ন্যাপ-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৫ ১৬:০০ পিএম
স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান, আফ্রো-এশিয়া-লাতিন আমেরিকার নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তি সংগ্রামের কণ্ঠস্বর মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ গঠিত হয় ১৯৫৭ সালের ২৬ জুলাই। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ‘আওয়ামী লীগ’ ত্যাগ করেই তিনি ‘ন্যাপ’ গঠন করেছিলেন। আগামীকাল ২৬ জুলাই সেই ন্যাপ’র ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি তারিখে টাঙ্গাইলের কাগমারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। এই মতভেদই মূল দল ছাড়ার কারণ।
ঢাকার স্বামীবাগে কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা হয়। তবে দলটির জন্মসূত্রের সঙ্গে পুরনো ঢাকার ১৫০ নম্বর মোগলটুলিতে শওকত আলীর বাসভবনের সম্পর্ক ছিল অবিচ্ছেদ্য। ওই সময় দলের স্থায়ী কোনো কার্যালয় না থাকায় ১৫০ মোগলটুলিকেই অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ছাত্রলীগের গোড়াপত্তনও হয়েছে মোগলটুলির এই ঠিকানায়। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক ও শেখ মুজিবুর রহমান ও খন্দকার মোশতাক আহমদকে যুগ্ম সম্পাদক করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আওয়ামী লীগের শুরু। আদর্শিক কারণে আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে পড়ে। ১৯৫৭ সালের ১৮ মার্চ মওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ত্যাগ করেন।
মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে নয়; সুসময়ে দল ছেড়েছেন। যে দলটির তিনি শুধু প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিই নন, দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি এই দলটিকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সকল অঞ্চলে সকল সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তুলেছিলেন। সেই দল পরিত্যাগ করার সময় তিনি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছিলেন বৈকি! কিন্তু আদর্শের কাছে আপস করা তার ধাতে ছিল না। তাই তিনি ‘৫৭ সালের ১৮ মার্চ অলি আহাদের মাধ্যমে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান বরাবর এক পদত্যাগ পত্র পেশ করেন। সপ্তাহখানেক পর ২৬ মার্চ আওয়ামী লীগ কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আবেদন শিরোনামে এক প্রচারপত্রে তিনি বলেন, ‘২১-দফা দাবি আদায়ের জন্য সারা দেশময় আন্দোলন করুন।’ যদিও শেখ মুজিবুর রহমান ভাসানীকে তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্য জোর অনুরোধ জানান।
১৯৫৭-র ২৫ জুলাই মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে সম্মেলন শুরু হয় একদিকে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা অন্যদিকে হুমকি ও ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে। সম্মেলনে ভাসানী তার দীর্ঘ লিখিত ভাষণে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে নতুন দল গঠনের প্রেক্ষিত বর্ণনা করেন। কৃষিপ্রধান পাকিস্তানের কৃষকদের সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার দশ বছর পরও দেশের কৃষকসমাজ স্বাধীনতার কোনো আস্বাদন পায় নাই। তারা আজ ভুখা।’ শ্রমিকদের শোষণের বিরুদ্ধে সরকারের নিন্দা করে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি থেকে বঞ্চিত, তারা কোনো আন্দোলন করতে গেলে তাদের ওপর নেমে আসে অবর্ণনীয় নির্যাতন। প্রশাসনে ব্যাপক দুর্নীতি।’ তিনি তাঁর ভাষণে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন, পররাষ্ট্রনীতি ও বৈদেশিক সাহায্য সম্পর্কেই বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সম্মেলনে পশ্চিম পাকিস্তান হতে যোগ দিয়েছিলেন সীমান্ত গান্ধী খান, আবদুল গাফফার খান, পাঞ্জাবের মিয়া ইফতেখার উদ্দিন, সিন্ধুর জিএম সৈয়দ, পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক ওসমানী, বেলুচিস্তানের আবদুস সামাদ খান আচাকজাই, খান আবদুল ওয়ালী খান, পাঞ্জাবের মেজর ইসহাক, ব্যারিস্টার মিয়া মাহমুদ আলী কাসুরী, আফজল খান, প্রিন্স আবদুল করিম, গাউস বকস বেজেঞ্জো, খায়ের বকশ মারী, আতাউল্লাহ খান মেঙ্গল, আবরার আবদুল গফুর, আবরার সেকেন্দর খান, গোলাম মোহাম্মদ লেঘারী, হাশিম খান গিলয়াই, আবদুল মজিদ সিন্ধী প্রমুখ।
যে সকল নেতাকর্মী সম্মেলন সফল করতে নিরলস ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেনÑ হাজী মোহাম্মদ দানেশ, মোহাম্মদ তোয়াহা, মোজাফ্ফর আহমদ, মহিউদ্দিন আহমদ, পূর্ণেন্দু দস্তিদার, সৈয়দ আলতাফ হোসেন, চৌধুরী হারুন-উর রশীদ, পীর হাবিবুর রহমান, অলি আহাদ, দেওয়ান মাহবুব আলী, আতাউর রহমান, বেগম সেলিনা বানু, মণিকৃষ্ণ সেন, কাজী মোহাম্মদ ইদরিস, আবু জাফর শামসুদ্দিন, হাতেম আলী খান, মোহাম্মদ সুলতান, শওকত আলী খান, ইয়ার মোহাম্মদ খান, ডা. আবদুল করিম, অধ্যাপক মফিজুল ইসলাম, মাহমুদ আলী, মোখলেসুর রহমান সিধু মিয়া, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, মীর্জা গোলাম হাফিজ, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস, সাইদুল হাসান, নুরুল হক চৌধুরী, সলিমুল হক খান মিল্কি, আবদুল মোত্তাকিম চৌধুরী, আবদুস সামাদ আজাদ প্রমুখ।
পরদিন দৈনিক সংবাদ-এর প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো এরূপ ‘পাকিস্তানের উভয় অংশের গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহের সমন্বয়ে পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি নামে নয়া রাজনৈতিক দল গঠিত। ঢাকায় অনুষ্ঠানরত গণতান্ত্রিক সম্মেলনের অভূতপূর্ব সাফল্য : বার শতাধিক প্রতিনিধির সমাবেশে জাগ্রত জনমতের অভিব্যক্তি।’ নবগঠিত দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে মওলানা ভাসানী ও মাহমুদুল হক উসমানী। এ ছাড়া পূর্ব পাকিস্তান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে মওলানা ভাসানী ও মাহমুদ আলী এবং পশ্চিম পাকিস্তান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে খান আবদুল গাফ্ফার খান ও মাহমুদ আলী কাসুরী। পার্টির নীতি ও আদর্শ ছিল অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। চূড়ান্ত লক্ষ্য সমাজতন্ত্র।
১৯৫৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ন্যাপের উদ্যোগে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ফুলছড়িতে কৃষক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় এবং ঐ সম্মেলনে ‘কৃষক সমিতি’ গঠিত হয়। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করে মওলানা ভাসানীকে গ্রেপ্তার করেন। ভাসানীর আহ্বানে সর্বদলীয় প্রত্যক্ষ ভোটাধিকার সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ১৯৬৪ সালের ১৮ মার্চ সর্বজনীন ভোটাধিকার দিবস পালিত হয়। ১৯৬৫ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ন্যাপ সংযুক্ত বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে মিস ফাতেমা জিন্নাহর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন।
৬০ দশকে সারা পৃথিবীতে সাম্য প্রতিষ্ঠা ও গণমানুষের মুক্তির সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তার প্রভাব নিখিল পাকিস্তান ন্যাপের ওপরও পড়ে। ফলে ১৯৬৭ সালের দিকে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কারণে ন্যাপ নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতবিরোধ চলতে থাকে। ১৯৬৭ সালের কাউন্সিল অধিবেশনের পূর্বে মস্কোপন্থি নেতারা বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা চালায়। তাই মশিউর রহমান যাদু মিয়ার পরামর্শে রংপুরে কাউন্সিল অধিবেশন আহ্বান করা হয়। ১৯৬৭ সালের ৩০ নভেম্বর রংপুরে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনের পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রশ্নে ন্যাপ চীনপন্থি ও মস্কোপন্থি এ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। চীনপন্থি ন্যাপের সভাপতি হন মওলানা ভাসানী এবং মস্কোপন্থি ন্যাপের সভাপতি হন খান আবদুল ওয়ালী খান। পূর্ব পাকিস্তান ওয়ালী ন্যাপের সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। এ অংশ পরে মোজাফফর ন্যাপ নামেও পরিচিত হয়।
১৯৭২ সালে ন্যাপ সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণতান্ত্রিক সরকারের এক কর্মসূচি ঘোষণা করে। ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ভাসানীর নেতৃত্বে ৭ দলীয় মোর্চা গঠিত হয়। ভাসানী ন্যাপ ১৬৯টি আসনে প্রার্থী দেয়। ১৯৭৩ সালে ফরিদপুর-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ কামরুল ইসলাম মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাপে যোগদান করে প্রথম জাতীয় সংসদে ন্যাপের প্রতিনিধিত্ব করেন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও খাদ্যশস্যের দুষ্প্রাপ্যতার প্রতিবাদে মওলানা ভাসানী ১৯৭৩ সালের ১৫ থেকে ২২ মে ঢাকায় অনশন করেন। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত ঐক্যজোট খাদ্যের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে। সরকার ১৯৭৩ সালের ৩০ জুন মওলানা ভাসানীকে সন্তোষে তার বাড়িতে গৃহবন্দি করে।
১৯৭৩ সালে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাপ, জাতীয় লীগ (অলি আহাদ), জাতীয় লীগ (আতাউর রহমান), জাতীয় গণমুক্তি ইউনিয়ন (হাজী দানেশ), কৃষক শ্রমিক সমাজবাদী দল (খান সাইফুর রহমান), কমিউনিস্ট পার্টি (নাসিম আলী), লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সমন্বয়ে এক বিরোধী ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। ১৯৭৪ সালের ১৬ মে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীচুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ন্যাপ এই চুক্তির বিরোধিতা করে।
১৯৭৪ সালের ১৫ মে ভাসানী ন্যাপের এডহক কমিটি গঠন করা হয় এবং কেন্দ্রীয় ন্যাপ পুনরায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। ১৫ জুলাই জাতীয় রিকুইজিশন কাউন্সিল অধিবেশন ডাকা হয়। দলের তরুণ বামপন্থি অংশ কাজী জাফর আহমদ ও রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে ১৯৭৪ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনাইটেড পিপল্স পার্টি (ইউপিপি) গঠন করে। কাজী জাফর আহমদ ও রাশেদ খান মেনন ইউপিপি গঠন করলে মূল ন্যাপের দায়িত্ব মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ওপর ন্যস্ত হয়। ১৯৭৪ সালের কাউন্সিল অধিবেশনে মওলানা ভাসানী সভাপতি ও যাদু মিয়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন করলে ন্যাপ মোজাফফর ন্যাপ বিলুপ্ত করে বাকশালে যোগ দেন। আর মওলানা ভাসানী ও যাদু মিয়ার নেতৃত্বে ন্যাপ বাকশালের তীব্র বিরোধিতা করে।
১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান একটি রাজনৈতিক দল গঠন করার উদ্যোগ নিলে সারা বাংলাদেশে ন্যাপের সকল নেতাকর্মী নিয়ে মশিউর রহমান যাদু মিয়া ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। পরে যাদু মিয়ার বড় ছেলে সাবেক মন্ত্রী শফিকুল গানি স্বপনের নেতৃত্বে ন্যাপ পুনর্গঠিত হয়। ২০০৯ সালের ২৩ আগস্ট শফিকুল গানি স্বপনের মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে জেবেল রহমান গানি ন্যাপের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দলটি ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- বাংলাদেশ ন্যাপ’ নামে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। যার বর্তমান মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। নিবন্ধন নং-০২৭, নির্বাচনী প্রতীক : গাভী। জেবেল রহমান গানি ও গোলাম মোস্তফা ভুইয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিÑ বাংলাদেশ ন্যাপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচন বর্জন, ২০১৮ সালে নিজস্ব প্রতীকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ আবার ২০২৪ সালে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শাসকের প্রচণ্ড চাপ ও হুমকিকে উপেক্ষা করে নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে। ২০২৪-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থন প্রদান করে আন্দোলনে দলের সকল নেতৃত্ব অংশগ্রহণ করে।