যেন পরকালে ছোট ছোট জান্নাতি ফুলগুলোর সঙ্গে রাখেন।