× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিমানবাহিনী

প্রতিরক্ষার দুর্ভেদ্য দুর্গ হোক আমাদের আকাশ

কেএমজে আবেদীন

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৫ ১৬:০৬ পিএম

কেএমজে আবেদীন

কেএমজে আবেদীন

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত ৩১ জনের মৃত্যুর খবর জানলাম। এর মধ্যে ২৫ জনই শিশু। বাকি দুজনের মধ্যে একজন পাইলট, অপরজন শিক্ষিকা। সোমবারের এই দুর্ঘটনায় হঠাৎ আছড়ে পড়ে বিমান বাহিনীর এফ সেভেন বিজিআই নামে বিমানটি। দোতলা ভবনের নিচ তলায় আঘাত লেগে মুহূর্তেই বিমানের ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্বিতীয় তলায়ও। আতঙ্কে ছুটতে থাকেন শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও কর্মচারীরা। এ সময় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কেউ ক্যান্টিনে ছিল, কেউ ক্লাস শেষ করে নিচে দাঁড়িয়ে ছিল। তারা দেখল, হঠাৎ করে যেন সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। তাদের পাশাপাশি মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তায় করেন। দুর্ঘটনায় বিমানটির বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হয়েছেন। আমি নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

বর্তমানে সারা বিশ্বে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর মধ্যে বিমানবাহিনীর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে এবং এটা হতে বাধ্য। একসময় পদাতিক বাহিনীর পরে নৌবাহিনীর গুরুত্ব ছিল বেশি। এখন যেকোনো দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিমানবাহিনী এবং এই বাহিনীর আধুনিকায়ন এখন অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। আমাদের জন্য এটা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে যদি এ ব‍্যাপারে পদক্ষেপ না নেওয়া হয় এবং কোনো কারণে আমাদের শত্রুরা সামরিক অভিযান চালায় ওরা আমাদের ঘরের ভেতরে পঙ্গু করে মারতে পারে। এমনকি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের দেশ বেদখল হয়ে যেতে পারে। আমি সিরিয়াস কারণ এ যুগেও দেশ দখল হচ্ছে যেমন রাশিয়া ইউক্রেনের ২০ শতাংশ ভূমি দখল করে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করে রেখেছে। ফিলিস্তিনের পুরা দেশ দখলের কথা বাদ দিলেও গত এক বছরে গাজা রীতিমতো ইসরায়েলি দখলেই রয়েছে।

বিমানবাহিনীর গুরুত্ব কেন বাড়ছে সম্প্রতি পাক-ভারত যুদ্ধে এবং ইরান-ইসরায়েলি যুদ্ধে সেটা স্পষ্ট হয়েছে। ভারতের বড়সড় সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে পাকিস্তান এগিয়ে থাকার কারণে ভারতের অত্যাধুনিক রাফাল ফাইটার আক্রমণ করার আগেই ভূপাতিত করে পাকিস্তানের অ্যাডভান্সড ওয়ারফেয়ার সিস্টেম। একইভাবে ইরানের আধুনিক ফাইটার জেট না থাকলেও বিমানবাহিনীর মিসাইল সিস্টেম আধুনিক থাকার কারণে দেশটা ইসরায়েলের হাতে একেবারে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা পায় এবং ইসরায়েলের মনে ভীতির সঞ্চার করতে সক্ষম হয়। ইরান তাদের ভুল বুঝতে পেরে জরুরি ভিত্তিতে এখন তাদের বিমানবাহিনী আরও আধুনিকায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সেই পুরনো আমলের এফ-৭ নামের স্ক্রাব ফাইটার এগুলো এখন আমাদের জন্য লজ্জার। ১৯৯০ সাল থেকেই সারা দুনিয়ায় অকেজো এবং পরিত্যক্ত বিমান এখনও বাংলাদেশ এয়ারফোর্স সার্ভিসে রেখেছে এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু হতে পারে না। এটা আশা করাও ঠিক না। আমার জানা মতে, এর বাইরে ফাইটার বিমান বলতে মিগ-২৯ যার মধ্যে ৭টি পরিত্যক্ত এবং ৩টি কোনোমতে চলে। এগুলোও এখন ধোলাইখালে পাঠানোর পর্যায়ে চলে গেছে। আর কোনো যুদ্ধবিমান বা ফাইটার জেট আমাদের নেই! কেনার কোনো চিন্তাভাবনাও নেই! এর বাইরে কিছু পরিবহন এবং ট্রেনিং বিমান ও হেলিকপ্টার আছে। জানা যায়, বর্তমানে বিমানবাহিনীর লোকবলের সংখ্যা ১২ হাজারের মতো। তার মধ্যে অফিসার কয়েকশ বা হাজারখানেক বাকিরা এয়ারমেন বা সোলজার বলতে পারেন। কেন এত ছোট হবে? ভারতের কথা বাদ দিলাম। কারণ সে রিজিওনাল পাওয়ার হতে চায় বা তার অর্থনীতি অনেক বড় কিন্তু পাকিস্তান বা মিয়ানমারের সঙ্গে যদি তুলনা করি তাহলে আমাদের বাহিনীগুলো কোথায় আছে দেখতে পাবেন। অন‍্যান্য বাহিনীর কথা বাদ দিয়ে শুধু বিমানবাহিনী যদি তুলনা করি তাহলে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানের এয়ারফোর্সে ৭০ হাজার ম্যানপাওয়ার সমৃদ্ধ একটি বাহিনী এবং তাদের ২৫০০ বিভিন্ন রকম যুদ্ধবিমানের মধ্যে চীনের ৪.৫ জেনারেশন JF10C ফাইটার, চীনের সহায়তায় নিজস্ব ফাইটার JF17 থান্ডার এবং ৪ জেনারেশনের যুক্তরাষ্ট্রের F16 ফাইটার মিলে আছে ৩০০-এর বেশি। তা ছাড়া আরও কয়েকশ ফাইটার জেটসমৃদ্ধ তাদের এয়ারফোর্স। এর বাইরে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, সাইবার ওয়ারফেয়ার বা ইলেক্ট্রোমেগনেটিক ইকোসিস্টেমে পাকিস্তান চীনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিরাট অগ্রগতি অর্জন করেছে। পাকিস্তান যোজন যোজন এগিয়ে তা গত মে মাসে ৪ দিনের ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে প্রমাণ হয়ে গেছে। মিয়ানমারের সঙ্গে যদি তুলনা করি আমরা যে কত পিছিয়ে আছি তা অবিশ্বাস্য। যতদূর জানি, ২৫০০০ লোকবল সমৃদ্ধ মিয়ানমারের এই বাহিনীর কাছে কয়েকশ বিমান সমৃদ্ধ বিমানবাহিনীর কাছে ৪.৫ জেনারেশনের চীনের JF17C এবং রাশিয়ান সুকুই SU30 মিলে ফাইটার আছে ৫০টি। তার আরও কয়েক রকমের যুদ্ধবিমান আছে। ভারত ছাড়াও মিয়ানমার আমাদের জন্য ভয়ংকর হতে পারে। অথচ পাকিস্তান বা মিয়ানমার দুটোর অর্থনীতি আমাদের চেয়ে ছোট। পাকিস্তানের ডিফেন্স বাজেট ৭ বিলিয়ন ডলারের একটু বেশি। মিয়ানমারের ৩ বিলিয়ন ডলারেরও কম। আমাদের এত বড় সামরিক বাজেট প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার থাকা সত্ত্বেও বিমানবাহিনী এত অবহেলিত কেন? সরকার, বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী কে দায়ী? বাহিনীগুলোর মধ্যে সেনাবাহিনী সবসময় সবকিছুতে হস্তক্ষেপ করে বলে একটা সাধারণ ধারণা রয়েছে। এখন এ যুগে এসব ইগো চলে না। দেশকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এবং বিমানবাহিনী আগামী ১০ বছরের মধ্যে পাকিস্তানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। সেজন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন আমরা আশা করব ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার অপেক্ষা না করে এখনই দেশের স্বার্থে কাজ শুরু করবে।

আমাদের অতি অবশ্যই ৫ম জেনারেশন না হলেও ৪.৫ জেনারেশনের যুদ্ধবিমান এখনই দরকার। যেমন চীনের J10C Dragon Chengdu বা ইউরোপের Euro Fighter Typhoon বা চীন-পাকিস্তানের JF17 Thunder বা এর সমকক্ষ ফাইটার বা বন্বার কিনতে হবে। এই জাতীয় যুদ্ধবিমানের সঙ্গে পাকিস্তানের মতো Space, Cyber Warfare এবং Electro Magnetic spectrum Systems (EMSS) এ প্রচুর মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ করা যাবে না। কারণ EMSS এবং স্পেস ও সাইবার ওয়ারফেয়ার এখন এতই গুরুত্বপূর্ণ যে হাজার যুদ্ধবিমান থাকলেও আপনার এ নিয়ে অত‍্যাধুনিক ট্রেনিং না থাকলে আপনি অন্ধকারে ডুবে থাকবেন। শত্রুর কিছুই আপনি দেখতে পাবেন না। আপনাকে অন্ধকারে রেখে সবকিছু ধ্বংস করে চলে যাবে, টের পাবেন না। বিমানবাহিনীর অঙ্গীকার ‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু মুখে ফেনা তুললে হবে না। আমাদের বুদ্ধিভিত্তিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক সবকিছুর দিক থেকেই এগিয়ে থাকতে হবে বা থাকার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রতিরক্ষার দুর্ভেদ্য দুর্গ হোক আমাদের আকাশ।

  • নির্বাহী পরিচালক, স্কুল অব লিডারশিপ ইউএসএ
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা